আমজনতা আর বুদ্ধিজীবীর পার্থক্য

মুহম্মদ জাফর ইকবাল বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী বুদ্ধিজীবী। সকলে চায় তিনি তাদের মনের কথাটাই বলুক।

তিনি যতক্ষণ পর্যন্ত তিনি আম পাবলিকের কথা মতো চলতে রাজি না হবে, ততক্ষন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে এই গালাগালি চলতে থাকবে।

এইটা হইতেছে আম পাবলিকের সাথে বুদ্ধিজীবীর পার্থক্য। এই পার্থক্য দিনে দিনে স্পষ্ট হইয়া উঠতেছে।

আজকে ফেসবুক জমানায় সকলেই নিজেরে বুদ্ধিজীবি ভাবতে শুরু করছে, সেলিব্রেটি আসছে এক একজন। তো, এই বুদ্ধিজীবীরা সকলে এক হইয়া জাফর ইকবালের বিরুদ্ধে নামছে। অথচ এরা জানেই না, সকল বুদ্ধিজীবী কখনই একই গোয়ালের গরু হইতে পারে না।

অথচ এরা সব এক হইয়া জাফর ইকবাল কেন তাদের গোয়ালে ঢুকতেছেন না সেই দুঃখে মইরা যাইতেছে।

এই বুদ্ধিজীবীদের বেশিরভাগই ইনবক্সে একটা হুমকি পাইলেই ফেসবুক থেকে পলায়া এসাইলামের জন্য দৌড়ঝাঁপ শুরু করে। ইওরোপ আমেরিকা ভাইগা যাইতে পারলে বাঁচে। অথচ জাফর ইকবাল আমেরিকার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার ত্যাগ কইরা সিলেটে গিয়া পইরা আছেন। নিজ কর্মস্থলে ঘাড়ের উপর কোপ খাওয়ার পরেও সে তার কর্মস্থল ত্যাগ করার চিন্তাও মাথায় আনেন নাই।

তিনি আজকে পর্যন্ত যা করছেন, সব নিজের বুদ্ধিতেই করছেন। বাংলাদেশের যে কোন প্রকাশকের কাছে গিয়া খবর নিতে গেলে দেখা যাবে, তার লেখা বইয়ের অর্ধেক পরিমান বিক্রিও অন্য কোন লেখকের নাই। তরুন সমাজে তার মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব বাংলাদেশের ইতিহাসে দুই একজনের বেশি পাওয়া যাবে না।

একজন লেখক হওয়া, একজন বুদ্ধিজীবী হওয়া দুইদিনের ফেসবুক পোস্ট লেখকদের কর্ম না। একসময় ব্লগাররা খুব ফাল পাড়ছেন, বুদ্ধিজীবীগিরি কইরা উদ্ধার করছেন। মাত্র পাঁচ বছর আগেই, এক একজন ব্লগারের বুদ্ধিজীবিতার দাপটে, জ্ঞানগর্ভ আলোচনা সমালোচনার ঠেলায় অনলাইন অস্থির কইরা রাখছিল। আজকের তাদের একজনকেও খুঁইজা পাওয়া যাবে না।

ফেসবুক পোস্ট লেইখাই যদি মুহম্মদ জাফর ইকবাল হওয়া যাইতো, তাইলে একজন বুদ্ধিজীবি কিংবা সাহিত্যিকের সারাটা জীবন এত এত শ্রম, ত্যাগ আর অধ্যবসায়ের কোন দরকার হইতো না।

এত সস্তা না।

 

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।