হি ইজ দ্য সুপারম্যান!

বাংলাদেশের ব্যাটিং চলছে। ১২ তম ওভারের কথা। ক্যারিবিয়ান পেসার শেলডন কটরেলের সেই ওভারে সাজঘরে ফিরলেন সৌম্য সরকার ও লিটন দাস। এর পরের ওভারেই ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে নেই মুশফিকুর রহিমের উইকেট। এর আগ পর্যন্ত দারুণ ভাবে বাংলাদেশ ম্যাচেই ছিল।

কিন্তু পর পর তিন উইকেটের পতনে খানিকটা ছন্দপতন। এক উইকেটে ১১০ থেকে মুহূর্তের মধ্যে বাংলাদেশ চার উইকেটে ১২০। তখন ২০০ রানের ওপরে ইনিংসটা নিয়ে যাওয়ো স্বপ্নের চেয়েও বেশি কিছু। না, সাকিব আল হাসান অন্য ভাবেই ভেবে রেখেছিলেন ইনিংসটা।

সঙ্গী হিসেবে পেলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে। পঞ্চম উইকেটে অবিচ্চিন্ন জুটিতে যোগ করলেন ৯১ রান। সেটাও মাত্র সাত ওভারে। নিজে ২৬ বল খেলে পাঁচটি চার ও এক ছক্কায় অপরাজিত থাকলেন ৪২ রানে। তাতেই তো বাংলাদেশের স্কোরটা ২১১-এ গিয়ে ঠেঁকলো। যোগ্য সঙ্গ দিয়ে রিয়াদ করেন ২১ বলে ৪৩ রান।

বোর্ডে এত রান জমা করার পরও একটা কিন্তু ছিল। কারণ, মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের এই উইকেটটা নিঁখাদ ব্যাটিং স্বর্গ। তার ওপর প্রতিপক্ষের নাম হল টি-টোয়েন্টিতে দু’বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ। নিজেদের দিনে ব্যাট হাতে যেকোনো স্কোরই তাঁদের সামনে ধোপে টিকতে পারে না।

তাই, ভয় তো ছিলই। কিন্তু, এই সকল ভয়গুলোকে সাকিব তো জয় করতে জানেনই। তাই বল হাতেও তিনি রূদ্রমূর্তিতে! চার ওভার বল করলেন, তাতে মাত্র ২১ রান দিয়ে নিলেন পাঁচটা উইকেট। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এবারই প্রথমবারের মত পাঁচটি উইকেট নিলেন বাংলাদেশের অধিনায়ক। শুধু তাই নয়, এই চার ওভারে ১১ টি ডট বল দিয়েছেন। কে জানে, সাকিবের এই অতিমানবীয় বোলিং না আসলে হয়তো ম্যাচটা এত সহজ হত না বাংলাদেশের।

ম্যাচটা জয়টাকে সহজ করে দেওয়াটা সাকিবের চেয়ে ভাল আর কেই বা পারেন। এখানেই তো তিনি অনন্য। ৪২ রান আর পাঁচ উইকেট – ৩৬ রানের বড় জয় পাওয়ার দিনে তাই নায়ক খুঁজতে বেগ পেতে হল না। বলাই বাহুল্য, সাকিবের হাতেই উঠেছে ম্যাচ সেরার পুরস্কার। যোগ্য অধিনায়কের মত তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন সামনে থেকে।

ম্যাচের মধ্যে তাই ধারাভাষ্য কক্ষে বসে আতহার আলী খান বলেই দিলেন, ‘রানজ উইদ দ্য ব্যাট। উইকেট উইদ দ্য বল। হি ইজ দ্য সুপারম্যান!’

হ্যাঁ, সত্যি তিনি আমাদের সুপারম্যান! আমরা সৌভাগ্যবান যে আমরা প্রতিনিয়ত এই সুপারম্যানের নতুন সব অবিশ্বাস্য কীর্তি চোখের সামনে দেখতে পারছি!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।