ময়দানের সোনার মেয়েরা

‘বিশ্বে যা-কিছু মহান সৃষ্টি চির-কল্যাণকর

অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।’

পৃথিবীতে পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের অবদান যে কতটা গুরুত্ববহ তা বোধহয় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘নারী’ কবিতার এ চরণ দু’টিই সবচেয়ে ভালো বর্ণনা করতে পারে। উন্নত বিশ্বের দেশগুলোর মত আমাদের দেশেও পুরুষদের সাথে পাল্লা দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন নারীরা। কোন ক্ষেত্রেই আজ তাঁরা পিছিয়ে নেই। যেমনটা পিছিয়ে নেই খেলাধুলায়। বর্তমানে সাকিব, মামুনুল, মেজবাহদের সাথে তাল মিলিয়ে দেশে বিদেশে লাল সবুজের ঝান্ডা উড়াচ্ছেন রুমানা, সাবিনা, শিরিনরা। তাঁরাও আমাদের ক্রীড়াঙ্গনের তারকা। তাঁরাই ভবিষ্যত নারী ক্রীড়াবিদদের পথপ্রদর্শক। আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবসে দেশের এমন পাঁচজন নারী ক্রীড়াবিদকে নিয়ে সাজানো এই আয়োজন

  • রুমানা আহমেদ

শৈশব থেকেই ক্রিকেটের প্রতি প্রবল ঝোঁক। সে ঝোঁক থেকে ব্যাট আর বল হাতে নেয়া হয় রুমানার। বাড়ির সামনে বিশাল উঠোনে বড় ভাইদের সাথে নিয়মিত খেলতেন ক্রিকেট। বলা চলে বেশ পাল্লা দিয়েই তাদের সাথে লড়াই করতেন তিনি। ক্রিকেটার রুমানার মাথার ওপর সবসময় ছায়া হয়ে থাকতেন বড় ভাই ইফতেখার আহমেদ ও বড় বোন সেলিনা আহমেদ। ক্রিকেটের প্রতি ছোট বোনের প্রবল আগ্রহ ও আকর্ষণ দেখে এসএসসি পাসের পর পরই তাকে প্রশিক্ষণের জন্য খুলনার খ্যাতনামা কোচ ইমতিয়াজ হোসেন পিলুর কাছে নিয়ে যান তাঁরা। পিলুর অধীনে নিজের লেগস্পিন ও ব্যাটিংটাকে আরো বেশি ঝালিয়ে নিয়ে মাত্র ছয় মাসের মধ্যে রুমানা সুযোগ পেয়ে যান খুলনা বিভাগীয় দলে। সেখানে ব্যাটে-বলে নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখে প্রবেশ করেন জাতীয় দলের চৌহদ্দিতে।

২০১১ সালে মাত্র ১৯ বছর বয়সে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে ম্যাচের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে রুমানা আহমেদের। ঠিক এর পরের বছর একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ঘটে তাঁর আন্তর্জাতিক টি-২০ অভিষেক। এখন পর্যন্ত ৩০ টি ওডিয়াই ম্যাচ খেলা রুমানার ঝুলিতে রয়েছে ৬৪৯ রান ও ৩০ উইকেট। আর ৩৪ টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে তিনি সংগ্রহ করেছেন ৪৩৪ রান ও ২২টি উইকেট। ২০১৬ সালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে নারী ক্রিকেটের সতেরতম, ওয়ানডে ক্রিকেটের নবম এবং প্রথম বাংলাদেশি নারী হিসেবে ওয়ানডেতে হ্যাটট্রিকও করেন রুমানা। একই বছর অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক  টি-টোয়েন্টি লিগ উম্যান’স বিগ ব্যাশে প্রথমবারের মত ব্রিসবেন হিটের হয়ে খেলার জন্য মনোনীত হন তিনি। এছাড়া ২০১০ সালের এশিয়ান গেমসে রৌপ্যপদক পাওয়া বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলে ব্যাট ও বল হাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন খুলনার এ অলরাউন্ডার।

ক্রিকেটার হওয়ার পর এখন পর্যন্ত যে পথটুকু পাড়ি দিয়েছেন রুমানা তা তাঁর পক্ষে মোটেই সহজ ছিল না। তাঁর ক্রিকেটার হবার পেছনে রয়েছে নানা প্রতিবন্ধিকতার গল্প। যেটা হয় আমাদের দেশে যে কোন নারী খেলাধুলার সাথে যুক্ত হলেই সমাজের বিভিন্ন মানুষজনের কটু কথার শিকার হতে হয়। রুমানা যখন পুরোদমে ক্রিকেট খেলা শুরু করেন তখন তাঁর অনেক প্রতিবেশি বাড়িতে এসে নানা কথাবার্তা শুনিয়ে যেতেন। তিনি যখন জার্সি, ট্রাউজার পরে অনুশীলনে যেতেন তখন আড়ালে অনেকেই এমন মন্তব্য করতেন, ‘এটা ছেলে না মেয়ে।’ কিন্তু কোন কটূক্তিই রুমানার পথচলায় বাধা হতে পারেনি। পাড়া প্রতিবেশিদের সকল কটুকথা ও বাজে মন্তব্যের জবাব ব্যাট ও বল হাতে দিয়ে এখন তিনি জাতীয় নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক যা নিশ্চয়ই ভবিষ্যতে সকল বাধা-বিপত্তি এড়িয়ে খেলাধুলার সাথে দেশের তরুণীদের সম্পৃক্ত হতে আরো বেশি অনুপ্রাণিত ও উদ্বুদ্ধ করবে।

  • সাবিনা খাতুন

তাঁর অনেক পরিচয়। কেউ তাকে বলেন ‘গোলমেশিন’ কেউ-বা আদর করে ডাকেন ‘বাংলার মেসি কন্যা।’ তিনি সাতক্ষীরার সাবিনা খাতুন, দেশের নারী ফুটবলে গোলের ‘সেঞ্চুরি’ হাকানো এক অসামান্য প্রতিভা।

শখের বসে ক্রিকেট খেলে থাকলেও ২০০৮ সালে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া অবস্থায় ফুটবলের সাথে নিজেকে জড়ান সাবিনা। দীক্ষা নিয়েছেন সাতক্ষীরা জেলা ফুটবল দলের কোচ মোহাম্মদ আকবরের কাছ থেকে। খেলেছেন আন্তঃস্কুল ও বিভিন্ন ক্লাবের হয়ে আন্তঃজেলা পর্যায়ে। সেখানে নিজের সক্ষমতার জানান দিয়ে ২০০৯ সালে খেলেন সিটিসেল জাতীয় মহিলা চ্যাম্পিয়নশিপে যেখানে সর্বোচ্চ গোলদাতা নির্বাচিত হবার পর কেএফসি জাতীয় মহিলা ফুটবল লিগে জেতেন টুর্নামেন্টসেরার খেতাব। ব্যস, ভালো খেলার পুরস্কারটাও মিলে গেল হাতেনাতে। ওই বছরই প্রথমবারের মত সুযোগ পেয়ে যান লাল সবুজের জার্সি গায়ে জড়ানোর। তারপর সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে হয়ে যান জাতীয় দলের নির্ভরযোগ্য স্ট্রাইকার। সেখানেও ভালো খেলার পুরস্কারস্বরূপ একসময় হয়ে যান জাতীয় দলের সহঅধিনায়ক এবং তারপর অধিনায়ক।

গড়ে প্রতি ম্যাচে একের অধিক গোল করার এক অদ্ভুত ক্ষমতা রয়েছে সাবিনার। শুনতে অবাক লাগলেও এটাই সত্যি যে ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তাঁর গোলসংখ্যা একশতাধিক। এখন পর্যন্ত তাঁর গোলসংখ্যা ১১৬! আরো অবাক করার বিষয় হলো এক ম্যাচে ১৬ গোল করার অনন্য কীর্তির মালিকও এই সাবিনা খাতুন। ২০১৫ সালে মালদ্বীপ ফুটসাল ফুটবল ফিয়েস্তায় পুলিশ ক্লাবের পক্ষে নিজের দ্বিতীয় ম্যাচেই প্রতিপক্ষের জালে ১৬ বার বল জড়ানোর এ কীর্তি গড়েন তিনি। মালদ্বীপের এ লিগে খেলার মধ্য দিয়ে তিনি বাংলাদেশের একমাত্র নারী ফুটবলার হিসেবে বিদেশের মাটিতে লিগ খেলার গৌরব অর্জন করেন।

সেখানে সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে করেন ৩৭টি গোল। এর আগে ঘরোয়া লিগের এক ম্যাচে ১৪ গোল করার কৃতিত্বও রয়েছে এই স্ট্রাইকারের দখলে। তাছাড়া ২০১৭ সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের রানার্স আপ হওয়ার পেছনে ছিল তাঁর অনবদ্য অবদান। গ্রপ পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আফগানদের বিপক্ষে ৫ গোলের পাশাপাশি পুরো টুর্নামেন্টে সাবিনা করেন ৭ গোল। মাঠে খেলার পাশাপাশি  ২০১৩ সালে ফিফা উইমেন’স কোচিং কোর্স এবং এএফসি ‘সি’ সার্টিফিকেট কোর্সও করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দলের এই অধিনায়ক।

যদিও সাবিনার পেশাদার ফুটবলার হবার পথে নানা প্রতিবন্ধকতার কাটা বিছানো ছিল। মানুষজন তাকে দেখে হাসাহাসি করত, নানা কটুকথাও শোনাত। তবে এসবকিছু রুখতে পারেনি এই অদম্য ফুটবলারকে। জাতীয় দলের অধিনায়ক হবার পর

সেসব নিন্দুকেরা এখন অনেকটাই গুটিয়ে নিয়েছেন নিজেদের।

  • শিরিন আক্তার

বাংলাদেশের ‘ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ড’-এ  তিনি এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তিনি দেশের শেলি অ্যানফ্রেজার প্রাইস। না, জ্যামাইকার প্রথিতযশা এই স্প্রিন্টারের মত আমাদের শিরিন আক্তার পরপর দুই অলিম্পিকে স্বর্ণপদক জেতেননি বা সাতবার বিশ্বচ্যাম্পিয়নের সোনার পদকও নিজের করে নিতে পারেননি। কিন্তু বাংলাদেশের অ্যাথলেটিকসে ঠিকই একচ্ছত্র আধিপত্য দেখিয়েছেন। হয়েছেন টানা ৬ বার দ্রততম মানবী। সেইসাথে ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ খ্যাত’ অলিম্পিক গেমসে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বও করেছেন সাতক্ষীরার এই স্প্রিন্টার।

অত্যন্ত রক্ষণশীল পরিবারের মেয়ে শিরিন আক্তার। তাই পরিবারের কেউই চাইতেন না তিনি খেলাধুলায় জড়ান। ছোটবেলা থেকেই ছিলেন প্রাণচঞ্চল। স্কুলের সময়টুকু বাদ দিলে বাদবাকি সময়টা কাটত তাঁর এ-পাড়া ও-পাড়া দৌঁড়ে বেড়িয়ে। অংশ নিতেন স্কুলের দৌঁড় প্রতিযোগিতায়। কিন্তু যখন তিনি শৈশব থেকে কৈশোরে পা দেন তখন থেকেই তাঁর এ ধরনের চলনে আশেপাশে নানাজন নানা কথা বলতে শুরু করেন। এসব কথা তাঁর পরিবারের সদস্যদের কানেও পৌঁছে যায় একদিন। এতে তাঁর বাবা অনেক রাগারাগিও করতেন। কিন্তু তাতে পিছু হটেননি শিরিন। একসময় বাবাকে রাজি করিয়ে যাত্রা শুরু করেন ‘ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ড’-এ।

মাত্র ১৪ বছর বয়সে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) প্রতিভা অন্বেষণের মধ্য দিয়ে ওঠে আসেন শিরিন আক্তার। সেখানে গুরু আব্দুল্লাহ হেন কাফির অধীনে নিয়েছেন প্রশিক্ষণ। ২০০৭ সালে ৪০০ মিটার স্প্রিন্টে দ্রুততম জুনিয়র ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়ন হয়ে সাড়া ফেলে দেন তিনি। তারপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ২০১৪-২০১৭, এই চার বছরে দেশের দ্রুততম মানবীর খেতাব জিতেছেন ছয় বার। এর মধ্যে ২০১৬ সালে ভারতের গৌহাটিতে অনুষ্ঠিত এসএ গেমসে ১০০ মিটার স্প্রিন্টে ক্যারিয়ারসেরা ১১.৯৯ সেকেন্ড সময় নিয়ে দৌঁড় শেষ করেও জোটেনি কোন পদক। সেদিনই তিনি পেতে পারতেন ক্যারিয়ারের প্রথম কোন আন্তর্জাতিক পদক। কিন্তু মাত্র ৩৯ মাইক্রো সেকেন্ডের ব্যবধানে কপাল পুড়ে শিরিনের যা এখনো আক্ষেপের দাগ কেটে আছে তাঁর মনে। একই বছর রিও অলিম্পিকে ১০০ মিটার স্প্রিন্টের প্রিলিমিনারি হিটে বাংলাদেশের হয়ে ট্র্যাকে নামেন তিনি যেখানে এসএ গেমসের টাইমিংটা ধরে রাখতে পারলে মূল হিটে অংশ নেয়ার নিশ্চিত সুযোগ ছিল তাঁর সামনে।

  • মাহফুজা খাতুন শিলা

খেলাধুলায় পছন্দের তালিকায় ছিল দৌঁড়। তবে একসময় হয়ে যান সাঁতারু। খুব বেশি আগের কথা নয়। ২০১৬ সালে গৌহাটিতে এসএ গেমসে সাঁতারে নারীদের ৫০ মিটার ও ১০০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকে বাংলাদেশকে স্বর্ণপদক উপহার দেন যশোরের সাঁতারু মাহফুজা খাতুন শিলা। ৫০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকে আবার রেকর্ড করে স্বর্ণপদক নিজের করে নেন তিনি। সারুসাজাই স্পোর্টস কমপ্লেক্সের জাকির হুসেন সুইমিংপুলে তিনি সময় নেন ৩৪.৮৮ সেকেন্ড। ফাইনালের আগের হিটে ৩৪.৬৬ সেকেন্ড সময় নিয়ে ভেঙ্গেছিলেন দীর্ঘ ১০ বছরের রেকর্ডও।

শিলার সাঁতারু হবার গল্পের শুরুটা ২০০৩ সালে।  তখন সাঁতার ও দৌঁড়ে বৃহত্তর খুলনায় বেশ নামডাক ছিল তাঁর। সেবছর বড় ভাইয়ের পরামর্শে বিকেএসপিতে অষ্টম শ্রেণিতে ভর্তি হন শিলা। এর ৪ বছর পর জেতেন প্রথম স্বর্ণপদক। ২০০৭ সালে ইন্দো-বাংলা গেমসে ক্যারিয়ারের প্রথম স্বর্ণপদক জেতেন তিনি। একই গেমসে ২০০৮ ও ২০১০ সালে পুনরায় স্বর্ণপদক জিতে নেন মাহফুজা খাতুন শিলা। এখন পর্যন্ত সাঁতারে মোট ৫২টি পদক জমা পড়েছে বাংলাদেশের এ জলকন্যার ঝুলিতে।

যশোরের অভয়নগর উপজেলার এক দরিদ্র পরিবারে বেড়ে ওঠা শিলার। পড়ালেখা করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখান থেকে গণসংযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে স্নাতকোত্তর করেছেন তিনি।সংসারের অভাব অনটনের পিছুটানকে জয় করে দেশসেরা নারী সাঁতারু বনে যেতে তাকে রীতিমত যুদ্ধ করতে হয়েছে। চট্টগ্রামে সাঁতার অনুশীলনের উন্নত ব্যবস্থা না থাকায় প্রায়ই ঢাকা যাতায়াত করতে হতো তাকে। এতে সময় ও টাকা দুই-ই খরচ হতো তাঁর। এখানেই শেষ নয়। বিভিন্ন সময় বৈষম্যের শিকার হওয়া শিলাকে সংগ্রাম করতে হয়েছে খোদ সাঁতার ফেডারেশনের বিপক্ষে। ২০১৬ এসএ গেমসে প্রথম বাংলাদেশি নারী হিসেবে সাঁতারে স্বর্ণপদক জেতার পরও তাকে পাঠানো হয়নি ২০১৬ রিও অলিম্পিকে। বিদেশে উন্নত প্রশিক্ষণে পাঠানো নারী সাঁতারুদের দলেও জায়গা পাননি তিনি। ‘শিলা বুড়িয়ে গেছেন’ এমন মন্তব্যও তখন করেছিলেন ফেডারেশন কর্তারা। তাতে কী! তিনি তো আর দমে যাওয়ার পাত্রী নন।ফেডারেশনের সব তুচ্ছ তাচ্ছিল্যকে তোয়াক্কা না করে তিনি ঠিকই ২০১৭ সালে ইসলামিক সলিডারিটি গেমসে লাল সবুজের প্রতিনিধিত্ব করেন।

  • মাবিয়া আক্তার সীমান্ত

২০১৬ সালে গৌহাটিতে এসএ গেমসে নারীদের ৬৩ কেজি ভারোত্তোলনে স্বর্ণ জেতার পর পোডিয়ামে দাঁড়িয়ে জাতীয় সংগীত গাওয়ার সময় মাবিয়ার কান্নার দৃশ্যটি নিশ্চয়ই ভুলার নয়। যে কান্নার পেছনে ছিল শত বাধা টপকিয়ে সফল হবার গল্প, নানা প্রতিবন্ধকতাকে দূরে ঠেলে দেশকে একটি স্বর্ণপদক পাইয়ে দেবার আনন্দের উপাখ্যান।

রাজধানীর খিলগাঁওয়ে একটি জীর্ণ টিনের ঘরে ছিল মাবিয়ার আবাস। সংসারের কাজকর্ম ও পড়াশোনার পাশাপাশি  ভারোত্তোলনের অনুশীলন চালিয়ে যাওয়া ছিল তাঁর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। টাকার অভাবে একসময় পড়ালেখাও বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। পরবর্তীতে বাংলাদেশ আনসারে চাকরি পাওয়ায় উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া শুরু করেন মাবিয়া। তিনি এ চাকরি পান ভারোত্তোলনের জন্যই। অথচ এই মাবিয়াকে আমরা ভারোত্তোলক হিসেবে না পেয়ে বক্সার হিসেবেও পেতে পারতাম। কারণ ভারোত্তোলনের আগে তিনি তাঁর মামার কাছে বক্সিং প্রশিক্ষণ নিতেন। তারপর সেই মামার পরামর্শেই ভারোত্তোলনে নিজেকে সম্পৃক্ত করা। ২০১৩ সালে আসে তাঁর প্রথম সফলতা। সে বছর কমনওয়েলথ ভারোত্তোলন চ্যাম্পিয়নশিপে রৌপ্যপদক পান মাবিয়া। তারপর ২০১৪ সালে উজবেকিস্তানে আফ্রো-এশিয়া কাপে রৌপ্য ও থাইল্যান্ডে কিংস কাপে ব্রোঞ্জপদক জেতেন তিনি। এর দু’বছর পরই গৌহাটির ভোগেশ্বরী ফুকনানি ইনডোর স্টেডিয়ামে সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের মঞ্চায়ন হয়। আশা ছিল একই বছর রিও অলিম্পিকে দেশের হয়ে খেলতে যাবেন। কিন্তু ফেডারেশনের কিছু কর্মকর্তার রোষানলে সে স্বপ্ন আর বাস্তবে পরিণত হয়নি মাবিয়ার। একই কারণে তিনি মিস করেছেন কয়েকটি আন্তর্জাতিক ভারোত্তোলন প্রতিযোগিতাও।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।