ভুত তাড়ানো, ভয় কাটানো, ভারত কাঁপানো

ব্যাঙ্গালুরুর ভীতটা কি এবার অন্তত অতীত হল? কিংবা, সেই নিদাহাস ট্রফির ভুত? দিনেশ কার্তিকের সেই অতিদানবীয় ইনিংসের সামনে অসহায় বাংলাদেশ? ‘সাকিব-তামিম ছাড়া ভারতের মাটিতে খেলা কী সম্ভব – এই ভয়টা কী কাটলো? বা দিল্লীর এই বিষাক্ত বাতাসের ভয়? সব ভুত, সব ভয় কী এবার মিলিয়ে গেল না বাংলাদেশের পারফরম্যান্সের জোয়ারে!

হ্যাঁ, যে আত্মবিশ্বাসের সাথে বাংলাদেশ দল খেলেছে, তাতে বলাই যায় অতীতের সব ভয়, সব ভুত ও সব ভুল মুছে ফেলতে পেরেছেন মুশফিক-মাহমুদউল্লাহরা। একবারও মনে হয়নি, এই দিন চারেক আগেও স্মরণকালের সবচেয়ে বাজে সময়ের মধ্য দিয়ে গেছে দেশের ক্রিকেট!

ম্যাচের শুরুটা দিল্লীর অধুনা অরুন জেটলি স্টেডিয়ামে বাউন্ডারি দিয়ে শুরু করেছিলেন রোহিত শর্মা। ওই একটা সময়ই কেবল ম্যাচে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে ছিল ভারত। বাকিটা সময় নিজেদের পাল্লাটা একটু একটু করে ভারি করে নেয় সফরকারীরা। শফিউল ইসলামের কার্যকর কিছু ব্রেক-থ্রু, আমিনুল বিপ্লব-আফিফ হোসেনদের সময়ের দাবি মেনে বোলিং করা, উইকেট পাওয়া, এর চেয়েও বড় ব্যাপার হল মাঠজুড়ে দারুণ সব ফিল্ডিং প্রদর্শনী একটু একটু করে দু’দলের মধ্যে পার্থক্যগুলো প্রবল করে তুলেছিল।

আর ব্যাটিংটা সামাল দিলেন সেই তিনজন যারা আগের দু’টি তীরে এসে তরী ডোবার ঘটনায় যন্ত্রনাটা পেয়েছেন সবচেয়ে বেশি। ৩৯ রান করেছেন তিনে নামা সৌম্য সরকার। এই সৌম্যই নিদাহাস ট্রফিতে শেষ ওভারটা করেছিলেন, দিনেশের ব্যাটে আর সৌম্যর কান্নায় সেদিন সিক্ত হয়েছিল লঙ্কার মাটি। তাঁকে যোগ্য সঙ্গ দিয়ে গেছেন অভিষিক্ত মোহাম্মদ। শুরুর জড়তা কাটাতে একটু বেশিই সময় নিয়েছেন। শেষ অবধি তাই স্ট্রাইক রেটটা (২৮ বলে ২৬ রান) যুৎসই দেখাচ্ছে না। কিন্তু, লম্বা দৌঁড়ে তিনি হয়তো তুরুপের তাস হয়ে উঠবেন কোনো একদিন।

৪৩ বলে ৬০ রান করে ম্যাচ সেরা হয়েছেন মুশফিকুর রহিম। তিনিই বিশ্বকাপের মঞ্চে ব্যাঙ্গালুরুর চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের সেই ম্যাচে আগাম উদযাপন করে হয়েছিলেন সমালোচিত। সেবার এক রান দূরে থাকতে থামতে হয়েছিল বাংলাদেশ। এবার হয়নি, ছক্কা হাঁকিয়ে বাংলাদেশকে জয়ের বন্দরে ভিড়িয়ে নেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, সেই রিয়াদ যিনি ব্যাঙ্গালুরুর সেই ম্যাচে আউট হয়েছিরেন অবিবেচকের মত।

ভারতের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টি জয়। সেটাও আবার ভারতের মাটিতে, সাত উইকেটের বিশাল ব্যবধানে। গোটা স্টেডিয়াম যখন গর্জন করছিল রোহিত, চাহাল বা ধাওয়ানদের জন্য, তখন সেই গর্জন থেমে গেল সত্যিকারের বাঘের গর্জনে। শত ভয় কাটিয়ে, শত হতাশা কাটিয়ে নিজেদের জাত চেনাতে পারাটাই তো সত্যিকারের বাঘের কাজ।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।