কালজয়ী হিন্দি ছবিগুলোও সাউথের রিমেক!

ভারত হল গোটা বিশ্বেরই অন্যতম বড় ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি। এখানে মুম্বাই যেমন আছে, তেমনি অনেক আঞ্চলিক ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিও আছে। বলিউডকে কার্যত সব সময় এগিয়ে রাখাও যায় না। দক্ষিণী ছবিগুলোও বরাবরই বেশ সমৃদ্ধ। তামিল, তেলেগু, মালায়ালাম বা কান্নাড়া অনেক ছবির রিমেকেই তাই হয় বলিউডে। এর তালিকায় ‘গাজিনি’, ‘সিঙঘাম’ কিংবা ‘ওয়ান্টেড’ যেমন আছে তেমনি অনেক কালজয়ী ক্লাসিক ছবিও আছে। তেমনই কয়েকটি রিমেক নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজন।

  • হেরা ফেরি (২০০০)

বলিউডে কমেডি ছবির প্রসঙ্গ উঠলেই পরেশ রাওয়াল, অক্ষয় কুমার ও সুনিল শেঠি অভিনীত ‘হেরা ফেরি’ ছবির কথা আসতে বাধ্য। এখনো ছবিটি সমান ভাবে জনপ্রিয়।

অথচ, খুব কম দর্শকই জানেন যে এটা ১৯৮৯ সালের মালায়ালাম ছবি ‘রামজি রাও স্পিকিং’-এর রিমেক। মালায়ালাম এই ছবি তামিল ভাষায় ‘আরাংগ্রেতা ভেলাই’, তেলেগুতে ‘ধনলক্ষ্মী, আই লাভ ইউ’, ওড়িয়াতে ‘রঙ নাম্বার’ ও কান্নাড়াতে ‘ট্রিন ট্রিন’ নামে রিমেক করা হয়।

  • র‌্যাহনা হ্যায় তেরে দিল মে (২০০১)

নাহ, হোঁচট খাবেন না। বলিউডের ইতিহাসের অন্যতম সেরা রোম্যান্টিক কাল্ট ক্লাসিক এই ছবিটিও মূলত তামিল একটা ছবির রিমেক। তামিল ভাষায় ছবির নাম ছিল ‘মিন্নালে’। তামিল ও বলিউড – দু’টি ইন্ডাস্ট্রিতেই পরিচালক ছিলেন গৌতম মেনন।

তামিল ইন্ড্রাস্ট্রিতে ছবিটা ২০০১ সালে বিরাট ব্যবসায়িক সাফল্য পাওয়ার পর পুনরায় নির্মিত হয় বলিউডে। তামিল ছবিতেও ‘ম্যাডি’ বা মাধব শাস্ত্রী’র চরিত্র করেছিলেন আর মাধবন। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হল, দু’টো ছবির গানগুলোর সুরও প্রায় একই।

  • সাথিয়া (২০০২)

ক্লাসিক রোম্যান্টিক ছবি। বিবেক অবেরয় তাঁর ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে রানী মুখার্জীর বিপরীতে এই ছবিটি করে চকলেট বয়ের খ্যাতি পেয়েছিলেন। যদিও ছবিটা ২০০০ সালের তামিল ছবি ‘আলাইপাউথে’র রিমেক। মূল ছবিটি নির্মান করেন স্বয়ং মনি রত্নম।

কেন্দ্রীয় চরিত্রে ছিলেন আর মাধবন ও শালিনি। আর মনি রত্নম ও যশ রাজের প্রোডাকশনে ‘সাথিয়া’ নির্মান করেন শাদ আলী। দু’টি ছবিতেই সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন এ আর রহমান।

  • স্বদেশ (২০০৪)

শাহরুখ খান ছবিটি দিয়ে বিরাট ব্যবসায়িক সাফল্য না পেলেও, সমালোচকদের বিরাট প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন। দারুণ গল্পের এই ছবিটা নির্মিত হয়েছে ২০০৩ সালের কান্নাড়া ছবি ‘চিগুরিদা কানাসু’র ওপর নির্ভর করে।

  • নায়ক (২০০১) 

খ্যাতনামা তামিল নির্মাতা এস শঙ্করের বলিউডে অভিষেক হয় ‘নায়ক’ ছবি দিয়ে। ছবিটা ফ্লপ হয়। যদিও, অনিল কাপুর, অমরেশ পুরি, রানী মুখার্জী ও পরেশ রাওয়াল অভিনীত এই ছবিটি বলিউডের ইতিহাসের অন্যতম সেরা কাল্ট ক্লাসিক।

 

বলা হয়, ওই সময়ে যথার্থ বিপনণের অভাবে ভাল ব্যবসা করতে পারেনি ছবিটি। তবে, ‘নায়ক’ মূলত ১৯৯৯ সালে তামিল ভাষায় বানানো ‘মুধালভান’-এর রিমেক। মূল ছবিটার পরিচালকও ছিলেন শঙ্করই।

  • তেরে নাম (২০০৩)

সালমান খানের ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা ছবি। পরিচালনা করেন সতীশ কৌশিক। ছবিটি সাতটা ভিন্ন ভিন্ন পুরস্কার পায়। তবে, এটা কোনো মৌলিক ছবি নয়। এটা ১৯৯৯ সালের তামিল ছবি ‘সেথু’র রিমেক। কেন্দ্রীয় চরিত্রে ছিলেন বিক্রম। ছবিটি তামিল ইন্ডাস্ট্রিতে একটা মাইলফলক সৃষ্টি করে।

সেরা সিনেমার ক্যাটাগরিতে ফিল্ম ফেয়ার ও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার দু’টোই পায়। সেবারই প্রথমবারের মত ফিল্ম ফেয়ারে পুরস্কৃত হত বিক্রমও। তিনি পান বিশেষ জুড়ি পুরস্কার।

‘সেথু’ ছবিটি পরে বলিউড-সহ আরো পাঁচবার রিমেক হয় ভিন্ন ভিন্ন ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে। কান্নাড়া, তেলেগু এমনকি বাংলাদেশেও ছবিটা রিমেক হয়।

  • হাউজফুল (২০১০)

হাউজফুল ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রথম কিস্তিটা নির্মিত হয় ১৯৯৮ সালের তামিল ছবি ‘কাত্থালা কাত্থালা’ গল্প অবলম্বনে। মূল ছবিতে ছিলেন কমল হাসান।

হাউজফুল মুক্তির পর তামিল ছবিটির নির্মাতা পি. এল. থেনাপ্পান হাউজফুলের প্রযোজক সাজিদ নাদিয়াদওয়ালার বিরুদ্ধে মামলাও করেছিলেন। কিন্তু, কোনো ঝামেলা ছাড়াই ছবিটি মুক্তি পায়।

  • শুভ মঙ্গল সাবধান (২০১৭)

আয়ুষ্মান খোড়ানা ও ভূমি পেদনেকার জুটির ব্যবসাসফল রোম্যান্টিক কমেডি ছবি। দারুণ এক থিমে নির্মিত ছবিটি বেশ জনপ্রিয়তা পায়। তবে, ছবিটি মূলত ২০১৩ সালে মুক্তি পাওয়া তামিল ছবি ‘কল্যানা স্যাম্যায়াল সাধম’-এর অফিসিয়াল রিমেক। দু’টি ছবির পরিচালকই আর.এস প্রসন্ন।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।