আমজাদ খান কিংবা গাব্বার সিং: দানবীয় এক ভিলেন

‘কিতনে আদমি থে?’ – বলিউডের সিনেমা দেখেন অথচ, এই ডায়লোগ শোনেননি এমন লোক খুঁজে পাওয়া দুস্কর। এই ডায়লোগটি যার তিনি ছিলেন সেই সময়ের গতানুগতিক খল চরিত্রের অভিনেতাদের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা।

তার চেহারা, কণ্ঠস্বর আর মেজাজে মিশে ছিল আভিজাত্য। তার উচ্চারণভঙ্গীও ছিল আলাদা ধাঁচের। ফলে খুব সহজেই তিনি দর্শকদের মনে স্থান করে নিতে পেরেছিলেন। ভারতের বিখ্যাত ‘শোলে’ সিনেমায় অনেক বড় বড় তারকাদের সঙ্গে শুধু সমান তালেই অভিনয় করেননি বরং সব আলো কেড়ে নিয়েছিলেন নিজের দিকে।

নায়ক জয় ও ভিরুর চেয়েও বেশি জনপ্রিয়তা পায় তার করা ডাকাত সর্দার গাব্বারের চরিত্র। ‘কিতনে আদমি থে?’, ‘ইয়ে হাথ মুঝে দে দে ঠাকুর’, ‘জো ডর গায়া, সমঝো মর গায়া’ ইত্যাদি সংলাপ লোকের মুখে মুখে ফেরে।  এখনো এই চরিত্রটির প্যারোডি হয়, এখনো বলিউডের সিনেমাগুলোতে ব্যবহৃত হয় এই ডায়লগগুলো।

তিনি গাব্বার সিংয়ের সাজে ব্রিটানিয়া গ্লুকোজ বিস্কিটের বিজ্ঞাপনে অংশ নেন। সেখানে তার সংলাপ ছিল ‘গাব্বার কি আসলি পাসান্দ’। কোনো খলনায়কের নামে জনপ্রিয় পণ্যের বিজ্ঞাপন সেই প্রথম।

গাব্বার সিং এর চরিত্রে অভিনয় করে যিনি ইতিহাসে ঠাঁই করে নিয়েছেন। কার কথা বলা হচ্ছে, তা নিশ্চিয়ই ধরে ফেলেছেন। তিনি বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা, পাহাড়সমান জনপ্রিয় ভিলেন আমজাদ খান।

শোলের পর সত্যজিৎ রায়ের ক্ল্যাসিক ছবি ‘সতরঞ্জ কি খিলাড়ি’ তে আওধের শেষ নবাব ওয়াজেদ আলি শাহের ভূমিকায় অভিনয় করেন। লক্ষ্ণৌর শেষ নবাব ওয়াজেদ আলি ছিলেন কবি, সঙ্গীতানুরাগী এবং অভিমানী। এই চরিত্রে অভিনয় করে সমালোচকদের প্রশংসা কুড়ান আমজাদ খান।

এরপর মুকান্দার কা সিকান্দার, ইয়ারানা, লাওয়ারিশ, লেকিন, সাত্তা পে সাত্তা, লাভ স্টোরি, দাদা, সুহাগ, হীরালাল পান্নালালসহ প্রায় ১৩০ টি ছবিতে অভিনয় করেন। নিজেকে ক্ষুদ্র থেকে বৃহতে পরিণত করেন তিনি।

যদিও জীবনের শেষটা তার জন্য সুখকর ছিল না। ১৯৮৬ সালে সড়ক দূর্ঘটনায় আহত হবার পর ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে বেশ ওজন বেড়ে যায়।  ১৯৯২ সালের ২৭ জুলাই তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। বলিউডে এক বর্ণাঢ্য অধ্যায়ের ইতি ঘটে।

১৯৪০ সালের ১২ নভেম্বর তাঁর জন্ম। কে জানে, বেঁচে থাকলে হয়তো অমিতাভ বচ্চনের সাথে পাল্লা দিয়ে অভিনয় করে যেতেন, গাব্বার সিংয়ের সাথে জয়-বীরুদের খুনসুটি চলতো। সেটা হয়নি, তবুও আমজাদ খান ভক্তদের হৃদয়ে একজন গাব্বার সিং হয়ে বেঁচে আছেন। তাঁর মত দানবীয় ভিলেন আর ক’জনাই বা এসেছেন!

এখনো ভারতবর্ষে বাচ্চাদের ভয় দেখিয়ে বলা হয়, ‘ঘুমিয়ে যায়, নয়তো গাব্বার চলে আসবে!’ যদিও, চলে গেছেন না ফেরার দেশে, ফিরবেন না কখনোই!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।