হ্যারি ‘কিং’ কেইন

১৯৬৬ সালে বিশ্বকাপ ফাইনালে পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে ৪-২ গোলে জয় পেয়েছিলো ইংলিশরা। সেটাই বিশ্বকাপের মঞ্চে ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় জয়ের নজীর হয়েছিল এতদিন। এবার সেটা ভাঙলো গ্রুপ পর্বেই। পানামার বিপক্ষে স্কোরলাইন ৬-১; বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়।

ইংল্যান্ডে সেই বিশ্বকাপ জেতানো ম্যাচের নায়ক ছিলেন জিওফ হার্টস। সেদিন প্রথম ব্রিটিশ হিসেবে বিশ্বকাপের মঞ্চে হ্যাটট্রিক করেছিলেন হার্স্ট।

আর এবারে জয়ের কাণ্ডারী হ্যারি কেইন। তাঁর সৌজন্যে দেখা মিললো চলতি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় হ্যাটট্রিকের। মাত্র দুই ম্যাচেই পাঁচটি গোল করে তিনি ছাড়িয়ে গেলেন খোদ ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে। বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করা ইংলিশদের মধ্যে তিনি তৃতীয়।

মাঝের জন্য হলেন কিংবদন্তিতূল্য ফুটবলার গ্যারি লিনেকার। ১৯৮৬ সালের গ্রুপ পর্বে তিনি পোল্যান্ডের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক পান। সেবার গোল্ডেন বুটও পেয়েছিলেন লিনেকার। এবার পূর্বসূরীকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন কেইন।

ব্রিটিশ মিডিয়ায় বরাবরই আদিখ্যেতা একটু বেশি। আর বিশ্বকাপ এলেই কি করে যেন সব সময়ই তাঁরা নিজেদের শিরোপার অন্যতম দাবীদার বলে ভাবতে শুরু করে। বলাই বাহুল্য, অধিকাংশ সময়ই তাঁরা ব্যর্থই হয়েছে।

৯০-এর দশক থেকে বড় টুর্নামেন্ট মানেই ইংল্যান্ডের ব্যর্থতা। কখনো পল গ্যাসকোয়েন, কখনো বা অ্যালান শিয়ারার, ডেভিড বেকহ্যাম, মাইকেল ওয়েন কিংবা একালের ওয়েন রুনি, স্টিফেন জেরার্ডকে তাঁরা যোগ্য নাবিক বলে মনে করেছেন। কেউই অবশ্য তাঁদের আশার জাহাজকে চূড়ান্ত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেননি।

ব্রিটিশদের আশার পালে এবার হাওয়ার যোগান দিচ্ছেন হ্যারি কেইন, তাঁদের ২৪ বছর বয়সী অধিনায়ক। ব্রিটিশদের জন্য হ্যারি কেইন বিশ্বকাপ আদৌ আনতে পারবেন কি না, সেটা সময়ই বলে দেবে। তবে, গোল দেওয়ার ক্ষেত্রে যে তিনি কোনো কার্পণ্য করছেন না সেটা তো পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট।

বিশ্বকাপে গোল সংখ্যার দিকে থেকে আর কেবল একজন ব্রিটিশই এগিয়ে আছেন। তিনি হলেন সেই লিনেকার। লিনেকারের বিশ্বকাপ গোল ১০ টি। হ্যারি কেনের পাঁচটি। ডেভিড বেকহ্যাম, মাইকেল স্টিফেন জেরার্ডদের তিনটি করে গোল, ববি চার্লটন, মাইকেল ওয়েনদের চারটি করে গোল টপকে কেইন ছুয়ে ফেলেছেন জিওফ হার্টসকে।

হ্যারি কেইন হলেন ইংল্যান্ড দলের হয়ে খেলা প্রথম ‍ফুটবলার যিনি বিশ্বকাপে নিজের প্রথম দুই ম্যাচের প্রতিটিতেই এক গোলের বেশি করেছেন! বিশ্বকাপের প্রথম দুই ম্যাচেই পাঁচ গোলের নজীর এর আগে গড়তে পেরেছেন মোটে দু’জন। ১৯৫৮ সালে, মানে আজ থেকে ৬০ বছর আগে এই কীর্তি শেষ করেছিলেন ফ্রান্সের জাঁ ফন্তেইন। এর আগের বিশ্বকাপে, মানে ১৯৫৪ সালে কীর্তি ছিল হাঙ্গেরির সান্দোর কচসিসের।

ফন্তেইন হলেন এক বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোল করা ফুটবলার। সেবার তাঁর একার গোল ছিল ১৩ টি। আর ১৯৫৮ সালের গোল্ডেন বুট জয়ী কচসিস করেছিলেন ১১ টি গোল। হ্যারি কেইন এবার তেমন কিছু একটা করে ফেলতে পারলে ইংল্যান্ডের ৫২ বছরের বিশ্বকাপ আক্ষেপ মিটেও যেতে পারে।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।