হোপ ইজ আ ওয়ান্ডারফুল থিঙ

২৭ বছর বয়সে প্রথম নির্বাচনে দাঁড়িয়েছিলেন। সাল ১৯৮১। প্রথম নির্বাচনেই হেরে গিয়েছিলেন।

আশেপাশে ‘সহমত ভাই’ আনাগোনা। গতবার যারা বলেছিল ‘জিত্তা যাইবেন’, তাঁরা আবারও বলল ‘টেনশন নাই, এইবার নিশ্চিত জিত্তা যাইবেন’। তিনি আবার আবার নির্বাচনে দাঁড়ালেন। এবারও হারলেন।

ততদিনে বাড়ি থেকে বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছে। শীতল সরকারের বিয়েতে মন নেই, তাঁর ধ্যান জ্ঞান নির্বাচন। তিনি তো জামাই হতে চান না। কমিশনার হতে চান।

১৯৯৮ সালে লক্ষী সরকাররের সাথে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন শীতল সরকার। তাঁর বছর খানেক বাদে ময়মনসিংহ পৌরসভার চেয়ারম্যান ও কমিশনার পদে নির্বাচনের তোড়জোড় শুরু হলে শীতল সরকার কাউকে কিছু না জানিয়ে নির্বাচনে দাড়িয়ে যায়।

ঐদিকে লক্ষী সরকার অন্তঃসত্ত্বা। ঘরে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রেখে শীতল সরকার সারাদিন এলাকা দৌড়ে বেড়ায়। নির্বাচন, ভোট, জয়ের আশা।

বরাবরের মতো শীতল সরকার ওই নির্বাচনেও হেরে যায়। হারান সহায় সম্পত্তি টাকা-পয়সা সব।

অভিমানী স্ত্রী গর্ভের সন্তানকে নিয়ে চলে যান বাপের বাড়ি। যাওয়ার আগে বলে যান, ‘কোন দিন যদি তুমি নির্বাচন করে পাশ করতে পারো আমাকে আনতে যেও।’

নির্বাচন পাগল শীতল সরকারের কাছে নির্বাচনটা তখন কেবল আর কাউন্সিলর নির্বাচন নয়, এই নির্বাচন তো স্ত্রী সন্তানকে ফিরিয়ে আনার লড়াইও বটে! তিনি আশায় থাকেন একদিন তিনি নির্বাচনে জিতে ওদের ফিরিয়ে নিয়ে আসবেন।

নির্বাচন এলেই শীতল সরকার লড়াই করতে নামেন। এভাবে একে একে ছয়টি নির্বাচন তিনি লড়াই করেন, সবগুলোতেই পরাজিত হন। মানুষ তাঁকে দেখলে উৎসাহ দেয় কিন্তু ভোটের দিন ভোট দেয় না।

ভোট যেখানে টাকার খেলা সেখানে শীতল সরকারের টাকা পয়সা কিচ্ছু নেই। সহায় সম্পদ আগেই সব শেষ।

তবুও মনে আশা, মানুষ তাঁকে ভোট দিবে।

দীর্ঘ ৩৮ বছর পর পাঁচ মে ময়মনসিংহ কাউন্সিলর নির্বাচনে নিজের সপ্তম নির্বাচনে মিষ্টি কুমড়া প্রতিকে শীতল সরকার প্রথমবারের মতো জয় লাভ করেন। ৩৮ বছর পর!

জয়ের পর শীতল সরকার বলেন, ‘আমার জয়ের পিছে টাকার ছোঁয়া নাই, চায়ের ছোঁয়া নাই, আমার চামড়ার রুপের ছোঁয়া নাই। এইডা এলাকাবাসীর অন্তরের ভালোবাসা।’

শীতল সরকার থাকেন ময়মনসিংহের কালিবাড়ির এক চিপা গলির টিনের এক ঘরে শীতল সরকারের একার সংসার। ঘর ছেড়ে যাওয়ার সময় শীতল সরকারের স্ত্রীর গর্ভে থাকা সন্তানটি এখন ইন্টারমিডিয়েটে পড়ছে।

অভিমান ভেঙে শীতল সরকারের স্ত্রী কি ফিরে আসবে?

৬৫ বছরের শীতল সরকার আশা নিয়ে বলেন, ‘অহন সব ঠিক হইয়া যাইবো। বউ আইবো, সন্তানও আইবো।বউ তো যাওয়ার সময় কইয়া গেছিল আমি নির্বাচনে জিতলে আইবো।’

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।