বুমবুম থেকে ডটডট তামিম: মনোভাবেই সমস্যা!

তামিম ইকবাল। যাকে ধরা হয়, বাংলাদেশের ইতিহাসেরই অন্যতম সেরা ওপেনার। বলা হতো, সেরা হার্ডহিটার ওপেনারও। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় তা আজ ফিকে হতে বসেছে।

নিজের দীর্ঘদিনের অফফর্ম, দলের চাহিদা সবদিক মেটাতে গিয়ে তিনি এমন এক পন্থা বেছে নিলেন, যা তার পরিচয়ই ফিকে করে দিচ্ছে।

তামিমের বর্তমানের খেলার ধরণ বা তথাকথিত এংকরিং রোল তত্ব ৫ বছর আগে হলে ঠিকই ছিল গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ডে। তখন প্রতি দলে অন্তত একটা ওপেনার এমন থাকত, নিজে রান যাই করুক, ১৫-২০ ওভার উইকেটে পড়ে থাকার গোঁ ধরে থাকত, একপাশ আগলে রেখে পার্টনারশিপ বিল্ড করত যেন পাওয়ারপ্লেতে পর‍্যাপ্ত উইকেট থাকে। অন্য ওপেনার হার্ডহিটিং করত, স্কোরবোর্ডে রান তুলে রানরেট ঠিক রাখত।

শুধু অস্ট্রেলিয়া আলাদা ছিল সবসময়, সবার চেয়ে ৫ বছর এগিয়ে, ওরা দুজনই বেধড়ক মার দিতো শুরু থেকেই!

আর তখন আমাদের দুই ওপেনারই হয় টুকটুক করে দশ ওভার কাটাতো নয়তো দু’জনই ডাউন দ্য উইকেটে এসে উইকেট দিয়ে আসতো।

এখন আর সে সময়টাও নাই। এখন সব দলেই দুই ওপেনারই হার্ডহিটিংয়ে যায়, রানের মাধ্যমে কন্ট্রিবিউটের সর্বোচ্চ চেষ্টা করে।

আর আমরা যেন পাঁচ বছর আগের সে যুগে পড়ে আছি। অথচ তামিম যদি নিজের আইডেন্টিটি ধরে রাখতেন, তামিম যদি বর্তমানের উন্নত টেকনিকের সাথে চারছক্কাবাজ মনোভাবটা ধরে রাখতেন, হয়তো গড় আরেকটু কম থাকত, কিন্তু যুগের সাথে তাল মেলাতে পারতেন।
তিনি ধরলেন সেই আগের যুগের তরিকা।

এই কনভারশনটা তিনি ঠিক পাঁচ বছর আগে থেকে ধরেছেন। গত দুই বছরে এভাবেই খেলে এসেছেন। রান পেয়েছেন, গড় আকাশ ছুঁয়েছে, আমরা গদগদ হয়ে তাঁকে আকাশে তুলেছি। কিন্তু এই স্ট্রাটেজিটা যে ব্যাকডেটেড কেউ ধরতে পারিনি। তামিম অফফর্মে থাকায় এটা এতটা চোখে পড়ছে।
দুনিয়া যেটা ৫ বছর আগে ছেড়ে আসে, আমরা তা বর্তমানে চালাই। তারপর যখন আপডেটেড হই, বাকিরা তখন নতুন কোন টেকনিকে আপগ্রেড নিয়েছে।

এর কারণ কি হতে পারে?

আমরা জাতিগতভাবে কিছুটা ইগোইস্টিক, আইডেন্টিটি ক্রাইসিসে ভোগা লোক। ভাবি, অন্যের টেকনিক না, আমার খেলার স্টাইলই যথেষ্ট। কিন্তু শেষমেশ মনে হয়, আসলে বাকিরা ঠিকই ছিল, ওই স্ট্রাটেজিটাই কাজের। তখন থেকে তা প্রয়োগ করি। কিন্তু ততদিনে দেরী হয়ে যায়। না পারি যুগের সাথে তাল মেলাতে না পারি নিজের আইডেন্টিটি ধরে রাখতে।

কয়েকদিন আগে জাতীয় দলের ট্রেনার বিদায় নেবার বেলায় এক সাক্ষাতকারে বারবার বলে গেলেন, বাংলাদেশিদের সমস্যাটা থাকে মনোভাবেই। নতুন কোচরা এসে স্কিল ঠিক করার আগে মনোভাব ঠিক করার জন্য ব্যস্ত হয়ে যান।

যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও হয়তো এই মনোভাবের জন্যই বিশ্ব ময়দানে কুলীন সদস্য হয়ে উঠছে না বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।