গৃহহীন শিশুর খান পরিবারের মধ্যমনি হওয়ার গল্প

অর্পিতার থাকার জায়গা ছিল না। সালমান খানের বাবা স্ক্রিপ্ট রাইটার সেলিম খান তাঁকে দত্তক নিয়ে খান পরিবারে জায়গা করে দেন। কেউ কেউ বলেন, সেলিমের স্ত্রী অর্পিতাকে রাস্তায় দাঁড়িয়ে কাঁদতে দেখেছিলেন, তিনিই নিয়ে আসেন বাড়িতে। এরপর থেকেই পরিবারের ‘আদরের ছোট মেয়েটি’ হয়েই থেকেছেন অর্পিতা।

খান পরিবার কখনোই অর্পিতাকে নিজেদের মেয়ে মনে করেই রেখেছে। লন্ডন কলেজ অব ফ্যাশন থেকে অর্পিতা ফ্যাশন মার্কেটিংয়ের ওপর উচ্চশিক্ষা লাভ করেন। এখন তিনি নামকরা একটা আর্কিটেচারাল ও ইন্টেরিওর ডিজাইন ফার্মের সাথে আছেন।

অর্পিতার সাথে দু’বছর প্রেম ছিল অর্জুন কাপুরের। বনি কাপুরের ছেলে এখন বলিউডের প্রতিষ্ঠিত তারকা। যদিও, যখন ১৮ বছর বয়সে অর্পিতার সাথে পরিচয় হয় তখন ১৪০ কেজি ওজনের মোটাসোটা এক তরুণ ছিলেন তিনি। অর্জুন সব সময়ই বলেছেন, সেটাই তাঁর প্রথম ও শেষ ‘সিরিয়াস’ প্রেমের সম্পর্ক।

অর্পিতা এখন আয়ুশ শর্মার ঘরণী। একজন কমন বন্ধুর সুবাদে ২০১৩ সাল থেকে ডেট করছিলেন তাঁরা। ২০১৪ সালের ১৮ নভেম্বর খান পরিবার বেশ ঘটা করেই এই দু’জনের বিয়ে দেন। যদিও এই জুটির ইচ্ছা ছিল ২০১৫ সালের শুরুতে বিয়ে করার। তবে, সেলিম খান ও সালমা খানের বিয়ের ৫০ বছর পূর্তির সাথে মিল রেখে আগেই বিয়েটা করতে হয় তাঁদের।

রীতিমত রাজবাড়িতে বিয়ে হয় অর্পিতার। বড় ভাই সালমান খান তাঁর জন্য হায়দারাবাদের ফালাকনুমা প্যালেস বুক করেন। বিয়েতে বলিউডের অসংখ্য তারকা উপস্থিত ছিলেন। বলিউডের ইতিহাসে জমকালো বিয়ে হিসেবে এটা আজো পরিচিত হয়ে আছে। বিয়েতে উপহার হিসেবে ১৬ কোটি রুপি মূল্যের একটা ফ্ল্যাটও দেন সালমান।

অর্পিতাকে আদৌ কখনো রুপালি পর্দায় দেখা যাবে কি না, সেটা নিয়ে ভারতীয় মিডিয়ায় বিস্তর আলোচনা হয়। তবে, তাঁর স্বামী আয়ুশের অবশ্য ‘লাভ ইয়াত্রি’ সিনেমা দিয়ে বলিউডে অভিষেক হয়ে গেছে। আর সিনেমার জন্য পারলে তিনি নিজের ব্যবসা-বানিজ্যও ছেড়ে দিতে প্রস্তুত।

খান পরিবার থেকে যে ভালবাসা পেয়েছেন, বরাবরই তাঁর সম্মান রাখতে জানেন অর্পিতা। হাতে পার্মানেন্ট একটা ট্যাটু করিয়েছেন, যেখানে সেলিম খান, হেলেন, সালমা, সালমান, সোহেল, আরবাজ, আলভিরা – মানে পরিবারের সবার নাম লেখা  আছে। অর্পিতার প্রিয় বন্ধু দীক্ষা’র নামও আছে ট্যাটুতে। বাকি আর যে দু’টো শব্দ লেখা আছে তা হল ‘ভালবাসা’ আর ‘ভাগ্য’। অপর হাতের ট্যাটুতে আছে স্বামী আয়ুশের নাম।

২৮ বছর বয়সী এই তরুণী মা হয়েছেন এ বছরই। ছেলের নাম রেখেছেন আহিল। বেশ সুখেই আছেন। সংসারী হলেও তিনি ক্যারিয়ার নিয়ে বেশ সচেতন। শিগগিরই হয়তো তাঁর নিজস্ব ফ্যাশন ব্র্যান্ড যাত্রা শুরু করবে। অর্পিতা বরাবরই বলে এসেছেন, যে তিনি আন্তর্জাতিক মানের একজন উদ্যোক্তা হতে চান।

– ফার্স্ট পোস্ট ও বলিউড বাবল অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।