বিদায় প্রফেসর

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে যুগে যুগে অনেক রথী মহারথী ম্যানেজাররাই কোচিং করিয়েছেন। স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনকে তো অনেকে সর্বকালের সেরা কোচ/ম্যানেজারই ভাবে। মরিনহো, লুই ফন গাল, আনচেলেত্তি, কন্তে, লুইস ফেলিপ স্কলারি, ক্লদিও রানেয়ারি কিংবা বর্তমানের পেপ – নামে কিংবা অর্জনে কেউ কাউকে ছাড় দেবে না।

ইউরোপে কোচিং করালে সেরার প্রতিযোগীতায় এগিয়ে যাবার জন্য একটা অলিখিত শর্ত হচ্ছে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতা। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ না জেতা মানেই যে সে সেরা দের কাতারে পড়বে না বিষয়টা তেমন নয় তবে জিতলে এগিয়ে যাবে অনেকখানিই।

তবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ তো অনেকেই জেতে। এটা বাদেও আরো কিছু রেকর্ড আছে যা খুব কম ম্যানেজারই স্পর্শ করতে পেরেছে। সেটা হচ্ছে লিগে পুরো মৌসুম অপরাজিত থাকা। ইউরোপের লিগ গুলোতে ম্যাচ হয় ৩৮ টা, বছরজুড়ে অপরাজিত থাকা মোটামুটি অসম্ভবের পর্যায়ে পড়ে।

খেলোয়াড়ি জীবনে

যে কাজটা করা সম্ভব সেটাকে অসম্ভব বলা যায় না তবে যেটা অর্জন করা অসম্ভবের কাছাকাছি সেটাকে ‘খুব কঠিন কাজ’ হিসেবে আখ্যায়িত করা যেতেই পারে। এরকম একটা ‘খুব কঠিন কাজ’ ই হচ্ছে ইংলিশ লিগে অপরাজিত থেকে মৌসুম শেষ করা। এমনকি অন্যান্য ইউরোপের লিগের চেয়েও এটা ইংলিশ লিগে ঘটানো কঠিন। এর কারণ হচ্ছে ইংলিশ লিগে দলগুলোর মাঝে শক্তির ব্যবধান খুবই কম। যে দলটা চ্যাম্পিয়ন হয় সেই দলটাও অনেক সময় রেলিগেশনে ধুকতে থাকা দলের বিপক্ষে বিশাল ব্যবধানে হারে।

কাজটা কতটুকু কঠিন সেটা একটি মাত্র তথ্যের মাধ্যমেই আপনি ধারণা করতে পারবেন। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে এই ঘটনাটা ঘটেছে মাত্র দুই বার। প্রথম ঘটনাটা ১৮৮০ সালে, প্রেস্টন নর্থ এন্ডকে নিয়ে এই অসাধ্যটা করতে পেরেছিলেন কোচ উইলিয়াম সুডেল, পরের ঘটনাটা ২০০৪ সালের। সেবার আর্সেনালকে সাথে নিয়ে করেছেন আর্সেন ওয়েঙ্গার।

ক্যারিয়ারে মাত্র তিনটি প্রিমিয়ার লিগ জিতেছেন, এর মাঝেই একবার অপরাজিত ভাবে। সেটার পর আর কখনো লিগ চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি আর্সেনালকে নিয়ে। তবে এফ এ কাপ আর কমিউনিটি শিল্ড জিতেছেন সাতটি করে।

যৌবনে

আর্সেনের একটা অন্যতম গুণ হচ্ছে মিডিওকার খেলোয়াড়দেরকে গ্রেটের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া। প্রিমিয়ার লিগের সেরা ম্যানেজার হয়েছিলেন ১৯৯৮, ২০০২ আর ২০০৪ সালে। এছাড়া ‘Onzr d’ or’ এর বর্ষসেরা কোচের পুরষ্কার পেয়েছেন ২০০০,২০০২, ২০০৩ আর ২০০৪ সালে।

একটা আক্ষেপ থাকতে পারে যে কখনোই চ্যাম্পিয়ন্স ললিগ জেতা হয়নি। সম্ভাবনা জেগেছিল ২০০৬ সালে, আর্সেনালের ইতিহাসের প্রথম এবং এখন পর্যন্ত একমাত্র চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনাল। মুখোমুখি হয়েছিলেন রোনালদিনহোর বার্সালোনার আছে। ম্যাচের ১৮তম মিনিটেই দলের গোলকিপার লেহম্যান লাল কার্ড খেলে ১০ জনের দলে পরিণত হয় আর্সেনাল।

তবে এর পরেও ৩৭ তম মিনিটে প্রথম গোলটি আর্সেনালই দেয়। ১০ জনের দল নিয়ে বেশ ভালোই লড়াই করছিল আর্সেনাল। তবে ৭৬ তম মিনিটে বার্সালোনা ম্যাচে ফিরে আসে এতোর গোলের মাধ্যমে, ৮১ তম মিনিটে বালেত্তির গোলে এগিয়ে যায়। এরপর আর আর্সেনাল ম্যাচে ফিরে আসতে পারেনি।

সাম্প্রতিক সময়ে

এই মৌসুম শেষেই আর্সেন ওয়েঙ্গার ছিন্ন করছেন আর্সেনালের সাথে তার ২২ বছরের সম্পর্ক। হ্যা, একটা সময় ওয়েংগার আউট স্লোগানও বের হয়েছে। হয়তো পরিবর্তনও দরকার ছিল। কিন্তু তাই বলে আর্সেনের অবদানকে অস্বীকার করা যাবে না কোনভাবেই।

কখনোই চ্যাম্পিয়ন্স লিগ না জেতা কোচদের মাঝে হয়তো তিনিই সর্বকালের সেরা। তবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতা কিংবা না জেতা কোনটাই মূখ্য নয় তার অমর হবার জন্য। আর্সেনকে ফুটবল ইতিহাস অমর করে রেখেছে সেই অজেয় দলের কোচিং করানোর পর থেকেই।

ফুটবল বিশ্ব অবশ্যই আর্সেন ওয়েঙ্গারকে মিস করবে। তবে, সবচেয়ে বেশি মিস করবে আর্সেনাল সমর্থকরা।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।