ইলিশ বনাম পেঁয়াজ: দ্বন্দ্ব নাকি প্রোপাগান্ডা

.

বাংলাদেশ ভারতকে ৫০০ টন ইলিশ দুর্গাপূজার উপহার দিয়েছে

– না। বিক্রি করেছে। ২০১২ সাল থেকে শেখ হাসিনা সরকার ভারতে ইলিশ রপ্তানী বন্ধ রেখেছেন, অনেকটা মমতা’র সাথে তিস্তার পানি বন্টন নিয়ে ঝামেলার কারণে। ২০১২ এর আগে বাংলাদেশ থেকে ৫০০০ থেকে ৮০০০ টন ইলিশ রপ্তানী হতো। প্রায় ৩ বিলিয়ন বাংলাদেশী টাকা অর্জিত হতো। কিন্তু শেখ হাসিনা বলেছিলেন, পানি আসলে ইলিশ যাবে। ভারত বাংলাদেশে ঢুকে মাছ নিয়ে যাচ্ছে না, হাসিনাও জোর করে মাছ পাঠাচ্ছে না।

বাংলাদেশ ফিশ এক্সপোর্টার্স এর এসোসিয়েশন সেক্রেটারি কাজী আবদুল মান্নান এর অনুরোধেই বাংলাদেশ সাময়িক অনুমতি দিয়েছে (সেপ্টেম্বর ২৮ থেকে অক্টোবর ১০)। আর বাংলাদেশের সাংবাদিকেরা যে শব্দটাকে ‘উপহার’ বলে ব্যবহার করছে, শব্দটি টাইমস অফ ইন্ডিয়াতে বাংলাদেশ ফিশ এক্সপোর্টার্স এর আরেক এসোসিয়েশন সেক্রেটারি সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদ এর বরাতে ছাপানো হয়েছে ‘গুডউইল জেসচার’ বলে। এর বাংলা করেছে উপহার।

অবশ্য স্টেম সেল-এর বাংলা করেছে যারা গাছের কান্ড, গাছের কান্ড থেকে কিডনি তৈরী করবার নিউজ যারা ছাপায় তাদের নিয়ে সময় নষ্ট করা উচিৎ না। সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদ জানিয়েছেন, কনসাইনমেন্ট ২৮ কোটি রুপীর তবে তারা আশা করছে প্রতি কেজি ১১০০-১২০০ রুপির।

২.

বাংলাদেশ পাঠাইলো ইলিশ আর ভারত পেঁয়াজ বন্ধ কইরা দিলো

– ২০-২৮ রুপির পেঁয়াজ এই মুহুর্তে ভারতেই বিক্রি হচ্ছে ৮০ রুপিতে। ভারতে পেঁয়াজের এতোই আকাল যে তারা আফগানিস্তান থেকে পাকিস্তানের ভেতর হয়ে পেঁয়াজ আনাচ্ছে, মিশর থেকেও পেঁয়াজ আনাচ্ছে। ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানীর দেশ মূলত তিনটি। বাংলাদেশ, দুবাই ও শ্রীলংকা। রপ্তানী শুধু বাংলাদেশেই না, তিনটি দেশেই বন্ধ করা হয়েছে। আমি জানি না, আমাদের দেশে যদি আজকে চালের আকাল পরে, আমরা কি চাল রপ্তানী করতাম কি না!

৩.

এই যে ভারত থেকে পেঁয়াজ না আসলে আমাদের নাভিশ্বাস উঠে যায়, গরু না আসলে কোরবানীর ঈদ কান্নাকাটির ঈদ হয়ে যায়, গালিগালাজ এর পাশাপাশি কোনদিন চিন্তা করার সময়টা পেয়েছেন যে, পেঁয়াজ তো আমাদের দেশেই হতো, গরু তো গোয়ালে ভর্তি ছিলো, এখন নাই কেনো? অপর একটা দেশের উপর এইভাবে নগ্নভাবে নির্ভর করাটা কতোটা বিপজ্জনক, সেটা কি আন্দাজ করা যায়? আজকে তো পেঁয়াজ, গরু, কালকে রসুন, পরশু কসমেটিক্স, তরশু অন্য কিছু রপ্তানী বন্ধ করে দিলে গালি দিয়ে নিজে বাঁচতে পারবেন? দিনের পর দিন কৃষককে আমরা ঠকিয়েছি। কৃষক এখন কৃষি থেকে মুখ সরিয়ে নিয়েছে। সে রিকশা চালাবে, ভ্যান চালাবে। কিন্তু রাস্তায় আলু, চাল ঢেলে রাখবে না। সে সিদ্ধান্ত কৃষক নিয়ে নিয়েছে।

৪.

প্লিজ ভারতের দালাল বলবেন না। ও জিনিস ৮-৯ বছর হলো শুনছি। নতুন কিছু বলুন।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।