কবীর: কতটা ভাল, কতটা মন্দ?

‘কবীর’ ছবির ট্রেলার দেখেই পরিষ্কার বোঝা যায় যে এই ছবির মূল গল্প জিহাদিদের নিয়ে। তাই দর্শক হিসেবে একটা প্রত্যাশা নিয়ে গেছিলাম যে একটা সুন্দর গতিতে অনেক টুইস্টসহ একটা সাজানো থ্রিলার ছবি দেখতে পাব ।

কিন্তু সেটা না, পুরোপুরি তা কিন্তু হল না। মানে দিনের শুরুতে প্রথম এক কাপ চা গরম থাকলেও তাতে দুধ-চিনির পরিমাণের একটু অভাব ছিল।

এই ছবির গল্পে ভালো টুইস্ট থাকলেও সুন্দর করে সাজানো ছিল না । মনে হচ্ছিল যেন ছবিটিকে টানছে । বুঝতেই পারছিলাম যে দর্শকদের কৌতূহল বাড়ানোর জন্যই সেটা করা হচ্ছে কিন্তু সত্যি বলতে এক এক সময় একটু বোরিং লাগছিল।

থ্রিলার ছবিতে ‘কে?’ বা ‘কেন/?’ এই প্রশ্নগুলি মনে নাড়া যখন দেয় তখন ভালো লাগে সেটা যেমন ঠিক তেমনিই সেটা অহেতূক টানাতে অনেক সময় দর্শকদের কিন্তু বিরক্ত লাগতে পারে সেটাও কিন্তু বোঝা উচিৎ।

পারভেজের ভূমিকায় শাতাফ ফিগারের অভিনয় ও আশরাফের ভূমিকায় কৃষ্ণেন্দু দিওয়ানজির অভিনয় খুব ভালো লাগে। বিশেষ করে আশরাফের গুলি লাগায় আঘাত পাওয়ার অভিনয়টা। এই ছবি রুক্মিনী মৈত্র’র অভিনয়ের জন্যই চর্চায় বেশী থাকবে। দর্শক হিসেবে বলবো দেব-এর চেয়েও ভালো অভিনয় করেছেন । প্রিয়াঙ্কা সরকারেরর ভক্তরা নি:সন্দেহে খুব নিরাশ হবেন। কারণ, এই ছবিতে তাঁর অভিনয়ের তেমন জায়গাই নেই না জায়গা আছে তাঁর কন্ঠের ।

এই ছবির টুইস্ট যেমন ভালো তেমনই ভালো ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক ও সিনেম্যাটোগ্রাফি । সঙ্গীত আয়োজনে ছিলেন ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত। ইমতিয়াজের স্বপ্নের দৃশ্যটা দারুণভাবে দেখানো হয়েছে ।

সব শেষে এটাই বলব যে দুই ঘন্টা এসির হাওয়া খেতে খেতে এক নিমেষে খুব সহজেই কিন্তু বলে ফেলা যায় এক কথায় যে ছবিটি ‘ভালো’ না ‘খারাপ’ । কিন্তু এই ছবিটির পেছনে কঠিন পরিশ্রম করা হয়েছে তা ভালো করে এই ছবি দেখলেই বোঝা যায় । তাই খুব সহজে আমি বললাম না ‘ভালো’ না ‘খারাপ’ ।

আমি শুধু এটাই বলব যে এই ছবিটি একবার অন্তত দেখে এসে বিচার করা ভাল । ছবির শেষ পনেরো মিনিট মন জয় করবেই । যদিও, বক্স-অফিস থেকে এখনো আশানুরূপ সাফল্য আসেনি।

সিনেমা : কবীর

পরিচালক : অনিকেত চট্টোপাধ্যায়

অভিনয়: দেব, রুক্মিনী মৈত্র, প্রিয়াঙ্কা সরকার, শাতাফ ফিগার, কৃষ্ণেন্দু দিওয়ানজি, কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায় প্রমুখ।

সঙ্গীত: ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত

মুক্তি: ১৩ এপ্রিল, ২০১৮

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।