গুমনামী: নেতাজীর অন্তর্ধান রহস্য ও তিন সমাধান

নেতাজী – এই শব্দটা শুনলেই মাথায় প্রথমে কি আসে? ২৩ জানুয়ারি। ভারতীয়দের একটা ছুটির দিন। বাড়ীতে বসে ল্যাদ খাওয়া কিংবা হয়ত বন্ধুদের সাথে একটা দিন রেস্টুরেন্টে বসে উপভোগ করা। ব্যস এইটুক পর্যন্তই!

এখনকার অনেক ভারতবাসী ‘নেতাজী’ বলতে শুধু তাই বোঝে। যে মানুষটা দেশের জন্য এত লড়াই করলেন তাঁর স্মৃতিচারণ করার এতটুকুও প্রয়োজনবোধ বলে অনেকেই মনে করে না। আমরা কতটা স্বার্থপর হয়ে গেছি, তাই না?

এই ‘গুমনামী’ ছবি শুধুমাত্র আমাদের মানসিকতাকে আঙুল দিয়ে দেখায় না বরং জীবনের কঠিন থেকে কঠিনতম লড়াইয়ে ওনাকে আদর্শ মেনে চলা উচিৎ শেখায়। আমরা কত অল্পতেই অনেক সময় হার স্বীকার করেনি আর নেতাজী প্রায় ৩০ বছর ধরে ইংরেজ সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে লড়ে গেছেন।

ছবিতে বিশেষ করে নেতাজী বা গান্ধীজী এমনকি লিলা রায়ের যৌবন ও বার্ধ্যক্যের অর্থাৎ প্রত্যেকেরই মেক আপ দুর্দান্ত। আবারও কুর্ণিশ জানাই সোমনাথ কুন্ডুকে। আবহ সংগীত শুরু থেকেই গায়ে কাঁটা দেয়।

এই ছবির সৌজন্যে প্রসেনজিত চট্টোপাধ্যায়-কে এক অন্য রূপে পেলাম। ধন্যবাদ জানাই পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায় মহাশয়কে। শ্রী অনির্বাণ ভট্টাচার্য ও শ্রীমতী তনুশ্রী চক্রবর্তী কে স্বামী-স্ত্রীর রূপে কেমিস্ট্রি দুর্দান্ত লাগে। সংলাপ ও এই ছবির বেশ ভালো।

ছবিতে বেশ অন্য রকম ক্যামেরার কাজ দেখে মুগ্ধ হলাম তবে মুখার্জী কমিশনের অধিবেশন চলাকালীন বেশ কিছু দৃশ্যে ক্যামেরা অদ্ভূতভাবে নড়ে যাওয়ায় দর্শক আসনে বসে দেখতে একটু অস্বস্তি লাগে। সিনেমা সমালোচকরা বলতেই পারেন যে চন্দ্রচূঢ়ের চরিত্রে অনির্বাণকে নেতাজীর অন্তর্ধান রহস্য ভেদ করতে গিয়ে বড্ড বেশি মাত্রায় প্যাশনেট দেখিয়েছে। কিন্তু কার্যসিদ্ধি তো তখনই হয় বলুন যদি সে প্যাশনেট হয়। সেই জন্যই তো নেতাজী সম্বন্ধে আমাদের সামনে এক নতুন তথ্য এত সহজে হাতের মুঠোয় চলে আসে।

এই ছবিতে নেতাজীর অন্তর্ধানের তিনটা সম্ভাবনার দৃশ্যই তুলে ধরা হয়েছে, কোনটা সত্যি আর কোনটা মিথ্যা কোনোটাই কিন্তু দর্শকদের উপর চাপিয়ে দেওয়া হয়নি। আমি আমার মনে একটি ঘটনাকেই সত্য ভেবে, বিশ্বাস করে চলব আজীবন তবে কোন সত্যটা আপনারা মেনে চলবেন সেটা তো সম্পূর্ণ আপনাদের উপরেই নির্ভর করছে। এই ছবি অবশ্যই দেখবেন। না হলে একটা খুব বড় প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হবেন বলেই আমি বিশ্বাস করি।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।