বাংলাদেশ ক্রিকেট: শূণ্যতা, অভাব ও বাস্তবতা

বাংলাদেশ ক্রিকেটের ২০১৭-১৮ মৌসুমটা একটা সুখবর দিয়েই শেষ হয়েছে। প্রথমবারের মত টেস্ট র‌্যাংকিংয়ে অগ্রগতি হয়েছে বাংলাদেশের। প্রথমবারের মত সাকিব-মুশফিকরা এখন টেস্ট র‌্যাংকিংয়ের আটে। যদিও, গত আট মাসে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে ব্যাখ্যা করতে আরো কিছু বিষয়ের ওপর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে হয়।

  • নেতৃত্বে শূণ্যতা

মাশরাফি বিন মুর্তজা এবং সাকিব আল হাসানের মত নেতা থাকা সত্ত্বেও নভেম্বর পর্যন্ত দলে সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যাক্তি ছিলেন কোচ চান্দিকা হাতুরুসিংহে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি তাঁকে সমর্থন যুগিয়েছেন, এবং হাতুরুসিংহের প্রস্থানের পর ফুল টাইম কোচ নিযুক্ত করতে না পেরে তিনি নিজেই লিডারশিপ পজিশনে চড়ে বসেছেন। বরাবারের মত, তিনি তার যাবতীয় সমালোচনা-প্রশংসা প্রকাশ্যে মিডিয়ার সামনে করেছেন। এই পরিস্থিতি কোন দলের জন্যই কাম্য না।

  • ঘরোয়া বাস্তবতা

মুশফিক ও তামিম ছাড়া আর কেউ সব ফরম্যাট মিলিয়ে সাতশর বেশি রান করতে পারেনি। রিয়াদ আর সাকিব ম্যাচ জিতিয়েছেন কিন্তু সিনিয়র গ্রুপের বাইরে কেউ পারফর্ম করতে পারেনি। মমিনুল হক যেখানে ১০ ইনিংসে করেছেন ৪৬৬, সাব্বির সেখানে ২৫ ইনিংসে করেছেন ৪৪০ রান। লিটন আর সৌম্য সরকার ১৫ ইনিংসের বেশি খেলে ২০ এর নিচে গড়ে রান করেছেন। বিজয় আর মিথুন, যদিও এদের আর ইয়াং বলা যায় না, যেটুকু সুযোগ পেয়েছেন তা কাজে লাগাতে পারেননি একদমই। ইনজুরি সহ নানাবিধ কারণ আর অকারণে মোসাদ্দেক বেশির ভাগ সময় খেলার বাইরেই ছিলেন।

বিসিবির সেন্ট্রাল কন্ট্রাক্ট-এ পরিবর্তনের প্রভাব কি হবে দেখার বিষয়, তবে আগামি ১২ মাসে দলের একজন ব্যাটিং কোচের প্রয়োজন।

  • বোলিং সংকট

সাকিবের অনুপস্থিতিতে দলের নির্বাচকরা টেস্টের জন্য স্পিনারের খোঁজে যা করেছেন তাকে প্রহসন বলা চলে। অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ খেলা বাদ দিয়ে অফ স্পিনার নাঈম হাসানকে সিনিয়রদের দলে টেনে আনা হয়েছে, সাথে দলে নেয়া হয়েছে লেগ স্পিনার অলরাউন্ডার তানবির হায়দারকে। ২৪ ঘন্টার মধ্যেই আবার দলে নেয়া হয়েছে আব্দুর রাজ্জাককে। রাজ্জাকের অন্তর্ভুক্তির পজিটিভ-নেগেটিভ দুইই আছে। বয়স্ক ক্রিকেটার ও ডোমেস্টিকে পারফর্মারদের জন্য এটা আশাজাগানিয়া ঘটনা ছিল একদিকে, তেমনি নতুন স্পিন ট্যালেন্ট যে উঠে আসছেনা এটাও প্রমাণ হয়ে গেছে।

পেস বোলিংও এক ধরনের রিয়ালিটি চেকের মধ্যে দিয়ে গেছে। হোম পিচে শুধু স্পিন ফ্রেন্ডলি উইকেট বানিয়ে পেসারদের অথর্ব বানিয়ে ফেলা হয়েছে। জাতীয় দল এবং ঘরোয়া ক্রিকেট, দুই জায়গাতেই একই অবস্থা। তাসকিন গতি হারিয়েছেন, মুস্তাফিজের পারফর্ম্যান্স ক্রমাগত উঠানামা করেছে, ফলে মাশরাফির উপর অনেক বেশি প্রেশার পড়েছে। রুবেল অবশ্য মন্দ করেননি, ওই একটা ওভার বাদ দিলে।

দলে এখন তিন জন বোলিং কোচ; কোর্টনি ওয়ালশ (পেস), সুনীল যোশি (স্পিন), চম্পকা রমনায়েকে (একাডেমি)। ব্যর্থতার দায় যেমন তাদের ঘাড়ে পড়ে, তেমনি বোলারদের সদিচ্ছার অভাবও দেখা গেছে।

  • ক্রিকেটই জীবন

ক্রিকেট এখনো দেশের এক নম্বর খেলা, দেশের এক নম্বর বিনোদন। ভালো পারফর্ম্যান্সের পাশাপাশি এটা দেশের মানুষের জন্য অনুপ্রেরণার উৎসও। নারী ক্রিকেট দলের জয়জয়কার চলছেই। রুমানা আহমেদ আর খাদিজাতুল কোবরা অস্ট্রেলিয়ার ওম্যান’স বিগ ব্যাশ লীগে নিমন্ত্রিত হয়েছেন। সালাউদ্দিন শাকিল, যিনি চার বছর মধ্যপ্রাচ্যে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেছেন, তিনি তার স্বপ্ন পূরণের পথে আছেন, এই এপ্রিলে তার প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছে। এই ঘটনাগুলোই প্রমাণ করে ক্রিকেট কিভাবে দেশের মানুষের আত্মার অংশ হয়ে উঠেছে।

– ইএসপিএন ক্রিকইনফো অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।