গ্যাঙরেপও তাঁর আকাশ ছোঁয়ার পথে বাঁধা হয়নি

প্রচলিত প্রথার বাইরে গেলেই হতে হবে চক্ষুশূল। এটাই তো এই সমাজের রীতি। যেমনটা হতে হয়েছিল স্বপ্না মতি ভবানী। দোষ একটাই, ছোট বেলা থেকেই তিনি ছিলেন একটু অন্যরকম। স্পষ্টবক্তা ছিলেন – মুখে যা আসতো তাই বলতেন। লাইফস্টাইল আর দশ জনের মত না। শরীর ভর্তি ট্যাটু, যা নিয়ে প্রায়শই সমালোচনা শুনতে হতো। উপমহাদেশীয় সমাজ ব্যবস্থায় এমন নারীদের জায়গা নেই বললেই চলে।

  • গ্যাঙরেপের শিকার

বয়স তখন ১৪। ছেলেদের সাথে ঘোরাফেরা করতেন, বাইক চালাতেন, বলে লোকে গালমন্দ করতো। স্বপ্না বলেন, ‘গালি দিতো। ছোট ছিলাম বলে অর্থ জানতাম না। অভ্যাস হয়ে গিয়েছিল।’

বাবার মৃত্যুর পর চলে আসেন শিকাগেোতে। এক ক্রিসমাসের রাত। স্বপ্নার বয়স তখন ২৪। একটা পানশালা থেকে কেবল বের হয়েছেন। এক দল ‘কাপুরুষ’ ঘিরে ধরে তাঁকে। বন্দুকের মুখে গ্যাঙরেপের শিকার হন তিনি। কাউকে বলেননি, নিজের মাকেও না। জানতেন, মা বিষয়টা যন্ত্রনাটা সহ্যই করতে পারবেন না।

স্বপ্না মনে করেন, যারা ‍চুপ থাকেন তারা দুর্বল নয়, বরং নিজের কষ্টটা নিজেই বহন করতে জানে তারা। বলেন, ‘যখন বাড়ি ফিরছিলাম হেঁটে হেঁটে তখন সিদ্ধান্ত নেই ঘটনাটার প্রভাব কখনো জীবনে আসতে দিবো না। আর হ্যা, কখনোই উজ্জ্বল লিপস্টিক কিংবা ছোট জামা ছাড়বো না। আমি জানি আমার কোনো দোষ ছিল না। কারো এমন কোনো দোষ থাকতে পারে না যার জন্য তাঁকে এতটা নির্যাতন সহ্য করতে হবে!’

  • মুম্বাই ফেরা

কয়েক বছর বাদে স্বপ্না মুম্বাই ফিরে আসেন। হাই স্কুলের এক বন্ধুকে বিয়ে করেন। বিবাহিত জীবনেও নির্যাতন ছাড়া কিছুই পাননি। তাই সংসার ছেড়ে দেন।

এখান থেকেই শুরু স্বপ্নার স্বপ্নের সূচনা। শিকাগোতে থাকতেই তিনি কালি শিল্পের সাথে পরিচিত হয়ে ওঠেন। তিনি বিভিন্ন শিল্পীদের কাথ থেকে ট্যাটুর বিষয়ে শিক্ষা নিতে শুরু করেন। নিজের চুলে নিজেই রং করতেন।  তিনি বলেন, ‘ট্যাটু যতটা না ট্রেন্ড তার চেয়েও বেশি একরকম শিল্প।’

  • শুরু হল নতুন যাত্রা

হেয়ারড্রেসার হিসেবে নতুন যাত্রা শুরু করলেন স্বপ্না। কাজ শুরু করলেন বলিউড স্টাইলিশ হিসেবে। ২০০৪ সালে প্রথম নিজের হেয়ার সেলুন খোলেন। নাম দেন ‘ম্যাড-ও-উট’। সেই থেকে তাঁকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। তিনি এখন একজন সেলিব্রিটি হেয়ারস্টাইলিশ । একই সাথে তিনি একজন নারীবাদী কর্মী, লেখক ও ফটোগ্রাফার।

এখন তিনি বড় তারকা। বড় বড় সেলব্রিটি তারকারা তার কাছে হেয়ার স্টাইল করাতে আসেন। তিনি নিজে এক দফা অংশ নিয়েছেন রিয়েলিটি শো ‘বিগ বস’-এ। পত্র-পত্রিকায় তাঁকে নিয়ে লেখালিখি হয়।

স্বপ্না একজন শক্তিশালী মানসিকতার নারী, যিনি জীবনের যেকোনো বিপত্তিতে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে জানেন। তিনি খারাপকে খারাপ, ভালকে ভাল বলতে জানেন। তিনি অসংখ্য নারীর অনুপ্রেরণা। তিনি সত্যিকারের সুপার হিরো।

– কেনফলিওস অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।