যেভাবে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ভড়কে দিয়েছেন সৌম্য

বিশ্বকাপে বাংলাদেশ কী করতে যাচ্ছে, সেটা তিন সপ্তাহ আগেই বোঝা হয়ে গিয়েছিল। সেটাও আবার একটা শটের মধ্য দিয়ে।

ডাবলিনে চলছিল ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল। ইনিংসের নবম ওভারে কেমার রোচকে মিড উইকেটের ওপর নিয়ে সোজা ব্যাটে তুলে মারলেন সৌম্য। সেই ৬৬ রানের ইনিংসটাতে আরো নয়টা চার আর দু’টি ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন সৌম্য।

কিন্তু, ওই একটা ছক্কাতেই বিশাল একটা বার্তা ছিল। বুঝিয়ে দেওয়ার একটা ব্যাপার ছিল। সৌম্য বোঝাতে চেয়েছিলেন, বিশ্বকাপে ঠিক এভাবেই ব্যাট করবেন। পাওয়ার প্লে তে তিনি করবেন ভয়ডরহীন ব্যাটিং। তিনি ব্যাটিংয়ের গতিটা সেট করে দিবেন একদম শুরুতেই। বাকিরা কেবল সেই গতিটা ধরে রাখবেন।

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে কেনিংটন ওভালে তিনি ইনিংসের শুরুতে যেটা করলেন, সেটা আচমকা কোনো পরিকল্পনা নয়। এমন একটা কিছুর ছক অনেকদিন ধরেই কষে আসছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে লুঙ্গি এনগিদির করা ইনিংসের পঞ্চম ওভারটিতে দু’টি চার হাঁকিয়ে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, আর যাই হোক এই বাংলাদেশের বিপক্ষে শর্ট বলে কোনো কাজ হবে না।

বার্তাটা কেবল প্রতিপক্ষের জন্য নয়, ছিল ড্রেসিংরুমেও। আর সেটা হল, ‘নির্ভার থাকো, স্নায়ুচাপে ভোগার সময় এটা হয়। হয়তো আমরা টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা বোলিং আক্রমণের মোকাবেলা করছি, কিন্তু এই উইকেটে তেমন কোনো দৈত্য-দানব’ লুকিয়ে নেই।’

সৌম্য ৩০ বলে ৪২ রান করেন। এবারের বিশ্বকাপে আক্রমণাত্মক ওপেনারদের জন্য একটা ‘আদর্শ’ স্কোর বলা যায় এটাকে। হ্যাঁ, দ্বাদশ ওভারে হয়তো তিনি বোকার মত আউট হয়েছেন, কিন্তু ততক্ষনে বাংলাদেশ ৬.৬৩ রান রেটে ৭৫ রান তুলে ফেলেছে।

সেই মজবুত ভিতে দাঁড়িয়েই তো মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান ১৪২ রানের জুটি গড়েছেন। শেষের দিকে মোসাদ্দেক হোসেন আর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ রান তোলার গতি বাড়িয়ে ৩৩০-এ নিয়ে গেছেন বাংলাদেশকে।

অথচ, বছর খানেক আগে বাংলাদেশের ওয়ানডে পরিকল্পনার অংশ ছিলেন না সৌম্য। এনামুল হক বিজয়কে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল, তিনি নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। লিটন দাস, নাজমুল হোসেন শান্ত, ইমরুল কায়েস, এমনকি মেহেদী হাসান মিরাজকেও এই পজিশনে খেলানো হয়েছে। কোনোটাই খুব যুৎসই হয়নি।

দেশের মাটিতে জিম্বাবুয়ে-ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ফর্মে ফেরেন সৌম্য। এরপর হ্যামিল্টনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অভিষেক টেস্ট সেঞ্চুরিটা করার পরই যেন সৌম্যর ভোল পাল্টে যায়। সৌম্য এখানে গিয়েই বুঝে ফেলেন যে ব্যাট করতে হবে দলের চাহিদা বুঝে। নিল ওয়াগনারের বাউন্সার মোকাবেলা করতে করতেই তিনি নিশ্চিত করে ফেলেছিলেন বিশ্বকাপের জায়গা।

এক ভারতীয় দর্শক কাল মন্তব্য করলেন যে, সৌম্যর অফ ড্রাইগুলো দেখে তাঁর সৌরভ গাঙ্গুলির কথা মনে পড়ে। বিশেষ করে পুলগুলো নাকি সাবেক ভারতীয় অধিনায়কের চেয়েও ভাল।

এটাই সম্ভবত এই ম্যাচের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তিগুলোর একটি!

– ইএসপিএন ক্রিকইনফো অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।