ওপার বাংলার, এ পারেরও

জন্ম তাঁর বাংলাদেশের ফরিদপুরে, তবে বেড়ে উঠেছেন কলকাতায়। আর তাই এই বাংলার প্রতি টান থেকে গেছে সব সময়ই। এই বাংলাকে কেন্দ্র করে বানিয়েছেন সিনেমা। দুই বাংলার যৌথ প্রযোজনার সুবাদে আমাদের দেশের জন্য বানিয়েছেন তিনটি সিনেমা, সবক’টা সিনেমাই আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে বিশেষ স্থান করে নিয়েছে। সঠিক ভাবে নিয়মমত যৌথ প্রযোজিত সিনেমার তালিকা করলে তাঁর সিনেমাগুলিই সর্বাগ্রে থাকবে।

জন্ম ১৯৫০ সালের ২৪ জুলাই। বাবার নাম হিমাংশু কুমার ঘোষ ও মায়ের নাম সান্ত্বনা ঘোষ। বাবা ছিলেন অধ্যাপক। গ্রামের বাড়ি ছিল ভাঙা আলগীর ও শহরের বাড়ি ফরিদপুরে। বাবা-কাকারা ফরিদপুরের রাজেন্দ্র কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যান। মা সান্ত্বনা ঘোষের পূর্বপুরুষের ভিটেও বিক্রমপুরে। ১৯৪৭ সালের দেশ ভাগের সময় পুরো পরিবার চলে আসেন কলকাতায়। গৌতম ঘোষ কলকাতার সেন্ট জন ডায়সেসান স্কুল এবং ক্যাথিড্রাল মিশনারি বয়েজ স্কুল-এ পড়ালেখা করেছেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষ করেছেন।

১৯৯৩ সালে মানিক বন্ধ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মাণ করেন ‘পদ্মা নদীর মাঝি’। ছবিটি দুই দেশেই ব্যাপক প্রশংসিত ও জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত। পাশাপাশি ইউনেস্কো থেকেও পুরস্কার পেয়েছিল এই ছবি। গৌতম ঘোষ ভারতে এই ছবির জন্য নির্মাতা হিসেবে প্রথমবারের মত জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিলেন।

বাংলাদেশে ছবিটি সেরা চলচ্চিত্রসহ মোট পাঁচটি পুরস্কার পেয়েছিল। এই সিনেমার অন্যতম দুই প্রধান শিল্পী রাইসুল ইসলাম আসাদ ও চম্পা এই সিনেমার মাধ্যমে নিজেদের আর্ন্তজাতিক ভাবে পরিচিত হয়েছিলেন। পাশাপাশি নিজেদের একটা বিশেষ জায়গা করে নিয়েছেন।

ফকির লালন শাহর জীবনী থেকে অনুপ্রানিত হয়ে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের উপন্যাস অবলম্বনে ২০১০ সালে নির্মাণ করেন ‘মনের মানুষ’। আলোচিত এই ছবিটি দুই দেশেই বিভিন্ন শাখায় জাতীয় পুরস্কার লাভ করে। লালন শাহ চরিত্রে অভিনয় করে ক্যারিয়ারে বিশেষ মাত্রা যোগ করেছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। সঙ্গে চঞ্চল চৌধুরীও নিজ চরিত্রে দুর্দান্ত অভিনয়ের জন্য সমাদৃত হয়েছিলেন।

দেশভাগের বিভীষিকা নিয়ে আধুনিক প্রেক্ষাপটের ছবি ‘শঙ্খচিল’। ২০১৬ সালে নির্মিত এই ছবিটি ভারতের সেরা বাংলা সিনেমার জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিল। পাশাপাশি বাংলাদেশে পেয়েছে একাধিক জাতীয় পুরস্কার।

১৯৮০ সালে তেলেগু সিনেমা ‘মা- ভূমি’ দিয়ে নির্মাতা হিসেবে অভিষেক। বলিউডে তিনি চিরকাল অম্লান থাকবেন নিজের ক্যারিয়ারের সেরা ছবি ‘পার’-এর জন্য। এটি হিন্দি সিনেমার ইতিহাসে অন্যতম বিখ্যাত ছবি হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। সেরা ছবি সহ বিভিন্ন শাখায় জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিল। প্রথম বাংলা ছবি ‘অর্ন্তজলী যাত্রা’। এছাড়া তাঁর পরিচালিত অন্যান্য সিনেমার মধ্যে দখল,আবার অরণ্যে, কালবেলা, পতঙ্গ অন্যতম। নির্মানের বাইরে বাইশে শ্রাবন, চতুষ্কোন, একলা আকাশে অভিনয় করেছিলেন।

সম্প্রতি খবর এসেছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বহুল প্রতীক্ষিত বায়োপিক বানানোর জন্য সম্ভাব্য পরিচালকদের তালিকায় নাম আছে গৌতম ঘোষের। আশা করা যায়, সিনেমাটি বানাতে গিয়ে আরেকবার তিনি নিজের মুন্সীয়ানার পরিচয় দেবেন।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।