যেখানে বাংলাদেশকে পেছনে ফেলেছে আফগানিস্তান

প্রথম ইনিংসে পোস্ট লাঞ্চ সেশনটাতে আফগানিস্তান চালকের আসনে বসেছিল। আর নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে এই পোস্ট লাঞ্চ সেশনেই ম্যাচটাকে নিজেদের মুঠোয় আনার কাজটা সেরে ফেলল তাঁরা। আরেকটু ভেঙে বললে দু’বারই কাজটা করলেন অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান আসগর আফগান। এই দুই সেশনেই বাংলাদেশের বোলিংয়ে ধারাবাহিকতা ও শৃঙ্খলার যথেষ্ট অভাব ছিল।

স্বাগতিক দলের বোলাররা একটি নির্দিষ্ট জায়গায় ক্রমাগত বল করতে ব্যর্থ হয়েছি। প্রথম ইনিংসের মত আফগানদের দ্বিতীয় ইনিংসেও লাঞ্চ পরবর্তী সেশনে ব্যাটসম্যানদের ওপর কোন প্রকার চাপ সৃষ্টি করার বদলে তাদেরকে চাপমুক্ত থাকতে সাহায্য করেছে আমাদের বোলাররা।

স্বভাবতই আফগানিস্তানের ব্যাটসম্যানরা কম ধৈর্য্যশীল। তারা খুব বেশিক্ষণ গুটিয়ে থাকতে পারে না। চার্জ করাটাই তাঁদের ব্যাটিং স্টাইল, স্বভাবসুলভ বৈশিষ্ট্য – যেটা প্রথম ইনিংসেও দেখা গেছে। এক্ষেত্রে বোলাররা যদি শৃঙ্খল থাকত তাহলে উইকেট পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতো।

উইকেটে একজন ব্যাটসম্যান ততক্ষণ পর্যন্ত থিঁতু হতে পারেন না যতক্ষণ না তিনি রান পান। যেহেতু পিচ স্পিনারদের বাড়তি কিছু অফার করছে না এবং আমরাও উইকেট তুলতে পারছি না সেক্ষেত্রে এ সময়টায় একটা ভাল চ্যানেলে নিয়মিত বল করে তাদেরকে আটকে রাখা যেত।

এতে অধৈর্য্য আফগানরা মেজাজ হারালে উইকেটের সুযোগও মেলতে পারত। কিন্তু আমরা সেটা করতে পারিনি। বার বার লেন্থ মিস করেছি। আমরা উইকেট তো তুলতেই পারিনি বরং লং হপ ঢেলে তাদেরকে বাউন্ডারি, ওভার বাউন্ডারি হাকানোর মাধ্যমে সহজে রান তুলে উইকেটে থিতু হওয়ার সুযোগ দিয়েছি।

আর উইকেট সম্পর্কে বলতে হয় এটা টিপিক্যাল চট্টগ্রাম উইকেট। বাংলাদেশের একাদশ দেখে মনে হয়েছিল যে এই উইকেটে বুঝি প্রথম দিন থেকেই স্পিন ধরতে শুরু করবে। গত অস্ট্রেলিয়া ম্যাচেও ঠিক এমনটাই ধারনা করা হয়। আদতে তেমন কিছুই নয়।

তৃতীয় দিনেও দৃশ্যত তেমন আহামরি কোন টার্ন চোখে পড়েনি। ঠিক ওই অস্ট্রেলিয়া ম্যাচের উইকেটের মতই। তবে উইকেট ভাঙতে শুরু করেছে। যত দিন গড়াচ্ছে ততই আস্তে আস্তে স্পিনারদের সহায়তা করতে শুরু করছে। তাই চতুর্থ ও পঞ্চম দিন আগের তিনদিনের তুলনায় স্পিনারদের জন্য উইকেটে বেশি সাহায্য থাকবে।

তাতে আফগান লেগিদের জন্য ‘সহজ’ কাজটা যে আরও সহজ হয়ে যাবে তা বলাই বাহুল্য। ফলে, বলা যায় অবধারিত ভাবেই বাংলাদেশের জন্য বিরাট লজ্জা আসন্ন। ঠ্যাকানোর কি কেউই নেই?

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।