মানুষটাকে দেখেও শেখা যায়

ম্যাচ শেষে মাশরাফি বিন ‍মুর্তজার হাসিটা চওড়াই হল। নয় বছর পর দেশের বাইরে সিরিজ জয় বলে কথা। তার ওপর বাজে টেস্ট সিরিজ। সব মিলিয়ে এই সিরিজ জয়টা তো বাংলাদেশ দলের জন্য একটা স্বস্তির বাতাসই।

তিনি তাই বলে গেলেন, ‘ক্রিকেট একটা মানসিক খেলা। গেল ওয়ানডেতে ৯৯ টা ওভার আমাদের পক্ষে ছিল, তাঁরপরও আমরা হেরেছি। ছেলেদের আজকের খেলাটা ছিল চূড়ান্ত পেশাদার। তামিম, সাকিব, মুশফিক, রিয়াদ দারুণ করেছে। এখন জুনিয়রদের এগিয়ে এসে দায়িত্ব নেওয়ার সময়। সামনেই টি-টোয়েন্টি সিরিজ, ওয়েস্ট ইন্ডিজের মত দলের বিপক্ষে এটা মোটেও সহজ নয়।’

বোঝা গেল, জয়ের আনন্দের দিনে মাশরাফির একটা আক্ষেপও আছে। সেটা হল তরুণদের প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফরম করতে বার বার ব্যর্থ হওয়া, বিশেষ করে ব্যাটিংয়ে। আবারও সাব্বির রহমান কিংবা এনামুল হক বিজয়ের মত ব্যাটসম্যানরা ব্যর্থ।

এই উইকেটে ব্যাটিংটা কেমন হতে পারে, বিশেষ করে স্লগ ওভারে সেটা তো স্বয়ং মাশরাফিই দেখিয়ে গেলেন। ৩৯ তম ওভারের পঞ্চম বলে যখন সেঞ্চুরিয়ান তামিম ইকবাল বিদায় নিলেন তখন নামলেন মাশরাফি।

তখন  দুই স্পিনার অ্যাশলি নার্স ও দেবেন্দ্র বিশুর ওভার শেষ প্রায়। প্রচলিত একটা ধারণা হল, অধিনায়ক স্পিনারদের বিপক্ষে যেখানে হাতখুলে শট খেলতে পারেন, সেটা পারেন না পেসারদের বিপক্ষে। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) ওপরের দিকে ব্যাট করতে নেমে তিনিই নিজেকে বলেছিলেন ‘ফ্লোটার।

যেহেতু তিনি পেস খেলতে পারেন না, তাই বিপক্ষ দল এই সময় পেসারদের বল করিয়ে নেবে। ফলে তাঁর হিটাররা পরে সুবিধে পাবেন। তবে, এবারে এই ব্যাখ্যা কাজে লাগে না। এদিন মাশরাফির নিন্দুকও বলতে পারবেন না যে তিনি পেস বলে খারাপ খেলেন।

আজকের পরিস্থিতিতে সে ব্যখ্যা খাটে না। কারণ, এবার কোনো স্পিনারকে মোকাবেলা করার সুযোগই পাননি মাশরাফি। ২৫ বলে ৩৬ রান করেছেন। ইনিংসে ছিল চারটি চার ও একটি ছক্কা। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের সাথে তাঁর ৫৩ রানের জুটি। সেখানে রিয়াদ করেছেন মাত্র ১৭ রান। মাশরাফি এক হোল্ডারকেই পরপর তিন বলে বাউন্ডারির বাইরে পাঠিয়েছেন।

স্কোরবোর্ডটা যে কোনোক্রমে ৩০০ ছাড়ালো তা তো ওই মাশরাফির বদান্যতাতেই। মাশরাফিও মানছেন ওই সময়ের সিদ্ধান্তটা ম্যাচে বড় প্রভাব ফেলেছে। তিনি বলেন, ‘আমার ওই সময়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তটা বড় কাজে দিয়েছে। তখন ব্যাটসম্যানদের সোজা শট খেলা কঠিন। চিন্তা করলাম ঝুঁকিটা আমিই নেই।’

অধিনায়কের এই ঝুঁকিটা পরিণত হয়েছে মাস্টারস্ট্রোকে। প্রথার বিরুদ্ধে গিয়ে দুঃসাহসিক সিদ্ধান্তের জন্যেই তিনি প্রশংসার দাবীদার। এরকম সিদ্ধান্ত নিতে বুকের সাহস লাগে, অন্তত ‘তথাকথিত’ স্লগাররা থাকার পরও তো বটেই। মাশরাফিও জানেন, ব্যর্থ হলে তাকেও সমালোচনা শুনতে হত!

পরে বোলিংয়েও বাংলাদেশের সেরা পারফরমারদের একজন তিনি। নিয়েছেন দুই উইকেট। তিন ম্যাচের সিরিজি সাত উইকেট নিয়ে তিনি বাংলাদেশের সেরা বোলার।  সময় এখন তাই মাশরাফিকে দেখে শেখার, না হয় একটা সময় এমন দিন আসবে যেদিন ‘ঠেকে’ শিখতে হবে!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।