রহস্য-রোমাঞ্চের সন্ধানে

প্রাচীন গুপ্তধন যাতে সঠিক হাতেই সুরক্ষিত থাকে তার জন্য মোট চারটি চিঠিতে হরিনারায়ণ সিংহ (অভিনয়ে গৌতম ঘোষ) মহাশয় তার উকিল ভাগ্নে আবিরের জন্য ধাঁধা লিখে যান। ধাঁধাগুলো মন্দ নয় সেগুলোর ব্যাখাও বেশ ভালোভাবেই করা হয়েছে তবে এই ছবিতে সব কিছু আমার মতে ভালোভাবে ব্যাখা করা হয়নি। অন্তত থ্রিলার ছবিতে দর্শকরা সব কিছু বুঝে ফেললেও সব কিছুরই একটা ব্যাখার প্রয়োজন আছে বৈকি। ছবির নাম ‘গুপ্তধনের সন্ধানে’।

হরিনারায়ণের মৃত্যুর জন্য কে দায়ী এবং সেটা কীভাবে হলো তা কিন্তু খোলাখুলি কোথাও বলা বা দেখানো হয়নি। আমরা দর্শকরা একটি দৃশ্যের মাধ্যমে শুধুমাত্র অনুমান করে নিই। গোপালভোগ দেওয়ার সময় পুরোহিতবাবু যখন আবির ও সুবর্ণ সেনকে বললেন ‘গলায় কণ্ঠি। রাত বাড়ছে’ এর অর্থ একটা ছিল কিন্তু সেটাও ব্যাখা করতে দেখলাম না কোথাও। ছবির প্রথমার্ধে হঠাৎ একটি গানের দৃশ্য দেওয়ায় একটু ধীর গতি হয়ে যায় এই ছবি।

তবে ছবির দ্বিতীয়ার্ধ কিন্তু টানটান ছিল। একবারও কোথাও ধীর গতি বা বিরক্তিকর লাগেনি। ছবিতে সবচেয়ে বেশী ভালো অভিনয় করেছেন আবিরের চরিত্রে অর্জুন চক্রবর্তী। গোটা ছবিতে খুব হাসিয়েছেন ও দর্শকদের মন জয় করেছেন।

আবিরের সঙ্গে তার কাকা সুবর্ণ সেন ওরফে সোনা দার রসায়নটা খুব ভালো লাগে। বাংলা গোয়েন্দা বা অ্যাডভেঞ্চারের ছবিতে আবির চট্টোপাধ্যায় প্রত্যেকবারই দারুণ অভিনয় করেন। এই ছবিতে সোনা দার চরিত্রেও বলাই বাহুল্য খুব ভালো অভিনয় করেছেন তিনি। এই ছবিতে বিরতির ঠিক আগে থেকে ছবির শেষ পর্যন্ত দশানন দাঁ এর চরিত্রে রজতাভের অভিনয় দারুণ লেগেছে। ঝিনুকের চরিত্রে ইশা সাহা খুব ভালো অভিনয় করেছেন এবং মিষ্টি লেগেছে। সাপের সঙ্গে একটি দৃশ্য খুব ভালো ফুটিয়ছেন।

এই ছবির শুরুতে ইতিহাস বর্ণনা দেওয়ার সময় যে গ্রাফিক্সের কাজ দেখানো হয়েছে তা বেশ ভালো লাগে ও শেষ দৃশ্যে শেষ ধাঁধার সমাধানের জন্য যে দৃশ্যগুলি পরপর দেখানো হয়েছে তা সত্যি চমৎকার। এই ছবিতে দু’টি জিনিস আমার বেশ মজা লাগে।

এক আবির চট্টোপাধ্যায় নিজের নামটাই বারবার ডাকছিলেন আসলে তার ভাইপোর নাম যে এই ছবিতে আবির আর শেষ দৃশ্যে একই ফ্রেমে বাংলার দুই বড় পরিচালককে অভিনয় করতে দেখতে পেয়ে। আবিরের পিতা ও সুবর্ণ সেনের দাদার চরিত্রে অরিন্দম শীল ও ঝিনুকের পিতা অখিলেশের চরিত্রে কমলেশ্বর।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।