বাপজান বিবাহ করিব না, লইজ্জা লাগে!

‘হাবলংগের বাজারে গিয়া দশ টাকা জমা দিয়া আনিও কন্যা কিনিয়া মনে যদি চায়!’

তালুকদার সাহেবের একমাত্র কইন্যা শিরিনের বিবাহ ঠিক হইয়াছে পাশের গ্রামের চেয়ারম্যান একমাত্র পুত্র আব্দুল মজিদের সাথে। এইদিকে শিরিনকে ভালোবেসে একের পর এক পত্র লিখে যায় লজিং মাস্টার, কিন্তু ভয়ে কিছুই বলতে পারে না।

একই গ্রামের জলিল ভাই ও শিরিনকে ভালোবাসে, সেও প্রত্যাখাত হয়। তাঁরা দুইজনই মনস্থির করেন বিবাহের দিন আত্মহত্যা করবেন। আত্মহত্যার উপায়ও বের করেন – একজন বিষ খেয়ে অন্যজন গলায় ফাঁস নিয়ে৷

শিরিনের বিবাহ যে আব্দুল মজিদের সাথে ঠিক হয়েছে তাঁর মাথাও ‘কিঞ্চিৎ’ পাগলাটে। তাঁর বিবাহ করিতে লইজ্জা লাগে, বিয়ের দিন চড়া রোদ উঠায় মাথা গরম হয়ে যাওয়ায় নানান কাণ্ড-কীর্তি ঘটায়। কিন্তু যার বিয়ে সেই শিরিন নির্বিকার। সেই বেশ আনন্দের সহিত নিজের বিবাহের জন্য অপেক্ষা করতেছে, কিন্তু কেন! রহস্যময় ব্যাপার-স্যাপার!

‘দুঃখিত এই নাটকে কোনো শিক্ষামূলক নেই’ – এই শিরোনাম দিয়েই এমন হাস্যরস ভিত্তিক নাটক নির্মাণ করেছিলেন হুমায়ূন আহমেদ। নাটকের নাম – ‘হাবলংগের বাজারে’। পুরো নাটক জুড়েই রয়েছে শুদ্ধ হাস্যরস, কোনো ভাঁড়ামির প্রয়োজন পড়েনি।

শিরিন চরিত্রে যথারীতি অভিনয় করেছেন শাওন, আর তাঁর দুই প্রেমিকের চরিত্রে অভিনয় করেছেন মাহফুজ আহমেদ ও জাহিদ হাসান। তিনজনই ভালো অভিনয় করেছেন। তবে সবাইকে ছাপিয়ে গেছেন পাগল চরিত্রে অভিনয় করা এজাজুল ইসলাম, পুরো নাটকে তিনিই যেন প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠেছিলেন।

‘বাপজান বিবাহ করিব না, লইজ্জা লাগে’ তাঁর মুখে বলা সংলাপটি খুবই জনপ্রিয় হয়েছিল আর তাঁকে যোগ্য সঙ্গ দিয়েছিলেন সালেহ আহমেদ। এছাড়া ছিলেন আতাউর রহমান, ফারুক আহমেদ, শামীমা নাজনীন, স্বল্প সময়ের জন্য আবির্ভূত হওয়া চ্যালেঞ্জারের এটাই ছিল প্রথম নাটক। আর সর্বশেষে এসে চমক দিয়েছিলেন চিত্রনায়ক রিয়াজ।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।