মিডিওকার থেকে গুড, গুড থেকে বেস্ট – হোয়াট নেক্সট?

জীবনের শুরুতে অভাব-অনটন ছিল। থাইল্যান্ডের হোটেলে কাজ করতেন। কাজ করেছেন ঢাকার হোটেল পূর্বানীতেও। মার্শাল আর্ট শিখেছিলেনে, প্রশিক্ষণ দিতেন। টুকটাক মডেলিং করেছেন। ব্যাক গ্রাউন্ড ড্যান্সার ছিলেন কয়েকটা সিনেমায়। অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে এসেছিলেন বলিউডে।

অক্ষয় কুমারের এই স্ট্রাগলের গল্পটা কম বেশি সবারই জানা। তবে, ক্যারিয়ারের একেবারে শুরুর দিকে কোনো ভাবেই বাজিমাৎ করতে পারছিলেন না। ১৯৯১ সালে তার ‘সুগান্ধ’ ও ‘ড্যান্সার’ সিনেমা দু’টি মুক্তি পায়। কোনোটাই অক্ষয়কে জনমানুষের নায়কে পরিণত করতে পারেনি।

নব্বইয়ের দশকে ‘খিলাড়ি’, ‘মোহরা’, ‘ইয়ে দিল্লাগি’ সিনেমাগুলো একটু একটু করে বলিউডে প্রতিষ্ঠিত করতে থাকে আক্কিকে। ওই সময় খিলাড়ি সিরিজের মধ্য দিয়ে অ্যাকশন নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে যান অক্ষয়।

তবে, তাতে কী! তখন তো বলিউডে খানদের দাপট। সাথে সঞ্জয় দত্ত, গোবিন্দদের এক চেঁটিয়ে ব্যবসা – এর মধ্যে অক্ষয়ের এক নম্বর হয়ে ওঠার সুযোগ কোথায়!

আক্কির আসল লড়াইটা শুরু হয় ২০০০ সালের পর থেকে। অ্যাকশন জেনার থেকে বের হয়ে এসে কখনো কমেডি, কখনো রোমান্টিক সিনেমা দিয়ে দর্শকদের মন জয় করা শুরু করেন। ‘হেরাফেরি’, ‘ধাড়কান’, ‘আঁখে’র মত সিনেমাগুলো তাকে আরো এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যায়।

আর বর্তমান সময়ে অক্ষয় সত্যিকার অর্থেই ছাড়িয়ে গেছেন খানদের। ছাড়িয়ে গেছেন সবাইকে। ২০১৫-১৬ সালে ‘এয়ারলিফট’, ‘রুস্তম’-এর মত কন্টেন্ট নির্ভর সিনেমা করেছেন। রুস্তমের সুবাদে তিনি পেয়েছে জাতীং চলচ্চিত্র পুরস্কার। ২০১৫, ২০১৬ ও ২০১৭ সালে মুক্তি পাওয়া তার ছবিগুলো ভারতের মধ্যে ১৫০ কোটি রুপির বেশি আয় করে।

সাম্প্রতিক সময়ে তার মুক্তি পাওয়া ‘জলি এলএলবি ২’ ও ‘টয়লেট: এক প্রেম কাথা’র কথা আলাদা করে বলতেই হয়। দু’টো সিনেমাই ১০০ কোটি রুপির ওপর ব্যবসা করেছে। সাথে পেয়েছে সমালোচকদের প্রশংসাও। একই সময়ে শাহরুখ খানের ‘জাব হ্যারি মেট স্যাজাল’ ও সালমান খানের ‘টিউবলাইট’ মুক্তি পেয়েছে। আর বক্স অফিসের কালেকশন বলছে, দুই খানকে খুব বড় ব্যবধানেই হারিয়েছেন আক্কি।

এর পেছনের রহস্যটা কী? প্রথমত, স্ক্রিপ্ট বাছাই করতে মুন্সিয়ানার পরিচয় দিচ্ছেন অক্ষয়। চরিত্রগুলোও হচ্ছে একেবারে তার মন মত। এরচেয়েও বড় ব্যাপার প্রতিটা চরিত্রেই একেবারেই নিজেকে মানিয়ে নিতে পাচ্ছেন সাবেক এই বাবুর্চি, যিনি রাজিব হরি ওম ভাটিয়া থেকে বনে গেছেন অক্ষয় কুমার।

২০১৬-১৭ এর দিকে এক বছরে আক্কির আয় অক্ষয়ের আয় ৩৫.৫ মিলিয়ন ডলার বা ২২৭.৫ কোটি রুপি। ফোর্বস ম্যাগাজিনের বিবেচনায় সারা বিশ্বে সবচেয়ে বেশি আয় করা অভিনেতাদের মধ্যে তিনি আছেন দশ নম্বরে। কে ভেবেছিল একসময় যার টানা ১৩ টি সিনেমা ফ্লপ হবে, তিনি একদিন এই অবস্থানে পৌঁছাবেন! আর এখন যা করেন, তাতেই পান সাফল্য।

ক্যারিয়ারের অনেকগুলো বছর কাটিয়ে ফেলেছেন অক্ষয়। অক্ষয় জানেন, সাফল্য পাওয়া বলিউডে কতটা কঠিন। নি:সন্দেহে হেলায় তিনি এটা হারাতে চাইবেন না। তাই তো, শিগগিরই নতুন মিশনে নামছেন তিনি। এবারের মিশনও সফল হোক, এই প্রত্যাশা সকল আক্কি-ভক্তের।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।