এ যেন সিনেমার মত এক জীবনের গল্প!

হার্দিক পান্ডিয়া ও ক্রুনাল পান্ডিয়া – দুই ভাই। ক্রুনালের পকেটে টাকা নাই। হার্ডিকের পকেটে আছে মাত্র ৫ রুপি। ওই ৫ রুপি দিয়েই ম্যাগি নুডলসের মিনি প্যাক কিনে দুই ভাই সেরে ফেললেন সকালের নাস্তা। দুপুরের খাবার জুটলো না তাদের কপালে। পকেটে যে আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।

ওরা একটু বড় হল। সংসারের উপার্জনের কেউই নেই। শুধুমাত্র তারাই দুজন। কোনোক্রমে খ্যাপ খেলে দুই ভাই ৫০০-৫০০ করে আয় করলে সংসারে সামনের এক সপ্তাহের খাবার জোটে।

খ্যাপের ম্যাচগুলো হার্দিককে সবাই দলে চায়। কারণ, সে বিশাল বিশাল ছক্কা মারে।

হার্দিক ও ক্রুনাল পান্ডিয়া

ওর একটাই মাত্রই সমস্যা। সেটা হল আচরণগত! একটু বেশিই মেজাজী ছেলে। যখন যা মন চায় সেটাই করে। এটা যে আসলেই একটা সমস্যা সেটা হার্দিক নিজেও জানতো না। তাই সে ছোটবেলা থেকেই উগ্র মেজাজের। বয়সভিত্তিক দলে খেলাকালীন সময়ে সে প্রায়শই বাদ পড়ত দল থেকে এই একটি মাত্র কারণেই।

তবে, এত কিছুর পরও হার্দিকের ভাগ্য পাল্টে গেল। যার পকেটে একটা সময় ১০ রুপিও থাকতোনা সে কিনা ২০১৫ সালের ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) ১০ লাখ রুপিতে বিক্রি হল! এমনটা কেউ কখনো ভাবতেই পারেনি। বাকিদের কথা আর কি, হার্দিক নিজের কল্পনাতেও এত বড় কিছু ছিল না!

আইপিএলের ম্যাচ। প্রচণ্ড ঘাড়ের ব্যাথায় কাতরাচ্ছে হার্ডিক। সে একদমই ফিট নয়। ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস, একাদশে সুযোগ এল তখনই। যদিও খেলতে চাননি হার্দিক।

ট্রেইনার চ্যাপলেন এসে যেন তাতিয়ে দিয়েই বললেন, ‘খেলতে চাও? নেমে পড়ো। ব্যাথার জন্য খেলাটা মিস করবে? কেউই পাত্তা দিবেনা। পেইন কিলার নাও, খেলতে নামো।’

নেমে পড়লেন পেইন কিলার নিয়ে। দারুণ জয়ের নায়ক হলেন হার্দিক। করেছিলেন ৬ বলে অপরাজিত ১৬ রান। সেখান থেকে আর কখনোই পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে!

কিছু কিছু ব্যাথা এমন মধুর স্মৃতি এনে দেয় যেটা ভোলা যায়না। সেই ব্যাথাটাই হার্দিককে আজকের যায়গায় নিয়ে এসেছে। ২০১৬ সালে স্বয়ং লিটল মাস্টার শচিন টেন্ডুলকারের একটা কথার পরে জীবনের মোড় ঠিক ১৮০ ডিগ্রী ঘুরে গেল হার্দিকের।

শচিন বলেছিলেন, ‘তুমি যেভাবে খেলছো তাতে করে আগামী দেড় বছরের ভিতরে জাতীয় দলে সুযোগ পেলেও পেতে পারো।’ শচিনের কথা সত্যি হয়েছিল। তবে, পুরোপুরি না। দেড় বছর লাগেনি, তার আগেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে অভিষেক হয়ে গেল হার্দিক পান্ডিয়ার। এখন হার্দিককে ছাড়া ভারতীয় দলের কথা ভাবাই যায় না যেন!

আহ! এ যেন সিনেমার মত এক জীবনের গল্প, তাইনা?

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।