গুড নিউজ: বছরের সেরা কমেডি

সারাক্ষণ স্ত্রীর বাচ্চা নিবো, বাচ্চা নিবো, বাসায় আসো, আমার ওভালুশ্যান পিরিয়ড চলছে!

যন্ত্রণায় ত্যাক্ত স্বামী যখন হাতজোড় করে বলে – মাফও চাই দোয়াও চাই, আমার ভেতরটা শুকাইয়া গেসে মেরি মা, এখন ধোঁয়া ছাড়া আর কিছু বের হবে না! বুঝতে হবে ‘গুড নিউজ’ ছবির জোকগুলো দারুণভাবে ল্যান্ড করছে। ঠিক যেমনটা প্রায় হিন্দি সিনেমাই ভুল করে, জোর করে হাসানোর চেষ্টা করে।

এখানে সংলাপগুলো বাস্তবিক হওয়ায় মজাটা বেশি পেয়েছি। শুধু ২-১ জায়গায় কাজ করেনি, এই যা। অক্ষয় কুমারের রোলটা মনে হচ্ছিলো যেন আয়ুষ্মান খোড়ানার জন্যই লেখা হয়েছিলো। শুধু মধ্যবয়সী যুগল বলে সেখানে অক্ষয় কুমার এসেছেন, আর কি চমৎকার রসায়ন- বহুদিন পর অক্ষয় আর কারিনার সফল একটা জুটি দেখলাম, কারিনা কাপুর খানের জন্য কামব্যাকটা দরকার ছিলো।

আর অক্ষয় তো টয়লেট, প্যাডম্যানের মতো কমেডি করে ইতিমধ্যেই সিনিয়র অভিনেতাদের মাঝে তার কমিক টাইমিং-এর জন্য সেরা হয়ে আছেন। এখানে সেটাকে আরও ভালোমতো প্রতিষ্ঠা করলেন। ‘গুড নিউজ’-এর প্রথম ভাগ পুরোটাই মাতিয়ে রাখলেন তিনি।

তারপর দ্বিতীয়ার্ধে দালজিত আর কিয়ারা আদভানি আসার পর কমেডি দুই ধাপ উপরে যাওয়ার কথা।

সেটা গেছে ঠিকই, কিন্তু সে সাথে বাড়াবাড়িও হয়ে গেছে, যা শুধু হিন্দি সিনেমাতেই সম্ভব। সুন্দরী দুই নায়িকার বায়ু নির্গমন নিয়ে দুই পুরুষ মজা করছে, এমনটা বলিউডে কখনো দেখিনি! চারজনই দারুণ উপভোগ করে অভিনয় করেছে বোঝা যায়।

তবে দ্বিতীয় যুগলের ক্ষেত্রে এই পাঞ্জাবি দিক না এনে স্বাভাবিক আরেকটা যুগল দেখালে মুভিটা দারুণ কিছু হতো। কিন্তু নির্মাতাদের এখানে সংস্কৃতি কপচাইতে হবে। এরপরেও মুভির ফ্রেশনেস, দারুণ সংলাপ আর কমিক টাইমিং-এর কারণে মজাদার ছিলো সবসময়।

কিন্তু, তথাকথিত এবং প্রেডিক্টেবল। বিশেষ করে শেষ ২০ মিনিট পুরাই করণ জোহারের ‘কাভি খুশি কাভি গাম’ লেভেলের মেলো ড্রামা। মজার ব্যাপার হচ্ছে মুভির শেষের আইটেম সং-এ দেখি ঠিকই করণ জোহার নাচছেন।

ছবির প্রথমার্ধ ভিকি ডোনার লেভেলের দুর্দান্ত হওয়ার পরে দ্বিতীয়ার্ধ ক্লু-লেস বাংলা সিনেমা হলে আপাদমস্তক খুব ফ্রেশ একটা কমেডি ছিলো ‘গুড নিউজ’। রাজ মেহতা তার অভিষেক নির্মানেই শতভাগ পাশ মার্ক পেয়ে গেলেন। যা বিশেষ করে বিবাহিত দম্পতিরা সবচেয়ে বেশি রিলেট করতে পারবে। চমৎকার শিক্ষণীয় একটা মজার ছবি। ছবিটাকে আমি ‘বি+’ রেটিং দেবো।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।