ডেটিং ফোবিয়া: একালের মানসিক ‘রোগ’

যুগের সাথে তাল মেলাতে প্রতিনিয়ত মানুষ পাল্টাচ্ছে। পাল্টাচ্ছে তাঁর জীবন, মন ও মানসিক জগৎ। একই সাথে জীবনের সমস্যা, এমনকি মানসিক সমস্যা ও ভীতির জায়গাগুলোও আমূল বদলে যাচ্ছে। একটা সময় যে যোগাযোগভীতি বা কমিউনিকেশন অ্যাপ্রেহেনশনের কথা আমরা জেনেছি, একালে সেটাই ডেটিংফোবিয়া বা ডেটিংয়ে যাওয়ার ভীতি।

ব্যাপারটা একটু ভেঙে বলা যাক। ধরুন, কাউকে পছন্দ করেন। দুই-চারদিন কথা হয়েছে। মোটামুটি দু’জনে বুঝে ফেলেছেন যে – সম্পর্কটাকে আরেক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পালা। আর সে জন্য তো দেখা করতেই হবে। আর তখনই শুরু হয় মনে হয়, অজানা সংশয়। সে পছন্দ করবে না!

ব্যাপারটা কিছুই না, স্রেফ আত্মবিশ্বাসের অভাবে ভোগা। আর সাবেকি জমানার যোগাযোগ ভীতিটা হল জনপরিসরে ও ভার্চুয়াল জগতে কোনো এক বা একাধিক ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ স্থাপনে জড়তা বা ভীতি কাজ করা। সেদিক থেকে ডেটিংফোবিয়ার পার্থক্য হল এটা অবশ্যই হতে হবে কোনো জনপরিসরে, আর যার সাথে ব্যাপারটা হবে – তাঁর সাথে অবশ্যই একটু রোম্যান্টিক সম্পর্ক থাকতে হবে।

মানে যেখানে নিজেকে উপস্থাপনের একটা ব্যাপার, নিজেকে বিশ্বাসযোগ্য করার বিষয় থাকে। আর এই জাতীয় ভীতি থেকে বিচিত্র ও ভুতুড়ে কাণ্ডও করে বসেন অনেকে। আর গবেষণায় দেখা গেছে এই জাতীয় ভীতিতে বেশি ভুগে থাকেন পুরুষেরা।

গবেষণা ও জনমত জরিপে পাওয়া তথ্য বলছে, এমন পরিস্থিতিতে আসলে একজন মানুষের মনে ছয় রকমের ভয় কাজ করে। সেগুলোর ব্যাপারে একটু না বললেই নয়।

  • নিজেকে সঠিক ভাবে উপস্থাপন করতে পারবেন কি না তা নিয়ে সংশয়
  • অপ্রস্তুত অবস্থায় পড়ে কোনো বেফাঁস মন্তব্য করে ফেলার ভয়
  • প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ভয়, বলা হয় এই ভয়টাই নাকি সবচেয়ে বেশি কাজ করে
  • কাছাকাছি হতে চাওয়ার ভয় বা সংশয়
  • অপরজনকে নিজেকে অতি-বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার ভীতি কিংবা প্রতিশ্রুতি দিনে পিছিয়ে যাওয়া
  • মনের মত মানুষ আদৌ পাবেন কি না সেই নিয়ে দুশ্চিন্তা

মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, এই ছয় রকম সমস্যার সবগুলোই আত্মবিশ্বাসের অভাব থেকে আসছে। তো, এই সময়ে মানুষ আত্মবিশ্বাসের অভাবে ভুগছে কেন? কারণ, হল স্যোশাল মিডিয়ার এই দাপটের জগতে এখন মানুষ আর ঠিক সামাজিক জীব নয়। তাঁরা বেশি সময় দেয় স্যোশাল মিডিয়ায়। ফলে ভার্চুয়াল জগতে তাঁর যতটা সহজে নিজেকে প্রকাশ করতে পারে, বাস্তবে ব্যাপারগুলো তাঁদের জন্য ততটা সহজ হয় না। আর এর বড় প্রভাবটা পড়ে ডেটিংয়ে।

আজকের যুগে তো সবই অনলাইনে হয়ে যায়। কিন্তু, অনলাইনে কি আর ডেটিং সম্ভব! সেজন্যই তো এই বিরম্বনা। এই জটিল বিরম্বনা থেকে মুক্তির উপায় তাহলে কি? উপায় একটাই, বাস্তব জীবনে নিজেকে প্রকাশ করা যায় এমন যোগাযোগে নিজেকে অভ্যস্ত করে তোলা, আর কালক্রমে নিজের আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়া। প্রথমত নিজের অবস্থানটা পরিস্কার করতে হবে, দ্বিতীয় বুঝতে হবে অপরজন কি চাচ্ছে। এরপর ব্যাটে-বলে হলে তো ভাল, না হলে নাই। সময় তো শেষ হয়ে যাচ্ছে না!

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।