পায়ে নাচের জুতো, হাতে বক্সিং গ্লাভস – আমি প্রস্তুত!

শৈশবে বিয়ের অনুষ্ঠান মাত্রই আমার নাচ শুরু হয়ে যেত। আমার আনুষঙ্গিক কিছু লাগতো না, কেবল গান হলেই চলতো। বাবা-মা আমাকে পারিবারিক কোনো বিয়ের দাওয়াতে নিয়ে যেতে কার্পণ্য করতো না, কারণ এসব জায়গায় গেলেই আমি মন খুলে নাচতাম। এটা আমি খুবই ভালবাসতাম!

এমনকি আমি স্কুলের প্রোগ্রামগুলোতেও পারফরম করতাম, প্রতিযোগীতায় অংশ নিতাম। কলেজে গিয়ে যখন কোরিওগ্রাফি সোসাইটিতে যোগ দিলাম, তখন তো আর কথাই নেই। রোজ আমি আট ঘণ্টা সময় নেচে বেড়াতাম!

এতটাই প্যাশনেট ছিলাম আমি – যদিও আমার সত্যিকারের স্বপ্ন ছিল অভিনয় করার।

যদিও, দিল্লীতে নিজের বাসায় আমি এই কথাটা কখনো স্বীকার করিনি। কারণ, ভাবতাম সবাই হয়তো আমার কথাটা হেসেই উড়িয়ে দেবে। চাইতাম না, সবার হাসিতে আমার স্বপ্নটা নষ্ট হয়ে যাক। যদিও, আমি ভাবতাম নাচতে নাচতেই আমার সামনে অভিনয়ের সুযোগ আসবে।

তাই আমি ড্যান্স ইন্ডিয়া ড্যান্স রিয়েলিটি শো-তে অংশ নিলাম। সেরা ১০০-তেও পৌঁছে গেলাম। তবে, এরপরই আমাকে চলে আসতে হল। কারণ, আমার জীবনের গল্পটা ওদের কাছে শক্ত কিছু মনে হয়নি। তখন থেকে নিজের সামর্থ্যের ওপরই সন্দেহ হতে শুরু করলো। মনে হল, পারফরম করে কোনো লাভ নেই।

রিয়েলিটি শো আমাকে ফিরিয়ে দিলেও, সেবারই আমি মুম্বাই আসার সুযোগ পেয়েছিলাম। ফলে, অনেক কিছুই করার সুযোগ ছিল। শেষ মেশ বাবাকে বলেই দিলাম যে, আমি অভিনয়ে ভাগ্যের সন্ধান করতে চাই। আমাকে অবাক করে দিয়ে বাবাও সমর্থন দিলো।

তো, এবার শুরু হল আমার অডিশন দেওয়ার পালা। তবে, এটা খুব কঠিন ছিল। আমি একটা অ্যাপার্টমেন্টে ছয়জন রুমমেটের সাথে থাকতাম। যখন যে যার মত কাজে চলে যেত, তখন আমাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা একা থাকতে হতো। স্রেফ বসে থাকতে হত। এটা আমাকে ভেঙে দিচ্ছি, তল্পিতল্পা গুটিয়ে বাড়ি ফেরার কথা ভেবেও ফেলেছিলাম।

তখনই আমি নিজের পারফরম্যান্সের কথা ভাবি, নিজের স্বপ্নের কথা ভাবি। আস্তে আস্তে আমি সব বুঝতে শুরু করি। কাস্টিং ডিরেক্টরদের সাথে যোগাযেগ হয়। কিছু বিজ্ঞাপনে কাজ করি। এমনও মাস গেছে যখন আমার হাতে কোনো কাজ ছিল না, ব্যাংক ব্যালান্স থেকে নিজের কপাল ঠুঁকতে ইচ্ছা হত।

তবে, আমি হাল ছাড়িনি। বিজ্ঞাপনের জগতে এক বছরে আমি ১০ টার মত বিজ্ঞাপন করি। কখনো নিজের আত্মসম্মান বিসর্জন দেইনি। আমি নিজের কাছে কথা দিয়েছিলাম, কখনো ভরসা হারাবো না।

এর ঠিক কয়েক মাস পরই আমি আমার প্রথম সিনেমা ‘দাঙ্গাল’-এর অডিশনের জন্য ডাক পাই। মনে আছে, অডিশনের সময় আমার সাথে আরো ৩০ জন মেয়ে ছিল। তখনই মন বলছিল, আমাকেই নেবে। ‘বিহাইন্ড দ্য সিন’-এর ভিডিওতেও দেখা যায় আমি বলছি – ‘অবশ্যই আমি এই ছবিটা করবো’ – এতটাই আত্মবিশ্বাসী ছিলাম আমি। সেটাই শেষ অবধি সত্যি হল – রোলটা আমিই পেলাম!

সেসব দিনের তাড়াহুড়া, অনুভূতি গুলো আমি কখনোই ভুলবো না। সব কিছুই শেষ পর্যন্ত সার্থক হয়েছে। একদম শৈশব থেকেই আমি পারফরম করতে ভালবাসি, এখন বড় পর্দায় পারফরম করছি, সেটাও ভালবাসছি।

সেদিন থেকে এখন অবধি আমি যতগুলো রোল করেছি, কখনো নিজেকে সন্দেহ করিনি। আমি জানি আমি এখনো শিখছি। কেউই তো পারফেক্ট নয়, কিন্তু এর অর্থ তো এই নয় যে আপনি হাল ছেড়ে দেবেন। এটা সবে শুরু হল – আরো অনেক কিছু করার আছে। পায়ে নাচের জুতো, হাতে বক্সিং গ্লাভস – আমি প্রস্তুত!

_______________

হিউম্যান্স অব বোম্বে’-তে নিজের অভিজ্ঞতার কথা লিখেছেন ‘দাঙ্গাল’ কিংবা ‘বাধাই হো’- তে নিখুঁত অভিনয় করা সানিয়া মালহোত্রা।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।