গালি বয়, ফিল্মফেয়ার বিতর্ক ও বলিউডের ‘পেইড অ্যাওয়ার্ড’ কালচার!

বলিউডে তারকা পরিবারগুলোর প্রভাবের ব্যাপারে নতুন করে কিছু বলার নেই। এদের নির্লজ্জ ক্ষমতা চর্চার কারণে দিনশেষে সৃজনশীলতার জয় অসম্ভবই হয়ে পড়ে। ‘গালি বয়’ মানসম্পন্ন নয়, সেটা হয়তো কেউ বলবে না। কিন্তু এটাই কি বছরের একমাত্র যোগ্য ছবি ছিল? নাকি আখতার পরিবারের সম্পত্তিকে সেরা প্রমাণ করতে কর্তৃপক্ষের আগ্রহের পরিমান একটু বেশীই ছিল?

‘ফিল্মফেয়ার’ পুরস্কারকে ঘিরে রাজনীতি’র সূচনা বহু আগে থেকেই। পেইড অ্যাওয়ার্ডের কালচার বলিউডের একদম গোড়ার সাথেই মিশে আছে। আমির খানের মতো জীবন্ত কিংবদন্তীই যার প্রমাণ। ঋষি কাপুরও অর্থের বিনিময়ে ফিল্মফেয়ারে ‘ববি’ ছবির জন্য সেরা অভিনেতার পুরস্কার জিতেছিলেন। বছরের পর বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে বিতর্কের জন্ম দেওয়া এই পুরস্কারই বলিউডের অস্কার, এটা আসলে ইন্ডাস্ট্রির দুর্ভাগ্যই। ‘‘ইন্সপায়ার্ড’ এর অভিযোগে অস্কার জোটেনি কপালে, তাই দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানোর যে তরিকা বেছে নিলো আখতার পরিবার ও ফিল্মফেয়ার, সেটা গালি বয়ের যোগ্যতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে দিন শেষে।

আলিয়া’র চরিত্রটি কোন বিচারেই অন্য নমিনিদের চাইতে সেরা ছিল না, সেটা আলিয়া’র অতি অন্ধ ভক্ত বাদে সবাই স্বীকার করবে। কঙ্গনা রনৌতকে অপছন্দ করলেও তাঁর নেপোটিজম সংক্রান্ত বক্তব্য মিথ্যে নয়। একইভাবে সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রীর চরিত্রেও ডিজার্ভিং কেউ জিতেননি। ‘তেরি মিট্টি’ কিভাবে পুরষ্কার পায় না, সেটাও বোধগম্য হয়নি। যদিও ‘আপনা টাইম আয়ে গা’ ট্রেন্ডিং ছিল। সেটা ‘বেখেয়ালি’ও ছিল। ট্রেন্ড যদি সেরা বিচারের মানদণ্ড হয়, তাহলে কিছু বলার নেই।

রণবীর সিংয়ের অভিনয় নিয়ে প্রশ্ন তোলার অবকাশ নেই। র‍্যাপগুলো ভালো ছিল। তবে ‘সুপার থার্টি’ বা ‘কবির সিং’ এর মতো বেটার পারফর্মেন্স যেখানে আছে, সেখানেও গালি বয়-কে বেছে নেওয়াটা ফিল্মফেয়ারের চকচকে মুখোশের আড়ালে কালো চেহারাই ফুটিয়ে তোলে।

বিতর্কের জন্ম হয় হারিয়ে যাওয়ার জন্য। তবে তার রেশ থেকে যায়। পরিবারকেন্দ্রিক রাজনীতির নোংরা ক্ষমতার চর্চা থেকে ইন্ডাস্ট্রি’র আদৌ মুক্তি ঘটবে কি কোনদিন? আজকের দিনে এই প্রশ্ন অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক হলেও তার উত্তরের খোঁজ হয়তো অজানাই থেকে যাবে।

যদিও, একই সাথে এটাও ঠিক যে শিল্প ব্যাপারটাই আপেক্ষিক। একটা ছবিকে একেকজন একেক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখবেন – সেটা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু, তারপরও ‘গালি বয়’-এর সবগুলো পুরস্কার বাগিয়ে নেওয়াটা একটু বেশিই দৃষ্টিকটু। একটা-দু’টো নয় ১৩ টা পুরস্কার। এটা অভাবনীয়, অবিশ্বাস্য, অকল্পনীয় তো বটে, একই সাথে অনৈতিকও!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।