সুন্দরী প্রতিযোগিতা এবং ভাগ্যখেলার গল্প

আজ ধানমন্ডির H₂O রেস্টুরেন্টের দুই ওয়েটার খাবার পরিবেশনের চাপ সামলাতে না পেরে দুইজনই নিজেদের দিকে বারবার ভ্রুকুচকে তাকাচ্ছে। আরেহ কাহিনী কি, আজ এতো এতো কাস্টমার?! আশেপাশে বড় কোনো প্রোগ্রামটোগ্রাম হল নাকি! ব্যাপারটা ঠিক তারা বুঝতে উঠতে পারছে না। তবে বসের সাথে আলাপ করলে হয়তো আসল কাহিনী জানা যাবে। এতোটাই চাপ, বসের সাথে আলাপ করার সময়ও বের করতে পারছে না! বসকেও আজ খুব ব্যস্ত দেখাচ্ছে।

দেখা যাবে আসল কাহিনীটা শুনে আনন্দ হওয়ার চেয়ে তাদের মন খারাপ বেশি হবে। কাস্টমার বাড়লে বসেরই লাভ, তাদের বরং ক্ষতিই। পরিশ্রম বহুগুণ বেড়ে যাবে। যদি কাস্টমার বাড়ার সাথে তাদের বেতনও বাড়ে তাহলে পুরো ঘটনায় তারা উচ্ছাস্বিত হওয়ারই কথা। বেশ আনন্দিত হবেন। সুন্দরীকে মন থেকে ধন্যবাদ দিয়ে শেষ করতে পারবেন না। এই ঋণ ধন্যবাদ দিয়ে শোধ করা যায় না। তবে কখনো সুন্দরীকে সামনে পেলে রেস্টুরেন্টে একটা বড়সড় ট্রিট পার্টির আয়োজন তো করা যায়।

রেস্টুরেন্টের মালিককেও কঠিন আনন্দিত মনে হচ্ছে আজ। কপাল খুললো। ভাগ্য কার কপালে কিভাবে হেসে উঠে বলাই বাহুল্য। তিনি ব্যাপারটা ইতিমধ্যে জেনে গেছেন। অনলাইনে নিজে তো জানলেনই, কয়জন কাস্টমারও ব্যাপারটা তার সাথে শেয়ার করে হাসাহাসি করলো।

অনলাইন মার্কেটিং নিয়ে তিনি আগ্রহী ছিলেন না, একটা ফেসবুক পেইজ খুললেও সেটাতে নিয়মিত কন্টেন্ট পাবলিশ করা হয় না। পেজটা এভাবেই পড়ে আছে দীর্ঘদিন। ট্রাডিশনাল স্ট্রাটেজি এবং গুরত্বপূর্ণ জায়গা বেছে নিয়ে তিনি ভালোভাবেই রেস্টুরেন্ট ব্যবসা চালাচ্ছেন হয়তো। কাস্টমার পাচ্ছেন। এইজন্য হয়তো ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে আগ্রহী হননি তিনি, গুরত্ব বুঝতে পারেননি। তবে আজ টের পেয়েছেন ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের শক্তি নিয়ে। এখন থেকে এই সুযোগ তিনি আর হারাতে চান না।

মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশের গ্র্যান্ড ফিনালে ভুল উত্তর দেয়া সুন্দরী মেয়েটিকে তিনি অন্তর থেকে বারবার ধন্যবাদ দিচ্ছেন। যে ধন্যবাদে ভেজাল নেই। মেয়েটার সাথে এই মুহূর্তে দেখা করা যায়, গল্প করা যায়। তার এমন দুঃসময়ে তাকে মানসিক সাপোর্ট করা দরকার। তার জন্য সবসময় রেস্টুরেন্টে ফ্রি আপ্যায়নের সুযোগ করার আইডিয়া আঁটচেন তিনি। সেটা ফেসবুকেও জানাবেন, আবার আলোচনায় আনা যাবে।

তিনি মনে করছেন এই মেয়েটি তাদের রেগুলার কাস্টমার, নাহয় এমন সময়ে তার রেস্টুরেন্টের নাম মনে করতে পারলোই বা কিভাবে সে! নিয়মিত কাস্টমার না হলে এই উত্তর দেয়া সম্ভব না। মেয়েটি তার ভাগ্য খুললো, লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করলেও রেস্টুরেন্টের এমন পাবলিসিটি হয় না। মেয়েটা এক ভুল উত্তরে যেটা করে দিল! রিয়েলি অ্যাপ্রেশিয়েট ইট। তাকে আজীবন মনে রাখতে হবে।

এদিকে H₂O রেস্টুরেন্টের মালিকের মত মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশের আয়োজক প্রতিষ্ঠান অন্তর শোবিজের কর্ণধার স্বপন চৌধুরীকেও আজ বেশ উৎফুল্ল মনে হচ্ছে। ফুরফুরা মেজাজে আছেন তিনি। এই আনন্দ কিংবা ফুরফুরা মেজাজ যতটা না সফলভাবে আয়োজন শেষ করতে পারার, তার চেয়ে মানুষের সমালোচনা এবং এতো এতো আলোচনাকে ঘিরে। কারণ আলোচনা – সমালোচনা যতই হবে ততোই তাদের লাভ। তাদের আয়োজনের প্রমোশন।

গেল বছর এভ্রিল বিতর্কে তাদের প্রায় পাঁচ কোটি টাকার পাবলিসিটি হল, যেটা তিনি নিজের মুখেই বলেছেন। এবারও প্রতিযোগীর ভুল উত্তর দেয়া H₂O প্রসঙ্গ যেভাবে মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশকে নিয়ে পাবলিসিটি করে বেড়াচ্ছে, তাতে তিনি মন খারাপ করে থাকতে পারেন? অবশ্যই না। তিনি ভাবছেন, পাবলিক তাদের বোকা মনে করলেও; আসল বোকা কিন্তু পাবলিকই!

[ নিতান্তই কল্পনাপ্রসুত লেখা। এর সাথে বাস্তবতার কোনো মিল থাকলে সেটা কাকতাল মাত্র]

 

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।