আইটেম গার্ল থেকে ‘দ্য ফাইনাল মিসেস দত্ত’

স্টারডম, মাদকাসক্তি, নারীসঙ্গ কিংবা জেল-হাজত – সঞ্জয় দত্তর জীবনে বিতর্কের কোনো শেষ নেই। তবে, সকল বিতর্ক ঝেড়ে ফেলে তিনি থিতু হয়েছেন মান্যতাতে। মান্যতা হলেন সঞ্জয় দত্তর তৃতীয় স্ত্রী। এই বিয়ের পর সঞ্জয়ের জীবনে নতুন করে আর কোনো নারীর আনাগোনা হয়নি। মান্যতা তাই ঠিকই হয়তো বলেন, ‘আমিই ফাইনাল মিসেস দত্ত।’

সঞ্জয়ের জীবনে মান্যতার আগমনের গল্পটাও বেশ মুখরোচক। মান্যতা মুম্বাইয়ের এক মুসলিম পরিবারের মেয়ে। জন্ম ১৯৭৮ সালের ২২ জুলাই। আসল নাম দিলনাশিন শেখ। বড় হয়েছেন দুবাইয়ে। সিনেমায় আগ্রহ ছিল বলে তিনি ফিরে আসেন মুম্বাইয়ে।

বলিউডে তাঁর যাত্রাটা সহজ ছিল না। প্রথম দিকে তিনি পরিচিত ছিলেন ‘সারা খান’ নামে। অনেক কাঠখড় পোড়ানোর পর প্রকাশ ঝাঁ’র সিনেমা ‘গঙ্গাজল’-এ একটা আইটেম গানে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলেন।  প্রকাশ ঝাঁই তাঁর নাম রাখেন মান্যতা।

ভেবেছিলেন, এবার বুঝি বলিউডে থিতু হতে পারবেন, পারেননি। তখন, সময়টা ভাল যাচ্ছিল না, বাবার মৃত্যুর পর সংসারের দায়িত্বও তো নিতে হবে। এমন সময় তাঁর পরিচয় হয় সাঞ্জু বাবার সাথে। সঞ্জয়ের বন্ধু ও প্রযোজক নিতিন মনমোহনের সুবাদে দু’জনের পরিচয়।

সঞ্জয়ের সাথে তখন নাদিয়া দুররানির সম্পর্ক। এর মধ্যেও সঞ্জয়ের সাথে মান্যতার ভাল সখ্যতা তৈরি হয়। সঞ্জয়ের বাড়িতে যাওয়া আসা হত। মান্যতার রান্নার হাত খুব ভাল ছিল, সেই সুবাদে সঞ্জয়ের পছন্দের খাবার বানিয়ে তাঁর মন জয় করে ফেলেন।

মনের রাস্তা নাকি পেট হয়ে যায় – মান্যতা সেটা প্রমাণ করে ফেলেন। বাকিটা ইতিহাস। সঞ্জয় দত্ত মান্যতাকে বিয়ে করেন ২০০৮ সালে।  এই দম্পতির শাহরান ও ইকরা নামের জমজ সন্তানও আছে। তাঁদের জন্ম ২০১০ সালের ২১ অক্টোবর।

মান্যতা তাঁর বলিউডের ক্যারিয়ারে একটা সিনেমাও করেছিলেন নায়িকা হিসেবে। ‘লাভার্স লাইক আস’ নামের সেই সিনেমাটি একদমই চলেনি। পরে সঞ্জয় দত্ত ২০ লাখ রুপি খরচ করে সেই সিনেমার রাইটস কিনে নেন। এছাড়া প্রিয়দর্শনের ‘মেরে বাপ প্যাহলে আপ’ সিনেমাতেও কাজ করেন মান্যতা।

সঞ্জয়ের আগের দু’টি বৈবাহিক জীবন সহজ ছিল না। প্রথম স্ত্রী ছিলেন রিচা শর্মা। রিচা শর্মা ছিলেন দেব আনন্দর আবিস্কার। ১৯৮৫ সালের সিনেমা ‘হাম নওজয়ান’ -এ তাঁর অভিষেক। ছবির মহরতে হোটেল সি রকে দু’জনের প্রথম দেখা, তখনই প্রেম।

সঞ্জয় বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে ফেলেন, রিচাও ক্যারিয়ার ছেড়ে দেন। ১৯৮৭ সালে তাদের বিয়ে হয় নিউ ইয়র্কে। ১৯৮৮ সালে জন্ম হয় তাঁদের কন্যা ত্রিশালার। যদিও, এরপর ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হন রিচা, ১৯৯৬ সালের ডিসেম্বরে মারা যান।

দ্বিতীয় স্ত্রী রিয়া পিল্লাই। ১৯৯৮ সালে এই মডেলকে বিয়ে করেন সঞ্জয়। রিয়ার অভিযোগ ছিল বিবাহিত জীবনের বাইরে তিনি পরোকীয়ার সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। রিয়ারও সম্পর্ক ছিল টেনিস তারকা লিয়েন্ডার পেজের সাথে। ২০০৫ সালে তাঁদের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়।

মান্যতারও এটা প্রথম বিয়ে ছিল না। প্রথম জীবনে তিনি মিরাজুর রহমান নামের এক ব্যক্তিকে বিয়ে করেন। বলিউডে ক্যারিয়ার গড়ার আগেই তাঁদের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়।

সঞ্জয়ের সাথে বিয়ের পর বলিউডের স্বপ্ন জলাঞ্জলি দেন। এখন ব্যস্ত সংসার নিয়েই। সঞ্জয় তাঁর চেয়ে প্রায় ২০ বছরের বড়। তারপরও তাঁরা বেশ সুখেই আছেন।

মুক্তির পরই আকাশচুম্বি জনপ্রিয়তা পাওয়া ‘সাঞ্জু’ সিনেমায়ও মান্যতাকে দেখা গেছে। চরিত্রটি করেছেন দিয়া মির্জা। যারা সিনেমাটা দেখেছেন তারা নিশ্চয়ই সঞ্জয়-মান্যতা জুটির রসায়নটা আরো ভাল করে বুঝে ফেলেছেন।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।