যেভাবে তরুণ ক্রিকেট প্রতিভার বিকাশ হয় বাংলাদেশে

‘আমার ভাই পল্টু না থাকলে আমি এতো দূর আসতে পারতাম না।’ – ওয়ানডে অভিষেকেই দারুণ বোলিংয়ে বাংলাদেশকে ভারতের বিপক্ষে দুর্দান্ত জয় এনে দেওয়ার পরে সংবাদ সম্মেলনে কথাটি বলেছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান।

তার জেলাশহর সাতক্ষীরায় কোনো ট্রায়াল হোক, ট্রেইনিং ক্যাম্প কিংবা হোক কোনো ম্যাচ, পল্টু তার ছোটভাইকে বাইকের পেছনে বসিয়ে নিজগ্রাম তেতুলিয়া থেকে জেলাশহরে দিয়ে আসার কাজটা করতেন। দুই বছর এভাবে কাজ চালানোর পরে ২০১৩ সালে এসে ঢাকায় বয়স ভিত্তিক পেস বোলিং ক্লিনিকে কাজ করার সুযোগ পান।

গত চার-পাঁচ বছরে বাংলাদেশের ১৩ জন টেস্ট অভিষিক্তদের মধ্যে তাসকিন আহমেদই একমাত্র ঢাকার বাসিন্দা। বাকিরা সবাই উঠে এসেছেন সাতক্ষীরা, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ, রংপুর, দিনাজপুর, জামালপুরের মতো ছোট শহর কিংবা রাজশাহী, খুলনা, বরিশালের মতো বিভাগীয় শহর থেকে। তবে পূর্বের যেকোনো সময় থেকে বেশি ক্রিকেটার এখন উঠে আসছেন দেশের আনাচে-কানাচে থেকে।

বাংলাদেশের বিশাল জনসংখ্যা দেশের অর্থনীতি এবং সামাজিক দিক থেকে সবসময়ই একটা বাঁধা হিসেবে কাজ করেছে। ভৌগোলিকভাবে দেশের আয়তন ভারতের উড়িষ্যা প্রদেশের সমান, কিন্তু এর জনসংখ্যার ঘনত্ব ভারতের দ্বিগুণ। কিন্তু ক্রিকেটের বেলায় এ সমস্যাটা আশীর্বাদ হয়ে দেখা দিয়েছে। এ বিশাল জনসংখ্যার ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা, এবং বিগত দশকে বাংলাদেশের সাফল্য দেশের আনাচেকানাচে থেকে ক্রিকেটারদের স্টেডিয়ামমুখী করার কাজটা করেছে। ফলশ্রুতিতে ছোট শহর আর গ্রামাঞ্চল থেকে এখন উঠে আসছেন মুস্তাফিজ, মেহেদি, মোসাদ্দেকদের মতো প্রতিভারা।

দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে মুস্তাফিজের উঠে আসাটাকে একটা রূপকথার মত মনে হতে পারে কিন্তু আদতে এটা বিসিবির ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম, এবং ক্ষুরধার প্রতিভা সন্ধানী নেটওয়ার্কেরই ফসল।

__________

বোর্ডের গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটি সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাহমুদ সুজনের নেতৃত্বে পরিচালিত হয়। এবং পৃথক হাই পারফরমেন্স ইউনিট পরিচালিত হয় বোর্ডের আরেক পরিচালক ও সাবেক অধিনায়ক নাইমুর রহমান দুর্জয়ের অধীনে।

শেষ দশ বছরে ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম দেশের প্রতিটি শহরে ছড়িয়ে গেছে। এ পর্যায়ে এসে প্রকল্পটির লক্ষ্য হচ্ছে আগ্রহী তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ তৈরি করা। মেডিকেল টেস্টের মাধ্যমে বয়স সনাক্তকরণের পরে আন্তঃজেলা টুর্নামেন্টে খেলার জন্যদল গঠন করা হয়, যে টুর্নামেন্টটি সাধারণত ম্যাট উইকেটে খেলা হয়। তারপর খেলোয়াড়রা বয়সভিত্তিক আন্তঃবিভাগ টুর্নামেন্টে হয়। এ টুর্নামেন্টটি সাধারণ উইকেটেই খেলা হয়। অনূর্ধ্ব-১৪ এবং অনূর্ধ্ব-১৬ এর জন্য দু’দিনের, আর অনূর্ধ্ব-১৮ এর জন্য তিন দিনের ম্যাচ আয়োজন করা হয়।

সংক্ষেপে বিসিবির ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম:

  • প্রতিভা খুঁজে বের করার জন্য ষাট জন জেলা ভিত্তিক কোচ নিয়োজিত আছেন।
  • ট্রায়াল এবং টুর্নামেন্টগুলো বিভাগপর্যায়ের জন্য খেলোয়াড় নির্বাচনে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। নির্বাচিত খেলোয়াড়রা জাতীয় ক্যাম্পে উন্নীত হন।
  • গড়ে প্রায় ৪৮০০ খেলোয়াড় প্রতি বছর প্রতিটি জেলার অনুর্ধ্ব ১৪, ১৬ এবং ১৮ দলে নিবন্ধিত হন প্রতি বছর।
  • আন্তঃজেলা টুর্নামেন্ট থেকে উঠে আসা খেলোয়াড়রা এরপর আন্তঃবিভাগ বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্টে উন্নীত হন।
  • তিন দলের চ্যালেঞ্জার সিরিজের মাধ্যমে দেশের সেরা বয়সভিত্তিক খেলোয়াড়দেরকে চিহ্নিত করা হয়।
  • বয়সভিত্তিক জাতীয় দল গঠন এবং প্রতি দুই বছর পরপর অনুর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ।
  • ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গলের সাথে এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম।

__________

২০১৭ সালে শ্রীলঙ্কা সফরে কলম্বো টেস্টে প্রথম ইনিংসে যখন অভিষিক্ত মোসাদ্দেক ৮ নম্বরে ব্যাট করতে আসেন তখন বাংলাদেশের আরো ৪৮ রান পেছনে ছিলো। আগের ম্যাচেই ৯ উইকেট পাওয়া রঙ্গনা হেরাথকে নিজের পায়ের দুর্দান্ত ব্যবহারে কভার আর লং অফের উপর দিয়ে সীমানাছাড়া করে চমকে দেন তিনি।

দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের রান তাড়া করার শেষদিকে যখন আবারো মোসাদ্দেক হেরাথকে স্টেপআউট করে কভারের উপরদিয়ে বাউন্ডারির বাইরে আছড়ে ফেলেন তখন আর সবাই অবাক হলেও একজন ঠিকই মুচকি হাসছিলেন। তিনি আর কেউ নন, বিসিবির হাই পারফরমেন্স ম্যানেজার নাজমুল আবেদীন ফাহিম। তিনি বিশ্বাস করেন যে মোসাদ্দেক ময়মনসিংহের বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্টগুলো দিয়ে শুরু করে ঘরোয়া ক্রিকেট হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আসার পথে যে অভিজ্ঞতা আর যোগ্যতা অর্জন করেছেন সেগুলোই তাকে ম্যাচের পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নিতে সাহায্য করেছে।

শেষ দুই দশকে বাংলাদেশের অন্যতম প্রভাবশালী এ কোচ বলেন যে, ইদানিং বাংলাদেশের কোচেরা ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার খুঁজে বের করতে বেশি আগ্রহী।

ফাহিমের ভাষ্যমতে, ‘মোসাদ্দেক পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নিতে পারে খুব দ্রুতই। খুব বেশি খেলোয়াড়দের আপনি এটা করতে দেখবেন না। মোসাদ্দেকের মত খেলোয়াড়, যে কিনা দায়িত্ব নিজ ঘাড়ে নিয়ে নিতে পারে এমন খেলোয়াড় খুব সহসাই উঠে আসেনা। আমরা দলে ভালো প্রভাব ফেলার মতো খেলোয়াড় খুঁজি, শুধু কাঁড়ি কাঁড়ি রান কিংবা উইকেট পাওয়াদেরই দলে আনিনা।’

মোসাদ্দেক বয়সভিত্তিক ক্রিকেট ব্যবস্থার ফসল। ২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক অভিষেকের আগেই আবাহনীর হয়ে তিন তিনটি দাবল সেঞ্চুরি তারই প্রমাণ বহন করে।

ফাহিম মেহেদি হাসান মিরাজের ব্যাপারেও একই রকম দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেন। ফাহিম বলেন, ‘স্থানীয় কোচেরা এখন বুঝে গেছেন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কেমন ধরনের ক্রিকেটার প্রয়োজন। নাজমুল হোসাইন এবং মোসাদ্দেক মিরাজের ঘরানার খেলোয়াড়। সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলে যাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত মানসিকতা আর নিবেদনটা তাদের মাঝে আছে।’

খেলোয়াড়দের এই গ্রুপটার মধ্যে সবচেয়ে দেরীতে ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের রাডারে আসেন মুস্তাফিজ। সাতক্ষীরা জেলার প্রধান কোচ মুফাসসিনুল ইসলাম তপু ২০১১-১২ এর দিকে মুস্তাফিজকে খেলতে দেখেন। তিনি বলেন, ‘সে আমাদের অনুর্ধ্ব ১৪ ক্যাম্পে আসে স্থানীয় একটা টুর্নামেন্ট শেষে। তাকে দেখেই আমরা বুঝে ফেলি বিশেষ কিছু আমাদের স্টকে চলে এসেছে।’

‘আমাদের প্রধান লক্ষ্য থাকে পরের লেভেলে পুশ করার মতো খেলোয়াড় খুঁজে বের করা। চূড়ান্ত লক্ষ্য সবসময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারে এমন খেলোয়াড় খুঁজে বের করাই থাকে। প্রতিদিন সেটা সম্ভব হয়ে উঠে না। কিন্তু আমি চেষ্টা করি প্রত্যেকে যেন নিজের ক্ষমতা বুঝানোর জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ পায়।’ তিনি আরো যোগ করেন।

সাতক্ষীরায় স্কাউটদের চোখে পড়ার পর মুস্তাফিজকে মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পেস বোলিং ক্লিনিকে নিয়ে আসা হয়, যেখানে তিনি তার বিখ্যাত স্লোয়ার আর কাটার বল রপ্ত করেন। ২০১৪ এ অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলার পরে তাকে বাংলাদেশ এ দলের হয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খেলতে পাঠানো হয়। এর এক বছরের মাথায়ই তাকে জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করতে দেখা যায়।

ফাহিম জানান, দেশের এক প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে মুস্তাফিজের উঠে আসাই প্রমাণ করে বিসিবির এ ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম সারাদেশে কতো ভালোভাবে তার জাল বিস্তার করেছে। তিনি বলেন, ‘এখন আমরা বিশ্বাস করি যে, দেশের যে কোন প্রান্ত থেকে প্রতিভা তুলে আনতে পারি। এটি ধীরে ধীরে ব্যাপ্তি গোটা বাংলাদেশে ছড়িয়ে দিয়েছে। যা ছোট শহরের খেলোয়াড়দের জন্য সুযোগ বাড়িয়ে দেয়। আগে প্রত্যন্ত অঞ্চলের একটা ছেলে খেলোয়াড় হতে গেলে অনেক বাঁধা বিপত্তির সম্মুখীন হতে হতো। এখন তাদের কাছে সৌম্য সরকার, ইমরুল কায়েস, মেহেদি হাসান দের মতো লোকাল হিরোরা আছে। যা তাদের কাছে পেশাদার খেলোয়াড় হয়ে উঠার পথটাকে পরিচিত করে তুলছে প্রতিনিয়ত।’

একটা খেলোয়াড়ের সাফল্য তৃনমূল পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় তার নিজ এলাকার জন্য সুযোগ বৃদ্ধি করে। তপুর বলেন, ‘আমি বলবো, মুস্তাফিজের উত্থানের পরে সাতক্ষীরায় ক্রিকেটে আগ্রহী তরুণদের সংখ্যা কমপক্ষে ৫০% বেড়ে গেছে। যে পার্থক্যটা ট্রেইনিং সেন্টারগুলোয় পরিলক্ষিত হচ্ছে।’

__________

চার দশক ধরে বাংলাদেশ ক্রিকেটের পাইপলাইনে ক্রিকেটার দেওয়ার কাজটা করছিলো ঢাকার ক্লাবগুলো। এ ক্লাবগুলো খেলোয়াড় খুঁজে বের করতো এবং তাদের অর্থনৈতিক সাহায্য প্রদান করতো। ক্লাবগুলোর প্রতিভা অন্বেষণ ক্যাম্পেইন দেশের একটা বিশাল অংশজুড়ে চলতো বটে কিন্তু তা প্রকৃতপক্ষে ঠিক সময়ে ঠিক টুর্নামেন্টে জ্বলে উঠার মতো ব্যাপার ছিলো।

বিসিবির এ ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম শুরু হয় টেস্ট স্ট্যাটাস পাবার পরে, ২০০০ সালে। কিন্তু এর ভিত্তি স্থাপন করা হয়েছিলো বহু আগে, সেই আশির দশকে।

কামাল জিয়াউল ইসলাম, যিনি ১৯৮৩ থেকে ১৯৮৭ পর্যন্ত বোর্ড প্রেসিডেন্ট ছিলেন, তিনি একটি স্কুল টুর্নামেন্ট শুরু করার পেছনের কারিগর ছিলেন, যা অনেক বছর ক্লাবগুলোকে এবং জাতীয় দলকে খেলোয়াড় সরবরাহ করেছে।

জিয়াউলের কোম্পানি নির্মাণ কন্সট্রাকশন্স ১৪ টি সিজন ধরে এ টুর্নামেন্ট চালিয়ে যায়, যার শুরুটা ঘটে ১৯৮২-৮৩ এর দিকে। তখনকার দিনের প্রত্যেকটা স্কুল পড়ুয়া জানতো ক্রিকেটার হবার প্রথম সিঁড়িটা হচ্ছে নির্মানে খেলা। শুরুর বছরে মাত্র ২২ টা স্কুল এতে অংশ নিলেও এ সংখ্যাটা ১৯৯৫-৯৬ এ ৪১০ তে উন্নীত হয়। নির্মান কনস্ট্রাকশনস এর স্পনসরশিপ ছেড়ে দেয়ার পরের দুই মৌসুম বিসিবির অর্থায়নে এ টুর্নামেন্ট চলে, পরে কিছু প্রাইভেট ব্যাংক এর স্পন্সর হতে আগ্রহী হয়। ফি বছর অংশগ্রহণ বাড়তেই থাকে, গত দশকে যা একবার ১০০০ ও ছুঁয়ে যায়। প্রাইম ব্যাংক লিমিটেড শেষ দুই বছর ধরে স্পন্সর আছে এ টুর্নামেন্টের, অংশগ্রহণে কিছুটা ভাটার টান লক্ষ্য করা যাচ্ছে, ২০১৭ সালে মাত্র ৫০৮ টা স্কুল এতে অংশ নিয়েছে।

বিসিবি নিজস্ব ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম হাতে নেবার পরে এ টুর্নামেন্ট অনেকটাই অংশগ্রহণসর্বস্ব টুর্নামেন্ট হয়ে পড়েছে। কিন্তু ১৯৮২ থেকে ১৯৯৬ পর্যন্ত এটা হাবিবুল বাসার, খালেদ মাহমুদ, জাভেদ ওমরের মত খেলোয়াড় তৈরি করে এসেছে। নির্মাণ একাদশ নামে একটা দল ঢাকা লিগে খেলতো সে সময়ে। এর জন্য বিদেশি কোচ ছিলো এমনকি এক ইংলিশ (অ্যালান ফোর্ডহাম) ক্রিকেটারও খেলে গেছেন এই দলে।

এখনকার যুগের খেলোয়াড়দের মধ্যে মোহাম্মদ শরিফ, সৌম্য, নাজমুলও জাতীয় দলের পথে যাত্রা শুরু করেছিলেন এ টুর্নামেন্টে খেলার মাধ্যমে।

__________

২০১৭ সালের ডিসেম্বরে এক বিপিএল ম্যাচে আফিফ হোসেন ধ্রুব নামক ১৭ বছর বয়সী এক অভিষিক্ত অফস্পিনার চিটাগং ভাইকিংসের বিপক্ষে ক্রিস গেইলের উইকেট সহ মাত্র ২১ রানে ৫ উইকেট শিকার করে। সাংবাদিকরা এই অপরিচিত খেলোয়াড়ের পরিচয় খুঁজে বের করতে গিয়ে আবিষ্কার করেন যে, আফিফ ছিল একজন ওপেনিং ব্যাটসম্যান যে কিনা মাঝে মধ্যে অফ স্পিনও করতে পারে।

বাংলদেশের কোচরা বলেন আফিফের মতো এমন আরও বহু প্রতিভা বাংলাদেশের অলিগলিতে ঘুরে ফিরে। ২০১৬ অনুর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের উইকেটরক্ষক মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলা জাকির হাসান নাকি উইকেটরক্ষকের চেয়ে সাধারণ ফিল্ডার হিসেবে বেশি ভালো, আবার তিনি নাকি ইনিংসের গোড়াপত্তন করতে নেমে পেস বল মোকাবেলায়ও সমান পারদর্শী।

এদের মতো ফ্লেক্সিবল খেলোয়াড় তুলে আনাও ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের কৃতিত্ব বৈকি!

প্রতিপক্ষের কাছ থেকে সমীহ আদায় করে নিতে বাংলাদেশ সময় নিয়েছে প্রায় ১৫ বছরের মতো। খেলাটার প্রতি দেশের মানুষের ভালোবাসা, নিবেদন, পাইপলাইনে অপেক্ষা করতে থাকা তরুণ প্রতিভাবান ক্রিকেটারের ঝাঁক উজ্জ্বল ভবিষ্যতেরই ইঙ্গিত দেয়। হয়তোবা বাংলাদেশ রাতারাতি ভোজবাজির মতো বদলে যাওয়া কোন দল নয়, কিন্তু ধীরে ধীরে তাড়া লম্বা রেসের ঘোরায় পরিণত হয়ে উঠছে।

__________

মূল লেখাটি How Bangladesh is finding and developing its talent শিরোনামে ইএসপিএন ক্রিকইনফোতে লিখেছেন ক্রিকেট বিষয়ক গণমাধ্যমটির বাংলাদেশ প্রতিনিধি মোহাম্মদ ইশাম।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।