ফ্লপ ছবির হিট গান!

ভারতীয় সিনেমার সবচেয়ে বড় দিক হচ্ছে – গান! গানে নাকি প্রাণের সঞ্চার হয়। বলিপাড়ায় গানের কদর ক্ষেত্রবিশেষে সিনেমার চেয়ে বেশি। মিউজিক জিনিসটা অনুভব করার বিষয়। যুগে যুগে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা সত্যটিকে মেনে চলেছেন, সিনেপ্রেমীদের উপহার দিয়েছেন অসংখ্য কালজয়ী গান। এদের কোন কোনটা এতটাই জনপ্রিয়তা পেয়েছে, সেসব গানের সিনেমা যে ফ্লপ হয়েছে তা দর্শক বেমালুম ভুলে গিয়েছে। তেমন কয়েকটি গানেই চলুন ডুবে আসি।

  • ছাইয়া ছাইয়া (দিল সে, ১৯৯৮)

কিংবদন্তিতূল্য পরিচালক মনি রত্নম, অভিনয়ে শাহরুখ, মনীষা কৈরালা আর নবাগতা প্রীতি জিনতা মিলেও সিনেমার বক্সঅফিস ভাগ্য খুলতে পারেনি। কিছুটা জটিল প্লট হওয়াতে রোমান্টিক-থ্রিলার ঘরানার মুভিটি দর্শক সেভাবে গ্রহণ না করলেও এ. আর. রহমানের মিউজিককে এড়িয়ে যাওয়ার সাধ্য তাদের নেই। সঙ্গীতের এই মহীরুহ ‘দিল সে’ তেও চমৎকারভাবে সঙ্গীতকে উপস্থাপন করেম।

ছাইয়া ছাইয়া, দিল সে, শতরঙ্গি; একেকটা গান যেন নতুন অনুভূতির জন্ম দেয়ায়। প্রতিটা গান সেইসময়ের চার্টবাস্টার তো বটেই, আজো এগুলির সমান আবেদন মানুষের কাছে। সিনেমার ছাইয়া ছাইয়া গানটি জনপ্রিয়তায় ছাড়িয়ে গেছে বাকী গানগুলিকে। ২০০২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত মিউজিক্যাল মুভি বম্বে ড্রিমসে বাজানো করা হয় ছাইয়া ছাইয়া। শুধু তাই নয়। ইনসাইড ম্যান নামক একটি হলিউড মুভি এবং দুটো টিভি সিরিজেও ব্যবহার হয় গানটি!

  • অ্যায় নাজনীন চুনো না (দিল হি দিল ম্যায়, ২০০০)

তামিল সিনেমা কাধালার ধিনামের হিন্দি রিমেক দিল হি দিল ম্যায়। কাধালার ধিনাম হিট হলেও বলিউড প্রজেক্ট ব্যর্থ হয় সাফল্যের মুখ দেখতে। সিনেমা সফল না হলেও সুরস্রষ্টা এ. আর. রহমানের তৈরি রোমান্টিক গান অ্যায় নাজনীন চুনো না এখনো ফেরে মানুষের মুখে মুখে।

  • তেরে ডার পার সানাম চালে আয়ে ( ফির তেরি কাহানি ইয়াদ আয়ে, ১৯৯৩)

রাহুল রায় আর পূজা ভাট অভিনীত চলচ্চিত্রটি কাজ দিয়ে দর্শকের প্রশংসা কুড়োতে না পারলেও এই একটি গানে বেঁচে থাকবে বহুদিন। আনু মালিকের সঙ্গীতে কুমার শানুর কন্ঠে তেরে ডর পার সানাম চালে আয়ে গানখানি নব্বইয়ের অন্যতম সেরা গান হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে!

  • যাব দিল মিলে (ইয়াদে, ২০০১)

সুভাস ঘাইয়ের সিনেমাটি নিয়ে সকলের প্রত্যাশা ছিল অনেক উঁচুতে। মাল্টিস্টারার মুভিতে কাজ করেন হৃত্তিক, কারিনা, জ্যাকি শ্রফের মতো নামজাদা তারকারা। কিন্তু প্রত্যাশা পূরণে নিদারুণ ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে মুখ থুবড়ে পড়ে বক্সঅফিসে। তবে মাস্টারপিস আনু মালিকের সঙ্গীত যেখানে আছে, সেখান থেকে একেবারে খালি হাতে ফিরতে হয় না। এই সিনেমারই যাব দিল মিলে গানটি কতজনের প্লে লিস্টে যে আজো রিপিট মুডে আছে তার হিসাব নেই!

  • দিল নে তুমকো চুন লিয়া হ্যায় (ঝাংকার বিটস, ২০০৩)

মিউজিক্যাল-ড্রামা ধাঁচের সিনেমাটির বাণিজ্যিকভাবে সফলতা না আসায় তেমন কিছু যায় আসে না। কেননা এর মিউজিকে জাদু আছে। কোথাও যেন মন ছুঁয়ে যায়। এতবছর পরেও যা শুনতে বাধ্য করে। বিশেষ করে দিল নে তুমকো চুন লিয়া হ্যায় ট্র্যাকটি দারুণ জনপ্রিয়।

  • ঘার সে নিকালতে হি (পাপা ক্যাহতে হ্যায়, ১৯৯৬)

অনুপম খেরের মুভি পাপা ক্যাহতে হ্যায় বক্সঅফিসে ডিজাস্টার হলেও এর ঘার সে নিকালতে হি গানখানি যথেষ্ট সুন্দর ছিল। উদিত নারায়নের কন্ঠে চমৎকার ছিল গানের কথাগুলি। সেবছর ফিল্মফেয়ারে সেরা লিরিসিস্টের পুরস্কার উঠে উদিতের হাতে।

  • শাওন বারসে তারসে দিল (দ্যাহেক, ১৯৯৯)

সিনেমার কালেকশন আহামরি না হলেও গানটি এককথায় অনবদ্য। অক্ষয় খান্না আর সোনালি বেন্দ্রের কেমিস্ট্রি দারুণ এই গানকে পূর্ণতা দান। শাওন বারসে তারসে দিল, বলিউডের অন্যতম সেরা বৃষ্টির গান।

  • ইয়ে রিশতা কেয়া ক্যাহলাতা হ্যায় ( মিনাক্ষি: অ্যা টেল অব থ্রি সিটিস, ২০০৪)

 

ইয়ে রিশতা কেয়া ক্যাহলাতা হ্যায় নামে জনপ্রিয় টিভি সিরিয়াল আছে স্টার প্লাসে। মিনাক্ষী সিনেমা নিন্দুকের প্রশংসা না কুড়ালেও সেই নিন্দুকই জয়ধ্বনি তোলে এ. আর. রহমানের জাদুকরী সুরে তৈরি ইয়ে রিশতা কেয়া ক্যাহলাতা হ্যায় শুনে। এছাড়াও একই সিনেমার চিন্নামা চিলাক্কাম ট্র্যাকটিও কানে আরাম দিবে।

  • চোরি চোরি যাব নাজারে মিলি (কারিব, ১৯৯৮)

এই সিনেমায় অভিনয় করেন ববি দেওল এবং নেহা। প্রায় একই সময়ে শাহরুখের কুচ কুচ হোতা হ্যায় মুক্তি পাওয়ায় ববি নেহার রসায়ন দর্শকের কাছে সেভাবে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়। তবে ভিদু বিনোদ চোপড়া তার সিনেমাকে একেবারে মরে যেতে দেননি। গানের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন। আনু মালিকের সঙ্গীত পরিচালনায় চোরি চোরি যাব নাজারে মিলি গানটি এখনো বলিউডের অন্যতম সেরা রোমান্টিক গান। একই সিনেমার চুরালো না দিল মেরা গানটিও সমান জনপ্রিয় সকলের কাছে।

  • রঙ দে (তাকশাক, ১৯৯৯)

অজয় দেবগন ও টাবুর জুটি দর্শক মাতাতে ব্যর্থ হলেও এ. আর. রহমান পুষিয়ে দেন মিউজিক দিয়ে। রঙ দে শিরোনামের গানটি দর্শক সমালোচক সবার হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে নিজস্ব মুন্সিয়ানায়।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।