আমাদের অসামান্য হয়ে ওঠার দিন

কতশত বার সামান্য একজনের অসামান্য হয়ে ওঠার দিনে বাংলাদেশে ম্যাচ হেরেছে। শিরোপার স্বপ্ন বিসর্জন দিয়েছে ছয়বার। এবার আর হল না। এবার যে পুরো বাংলাদেশ দলেরই অসামান্য হয়ে ওঠার দিন ছিল। আজ অসামান্য হয়ে ওঠার দিন ছিল মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের।

বিশ্বকাপে সব ঠিক থাকলে হয়তো একাদশেও ঠিকঠাক জায়গা হবে কি না, বলা মুশকিল। এমনকি আজো যদি, সাকিব আল হাসান খেললে হয়তো মাঠের বাইরে থেকেই ফাইনালটা দেখতে হত মোসাদ্দেককে।

কিন্তু, নিয়তি অন্যরকম ভাবে দিনটা লিখে রেখেছিল তাঁর জন্য। আজ যে তিনি মাঠে নেমেছিলেন বাংলাদেশের নায়ক হবার জন্য।

২৪ বলে অপরাজিত ৫২ রানের ইনিংস খেললেন; পাঁচটা ছক্কা আর দু’টি চার হাঁকালেন;  ২২ তম ওভারে ফ্যাবিয়ান অ্যালেনের ওভারটায় ২৫ রান তুলে মুহূর্তের মধ্যে বাংলাদেশকে নিয়ে গেলেন চালকের আসনে, বাংলাদেশের ওয়ানডের ইতিহাসে তৃতীয় দ্রুততম হায় সেঞ্চুরি করলেন; প্রথমবারের মত বাংলাদেশকে এনে দিলেন কোনো বহুজাতিক টুর্নামেন্টের শিরোপা। এমন চাপের মুখে এতটা ঠাণ্ডা মেজাজে এমন খুনে ব্যাটিং আগে কবে কোন বাংলাদেশি করেছেন, সেটা হয়তো অনেক খুঁজেও পাওয়া যাবে না।

সেই শিরোপাটাও আসলে বিরুদ্ধ কন্ডিশনে, সাত সমুদ্র তের নদীর ওপারে আয়ারল্যান্ডের ম্যালাহাইডে। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে পাঁচ উইকেটে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হল বাংলাদেশ। সাত বল বাকি থাকতেই তীরে ভিড়লো তরী। নয় বছরের অপেক্ষার অবসান হল এই ট্রফি জয়ের মধ্য দিয়ে। এই শিরোপা থেকে শুরু হোক আরো অসংখ্য শিরোপা পাওয়ার শুভযাত্রা।

ম্যাচটা ছিল ঘটনাবহুল। ডাকওয়ার্থ-লুইস আইনে ফাইনাল ম্যাচ জয়ের জন্য ২৪ ওভারে ২১০ রানের লক্ষ্য পায় বাংলাদেশ। ইনিংসটাকে দু’ভাগে ভাগ করা যায়। প্রথম ভাগের নায়ক সৌম্য, দ্বিতীয় ভাগের মোসাদ্দেক। ওপেনার সৌম্য সরকারের ৪১ বলে ৬৬ রানের ইনিংসটা ভিত গড়ে দেয়। ইনিংসে ছিল নয়টি চার ও তিনটি ছক্কা। সেই ভিতে দাঁড়িয়ে শিল্পীর তুলির শেষ আঁচড়ের মত ম্যাচ শেষ করে ফিরেন মোসাদ্দেক।

এর আগে ডাবলিনে অনুষ্ঠিত ৫০ ওভারের ম্যাচের ফাইনালে টস হেরে প্রথমে ফিল্ডিং বেছে নেয় বাংলাদেশ। ব্যাট হাতে নেমে ২০.১ ওভারে বিনা উইকেটে ১৩১ রান করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এরপর বৃষ্টির কারনে বন্ধ হয়ে যায় খেলা। দীর্ঘক্ষণ খেলা বন্ধ থাকায় ডাকওয়ার্থ-লুইস নিয়ম শেষ পর্যন্ত ফাইনাল ম্যাচটি ২৪ ওভারে নির্ধারন করা হয়।

এর আগে ২৪ ওভারে ১ উইকেটে ১৫২ রান করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ওপেনার শাই হোপ ৭৪ রান করে বাংলাদেশের স্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজের বলে আউট হন। তবে আরেক ওপেনার সুনীল অ্যামব্রিস ৬৯ ও ড্যারেন ব্রাভো ৩ রানে অপরাজিত থাকেন। ৪ ওভারে ২২ রানে এক উইকেট নেন বাংলাদেশের মিরাজ। এরপর শুরু হয় অতিমানবীয় এক লক্ষ্যে দুর্বার এগিয়ে যাওয়ার স্মরণীয় লড়াই।

বিশ্বকাপ শুরু হতেই হয়তো সাকিব ফিরবেন, মোসাদ্দেক একাদশেই থাকবেন না। আজ যেমন ছিলেন না আগের ম্যাচেই পাঁচ উইকেট পাওয়া আবু জায়েদ রাহী। তবুও, ইতিহাসে আজ থেকে লেখা হয়ে যাবে মোসাদ্দেকের নাম। এই দিনটিই বাংলাদেশের ইতিহাসে সোনার অক্ষরে লেখা হয়ে থাকবে। বাংলাদেশ ক্রিকেটে এমন দিন আসুক বারবার!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।