সিনেমা যেভাবে হিট কিংবা ফ্লপ হয়

একটা সিনেমা নির্মাণের বিভিন্ন উদ্দেশ্য থাকে। শখ, সমাজকে কিছু টিপস দেওয়া, আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন ইত্যাদি। কিন্তু সব কিছুর পরে অন্যতম মুখ্য উদ্দেশ্য এর থেকে অর্থ উপার্জন। অন্যান্য দেশের মতো বলিউডেও এখন বিরাট অঙ্কের অর্থ উপার্জিত হয় সিনেমা থেকে।

তবে সব সিনেমাই ব্যবসায়ীক সফলতা পায়না। কিছু সিনেমা আশাতীত সাফল্য অর্জন করে আবার কিছু মাথা তুলেই দাঁড়াতে পারে না।

কিন্তু একটা সিনেমা বক্স অফিসে ব্যর্থ কিংবা সফল হয় কিভাবে? একসময় কিছু ভালো সিনেমার বক্স অফিস ব্যর্থতা দেখে সরাসরি ভারতীয় অডিয়েন্সের দোষ দিতাম। কিন্তু পরবর্তীতে বুঝলাম নির্দিষ্টভাবে কাউকে পূর্ণাঙ্গ দায়ী করা যায়না।

একটা মুভি সফলতার জন্য ভালো কন্টেন্টের প্রয়োজন। ভালো কন্টেন্ট সম্পন্ন অনেক মুভিই বক্স অফিসে ভালো আয় করেছে। আমির খানের কথায় ধরি, থ্রি ইডিয়টস, পিকে, দাঙ্গাল এগুলোর কন্টেন্ট ভালো ছিলো আবার বক্স অফিসে অনেক সাড়া জাগিয়েছে। অক্ষয় কুমার সমসাময়িক যেসব সিনেমা করেছেন এতে কনটেন্ট যেমন ভালো তেমন বক্স অফিসেও সাফল্য পেয়েছেন।

ভালো কনটেন্টের মুভি ব্যর্থ হচ্ছে এমন রেকর্ডও অনেক। শাহরুখ খানের ক্যারিয়ারের অন্যতম বাজে মুভি হ্যাপি নিউ ইয়ার কতো আয় করলো অথচ ফ্যান ফ্লপ। ফ্যান তাঁর দিলওয়ালে বা হ্যাপি নিউ ইয়ার-এর তুলনায় অনেক মানসম্মত ছিলো, ব্যতিক্রমধর্মী কিছু করেছেন কিন্তু স্টারকাস্ট, কনটেন্ট কিছুই বক্স অফিসে সাফল্য এনে দেয়নি। হৃতিক রোশনের ফ্লপ সিনেমাগুলোরও একই অবস্থা।

শাহিদ কাপুরের ক্যারিয়ারটাই দেখুন। সর্বশেষ পাদ্মাবাৎ ছাড়া বিগত কয়েক বছরের সব সিনেমায় ব্যর্থ। আবার রানভীরের কারণে শাহীদের ব্যাপারটা এখানে আড়াল পড়ে গেছে। শাহিদের মুভি গুলো ব্যর্থ হওয়ার কারণ কি? সে সমসাময়িক অভিনেতাদের প্রথম সারির অভিনেতা, বলিউডের অন্যতম আবেদনময় ও হ্যান্ডসাম অভিনেতা, নৃত্যেও যথেষ্ট প্রতিভাবান তারপরেও সিনেমায় বাণিজ্যে ব্যর্থ।

ব্যতিক্রমধর্মী কিছু করে রণবীর কাপুর সাফল্যও পেয়েছেন (বারফি) আবার ব্যর্থও হয়েছেন (জাজ্ঞা জাসুস)। জাজ্ঞা যাসুস এতটা ব্যর্থ হওয়ার মত সিনেমা ছিলো না। বরং, অনেকের বিবেচনায় সেটা রণবীরের ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা কাজগুলোর একটি ছিল।

রাজকুমার রাও’র মুভির কনটেন্ট ভালো হচ্ছে, ব্যবসাসফল হচ্ছে কিন্তু ব্যবসাসফল হচ্ছে তার বাজেটের প্রেক্ষিতে। বড়সড় সফলতা পাচ্ছে না বছরের সবচেয়ে সুন্দর মুভিগুলো।

আমরা অনেকে বক্স অফিস সাফল্যের পিছনে স্টারকাস্টে বিশ্বাসী। অনেকটা সেরকমই হচ্ছে। ধুম ৩ তেমন মানসম্মত না হলেও স্টারকাস্ট+ফ্র্যাঞ্চাইজির কারণে অনেক আয় করেছে। শাহরুখ খানের হ্যাপি নিউ ইয়ার, দিলওয়ালেও এর উদাহরণ। সালমান খানের অনেকদিন খারাপ সময় যাওয়ার পর এই দশকে নিজের সেরা সময়টা খুঁজে পেয়েছেন। যে সিনেমায় করছেন সাফল্যের শেষ নেয়।

সাফল্যের ধারাবাহিতা ভালোই বজায় রেখেছিলেন। প্রেম রতন ধন পায়োর মতো মুভি এতো টাকা আয় করে শুধু সালমান খানের সুবাদে। কিন্তু গত বছর টিউবলাইট ব্যর্থ হয়। যদিও একশ কোটি আয় করে নিয়েছিলো। তারপরেও বক্স মুখ থুবড়ে পড়েছিলো ঈদে মুক্তি পাওয়ার পরেও। কিন্ত সিনেমা মুক্তির আগে ভালোই ক্রেজ ছিলো। ইউটিউবে কিছু রেকর্ডও গড়েছিলো। আবার শাহরুখ খানের ক্যামিও(যদিও মেসির কিছু কাজিন আছে যারা বিশ্বাস করে টিউবলাইট ব্যর্থতার কারণ শাহরুখ খান) কিছুই বাঁচাতে পারেনি টিউবলাইটকে। বড় বড় স্টারদের সিনেমা ব্যর্থ হওয়া এখন নতুন কিছু না।

বলিউডে একশন, কমেডি টাইপের মাশালা মুভি গড়ে সবচেয়ে বেশি ব্যবসাসফল। ডমেস্টিক আয়ের প্রথম ৫টার ৪টাই মাশালা না হলেও এই জনরার মুভির যথেষ্ট ক্রেজ আছে। সালমান খানের ব্যবসাসফল প্রায় সব সিনেমায় মাসালা। ভারুন ধাওয়ানের এখন পর্যন্ত একটাও ফ্লপ নেয় এবং তারও ক্যারিয়ারে মাসালা মুভির সংখ্যা বেশি। তাহলে বলবেন এই জনরার মুভি মানেই সফলতা? কিন্তু এই জনরার অনেক মুভিই মুখ থুবড়ে পড়ে বক্স অফিসে অথচ আমরা সেসবে খেয়াল রাখিনা শিরোনামে আসে না বলে।

ভালো কনটেন্টে সিনেমা ব্যর্থ, স্টারকাস্টে ব্যর্থ, ব্যতিক্রমধর্মী/নতুনত্বেও ব্যর্থ। তো আমরা বক্স অফিস ব্যর্থতায় দায়ি করবো কাকে?

আসলে একেক সিনেমার ব্যর্থতার কারণ একেকটা। কোনোটা প্রমোট না করায়, কম বাজেট, বাজে ডিরেক্টর একেক সময় একেকটা জিনিশ দায়ি থাকে। যাইহোক, অনেকে বক্স অফিস নির্ভর হয়ে সিনেমা দেখি।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।