ফুটপাতের কলম বিক্রেতা থেকে বলিউডের কমেডি কিং

পরিবারে বিস্তর অভাব ছিল। ক্লাস সেভেনের পর আর পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়াটা জনি লিভারের পরিবারের জন্য ছিল বিলাসিতা। অভাবে তাকে অল্প বয়সে জীবিকা নির্বাহে নেমে যেতে বাধ্য করেছিল।

মুম্বাইয়ের রাস্তায় কলম বিক্রি করতেন অভিনব কায়দায়, বলিউড তারকাদের কণ্ঠ নকল করে, কখনো বা নেচে-গেয়ে। বাবা প্রকাশ রাও ঝানুমালা হিন্দুস্তান লিভার লিমিটেডে ছোট একটা চাকরী করতেন। সেখানকার একটি অনুষ্ঠানে একবার জনি লিভারের যাওয়ার সুযোগ হয়। মঞ্চে গিয়ে উচ্চপদস্থ কিছু কর্মকর্তার মিমিক্রি করে আলোচিতও হন তিনি। তখন ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাই তার নাম দেন জনি লিভার।

জোহন প্রকাশ রাও ঝানুমালা থেকে জনি লিভার বনে যাওয়ার পরও রাতারাতি বদলালো না জীবন। স্ট্যান্ড আপ কমেডিয়ান হিসেবে কাজ করতে শুরু করেন। ভারতীয় সিনেমায় তার অভিষেক হয় আশির দশকে গিয়ে।

সেই থেকে শুরু। নব্বইয়ের দশকে এসে বনে যান ভারতের কমেডি কিং। কৌতুক অভিনয়কে অন্য এক স্তরে নিয়ে যান তিনি। যদিও, বাস্তব জীবনে নাকি একেবারেই গম্ভীর এই কিংবদন্তি।

ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডের জন্য ১৩ বার মনোনয়ন পেয়েছেন। পুরস্কার জিতেছেন দু’বার। তবে, আজো কাজের ব্যাপারে দারুণ সিরিয়াস তিনি। খেতে খুব ভালবাসলেও স্টেজ শো’র দু’দিন আগে ভাত খাওয়া বন্ধ করে দেন। শুটিংয়ের ক্ষেত্রে এখনো ঘণ্টাখানেক আগে চলে যান স্পটে।

মেয়ে জেমি লিভারের সাথে

তার দেখাদেখি ছোট ভাই জিমি মোজেসও নাম লিখিয়েছেন স্ট্যান্ড আপ কমেডিতে। মেয়ে জেমি লিভারও স্ট্যান্ড আপ কমেডিয়ান।

ছোট ছেলে জেসি ক্যান্সার আক্রান্ত হয়েছিলেন। অনেক চেষ্টা, অনেক প্রার্থণার পর তিনি সুস্থ হন। সেই ঘটনা পাল্টে দেয় জনি লিভারকে। ক্যারিয়ারের পাশাপাশি ধর্ম-কর্মেও মন দিয়েছেন তিনি।

লম্বা ক্যারিয়ারে কাজ করেছেন ১০০-এর বেশি সিনেমায়। আশা করি, এই সংখ্যাটা সামনে আরো বাড়বে।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।