শৈশবে সফল, যৌবনে ব্যর্থ

বলিউডে সাফল্য কখন কার দিকে তাকিয়ে হাসবে আর কখন কার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তা বলা মুশকিল। এই তারকাদের কথাই ধরুন না। কি দারুণ ভাবেই না তাঁদের অভিষেক হয়েছিল! শিশু শিল্পী হিসেবে যে সাফল্য আর জনপ্রিয়তা পেয়েছেন, বড় বেলায় তার দেখা তো পাননি। বরং ভাঁটা পড়েছে জনপ্রিয়তায়। তেমনই কিছু দুর্ভাগাদের নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজন।

  • আদিত্য নারারণ

গায়ক উদিত নারায়নের ছেলের ‘জাব পেয়ার কিসি সে হোতা হ্যায়’ সিনেমায় শিশু শিল্পী হিসেবে অভিষেক হয়। পরে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করে জনপ্রিয়তা পেলেও তাঁর নায়ক হিসেবে অভিষেক সিনেমা ‘শাপিত’ চূড়ান্ত ফ্লপের মুখ দেখে।

  • আফতাব শিবদাসানি

শিশু শিল্পী হিসেবে তিনি কাজ করেছেন মিস্টার ইন্ডিয়ায়। এরপর নায়ক হিসেবে তাঁর অভিষেক হয়ে উর্মিলা মাতন্ডকারের বিপরীতে ‘মাস্ত’ সিনেমায়। ওই সিনেমার সাফল্যের পর যদিও আর বড় কোনো সাফল্য নেই আফতাবের।

  • হান্সিকা মোতওয়ানি

তিনি সম্ভবত ভারতের ইতিহাসেরই সবচেয়ে জনপ্রিয় শিশুশিল্পী। যদিও, বড় বেলায় বলিউডে তাঁর কোনো সাফল্য নেই। ‘আপ কা সুরুর’, ‘মানি হ্যায় তো হানি হ্যায়’ সিনেমাগুলো বক্স অফিসে টেকেনি। যদিও, দক্ষিণী সিনেমায় তিনি এখন শীর্ষ নায়িকাদের একজন।

  • যুগল হংসরাজ

১৯৮৩ সালে নাসিরুদ্দিন শাহ ও শাবানা আজমীর ‘মাসুম’ ছবি দিয়ে তাঁর বলিউডে অভিষেক হয়, শিশু শিল্পী হিসেবে। যৌবনকালে নায়ক হিসেবে কাজ শুরু করলেও বড় সাফল্য আসেনি। ২০০০ সালে শাহরুখ খান, ঐশ্বরিয়া রায়ের সাথে তাঁর করা ‘মোহাব্বাতে’ই তাঁর ক্যারিয়ারের একমাত্র হিট সিনেমা।

  • কুনাল খেমু

১৯৯৩ থেকে ১৯৯৮ সাল অবধি এক গাদা সিনেমায় শিশুশিল্পী হিসেবে ছিলেন। ২০০৫ ও ২০০৭ সালে তাঁর প্রথম দুই সিনেমা ‘কালযুগ’ ও ‘ট্রাফিক’ সিগনাল কমবেশি সাফল্য পায়। যদিও, এরপর আর বলার মত সাফল্য নেই নবাব পরিবারের জামাতার।

  • সানা সাঈদ

শাহরুখ খান, কাজল ও রানী মুখার্জীর সাথে ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’ সিনেমায় অঞ্জলি চরিত্রটি করেন। যৌবন বয়সে ‘স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার’-এ কাজ করলেও এখনো বলিউডে থিতু হতে পারছেন না সানা সাঈদ। তিনি এখন টেলিভিশনেই ব্যস্ত।

  • ইমরান খান

‘কেয়ামত সে কেয়ামত তাক’ কিংবা ‘জো জিতা ওহি সিকান্দার’-এর মত সিনেমায় শিশুশিল্পী হিসেবে কাজ করার পর যৌবনেও মোক্ষমই ছিল ইমরান খানের অভিষেক। ‘জানে তু ইয়া জানে না’ সিনেমাটি তাঁকে একগাদা পুরস্কারও এনে দেয়। তার ওপর তিনি আমির খানের ভাগ্নে। এত কিছুর পরও অবশ্য বলিউডে তিনি নিজের জায়গাটা টিকিয়ে রাখতে পারেননি।

  • শ্বেতা প্রসাদ বসু

মাকড়ি ও ইকবাল – যথাক্রমে ২০০২ ও ২০০৫ সালে মুক্তি পাওয়া দু’টি সিনেমা। এখানে শিশুশিল্পীর চরিত্রে অভিনয় করার সুবাদে রীতিমত জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, ফিল্ম ফেয়ার, আইফা, জি সিনে – সব জিতে যান শ্বেতা। যৌবনে বলিউডে কোনো সাফল্য আসেনি, বড় কোনো সিনেমাও পাননি। তিনি তাই এবার চলে এসেছেন টেলিভিশনে।

– দেশিমার্টিনি.কম অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।