এশিয়া কাপ থেকে বিশ্বকাপ?

সদ্য সমাপ্ত এশিয়া কাপ ২০১৮ আসরের শিরোপা জিতেছে ভারত। তবে ফাইনালে বাংলাদেশের বিপক্ষে টিম ইন্ডিয়ার জয় পেতে ঘাম ঝড়াতে হয়েছে। শেষ বলের নাটকীয় জয়ে শিরোপা অক্ষুণ্ন রাখতে হয়েছে রোহিত শর্মার নেতৃত্বাধীন ভারতকে। ভারত শিরোপা জিতলেও নিজেদের পারফরমেন্স দিয়ে ক্রিকেট বিশ্বের মন জয় করেছে বাংলাদেশ দল।

টুর্নামেন্ট শুরুর আগে যেখানে সকলেই ভারত-পাকিস্তান ফাইনালে দেখছিলেন সেখানে গ্রুপ পর্বে শক্তিশালী শ্রলংকাকে হারানোর অঘোষিত সেমিফাইনালে শক্তিশালী পাকিস্তানকে হারিয়ে ভারতের বিপক্ষে ফাইনালে খেলে মাশরাফির দল। টুর্নামেন্টে আফগানিস্তান দলের পারফরমেন্সও ছিল উল্লেখ করার মত। সিমিত ওভারের ক্রিকেটে আফগানদের উন্নতিতে মুদ্ধ ক্রিকেট বিশ্ব। যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশটি গ্রুপ পর্বে শ্রীলংকাকে হারানোর পর সুপার ফোর পর্বে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে টাই করেছে।

এ টুর্নামেন্ট দিয়েই বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়ের নিজ নিজ জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তন ঘটেছে, ভাল পারফরমেন্স দেখিয়েছেন। তারা এখন ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় আসন্ন ২০১৯ বিশ্বকাপে খেলার পথে রয়েছেন। যদিও, এর আগের নিজেদের এই ফর্মের ধারাবাহীকতা ধরে রাখতে হবে তাঁদের।

·         লাসিথ মালিঙ্গা (শ্রীলঙ্কা)

ফিটনেস ও ইনিজুরি সমস্যার কারণে এশিয়া কাপের আগে দীর্ঘ দিন জাতীয় দলের বাইরে ছিলেন সিমিত ওভারে শ্রীলংকান অভিজ্ঞ এ ফাস্ট বোলার। কিন্তু এশিয়া কাপে বাংলাদেশের বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচেই দারুন ঝলক দেখান তিনি। যেন নিজের পূর্বের অবস্থা বা ছন্দ ফিরে পান তিনি। তিনি আরো অন্তত এক বছর খেলার মত যথেষ্ট ফিটনেসের প্রমাণ দেন মালিঙ্গা। যার অর্থ তিনি আগামী বিশ্বকাপে খেলার জন্য প্রস্তুত এবং তার ভক্তরা তাকে ইংল্যান্ডের মাটিতে খেলতে দেখতে চাইবে।

·         মোহাম্মদ মিঠুন (বাংলাদেশ)

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মিঠুনের অভিষেক হয় ২০১৪ সালে এবং এশিয়া কাপে যথেষ্ট ভাল পারফরমেন্স করেছেন। সম্ভবত দলে নিজের জায়গা নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। টুর্নামেন্টে মিডল অর্ডারে দু’টি হাফ সেঞ্চুরি করে যথেষ্ট সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছেন তিনি। আগামী কয়েক মাসে বাংলাদেশ দলের বেশ কিছু ম্যাচ রয়েছে। সুতরাং এশিয়া কাপের পারফরমেন্স ধরে রাখতে পারলে ২০১৯ বিশ্বকাপে তাকে দলের সেরা একাদশে জায়গা পেতে পারেন তিনি।

·         শাহিন শাহ আফ্রিদি (পাকিস্তান)

পাকিস্তানী খেলোয়াড়দের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিতদের মধ্যে একজন শাহিন আফ্রিদি। সম্প্রতি সশেষ হওয়া পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) উঠতি তারকা ছিলেন তিনি এবং একইভাবে এশিয়া কাপেও নিজের পারফরমেন্সের ধারা অব্যাহত রেখেছেন তিনি। তিন ম্যাচে চার উইকেট শিকার করা ১৮ বছর বয়সী আফ্রিদি একজন ভাল খেলোয়াড় হিসেবে বেড়ে উঠছেন এবং খুব সম্ভবত বিশ্বকাপে পাকিস্তান দলে জায়গা পেতে যাচ্ছেন তিনি।

·         আসিফ আলী (পাকিস্তান)

তিনিও পিএসএলের সুবাদে লাইম লাইটে আসেন। এর মাধ্যমে জাতীয় দলে ডাক পান। এশিয়া কাপে নিজের ব্যাটিং সক্ষমতার প্রমান দেন। আক্রমণাত্মক এ ব্যাটসম্যান একইভাবে আসন্ন বিশ্বকাপে দলের একজন ফিনিশার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন।

·         আম্বাতি রাইডু (ভারত)

গত কয়েক বছর ঘরোয়া ক্রিকেটে গড়ে ৫০ এর বেশি রান করেও ভারতীয় দলে জায়গা পাচ্ছিলেন না আম্বাতি রাইডু। তবে এ বছরের ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ান তিনি। টুর্নামেন্টে শীর্ষ রান সংগ্রহকারীদের একজন ছিলেন তিনি। এশিয়া কাপেও নিজের ভাল ফর্মটা অব্যাহত রাখতে সক্ষম হন এবং ব্যাটিংয়ের তিন নম্বরে তাঁকে বেশ স্বাচ্ছন্দ্য মনে হয়েছে। বিরাট কোহলি দলে এলে স্বাভাবিকভাবেই তিন নম্বরটা অধিনায়কের দখলে যাবে। তবে যে কোন পজিশনে ব্যাটিং করার সক্ষমতা আছে রাইডুর। সুতরাং আসন্ন বিশ্বকাপে খুব সহজেই সলিড চার ব্যাটসম্যান নিয়ে খেলতে দলের সমস্যার সমাধান হতে পারেন তিনি।

·         রবীন্দ্র জাদেজা (ভারত)

 

এশিয়া কাপের মধ্য দিয়ে প্রায় এক বছর পুনরায় ভারতীয় সিমিত ওভারের দলে ফিরেছেন এ তারকা অলরাউন্ডার। বাংলাদেশের বিপক্ষে কঠিন ম্যাচে তার ব্যাটিং নৈপুণ্যেই শেষ পর্যন্ত ভারতীয় দল জিততে সক্ষম হয়। বল হাতে জ্বলে ওঠা ছাড়াও বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে টেল এন্ডার হিসেবে দারুন দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন তিনি। ভারতীয় দলের ব্যাটিং লাইনআপের গভীরতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন তিনি এবং বিশ্বকাপে ভারতীয় দলের হয়ে আগামী বিশ্বকাপ খেলা অনেকটাই নিশ্চিত বলে মনে হয় জাদেজার।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।