মাশরাফি-তামিমের বদলে ‘ওদের’ কাকে খেলানো যায়, আসুন তর্ক করি!

বাংলাদেশের একাদশের বাইরে ভিভ রিচার্ডস, শচীন টেন্ডুলকার আর সনাৎ জয়াসুরিয়া বসে আছেন। কেন শুধু শুধু তামিমকে খেলানো হচ্ছে?

না হয় ২০১৫ থেকে ২০১৯ বিশ্বকাপের চার বছর সময়ে ৫২ ওয়ানডেতে ২৫১১ রান করেছেন! বাংলাদেশীদের মধ্যে যা সর্বোচ্চ; পুরো বিশ্বের মধ্যে ১৩ তম। এ সময়ে তামিমের থাকলই-বা ৭ সেঞ্চুরি ও ১৮ হাফ সেঞ্চুরি! এসবের সঙ্গে ৫৭.০৬ গড়ও তুচ্ছ। বিশ্বকাপের তিন ম্যাচে তেমন ভালো খেলতে পারেননি; তাই তামিমের মুণ্ডু চাই।

কেননা তামিম না খেললে রিচার্ডস-টেন্ডুলকার-জয়াসুরিয়ার সামনে খেলার সুযোগ আসবে। এই তিনের মধ্যে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কাকে চাই, সেটি নিয়ে বরং আলোচনা হতে পারে!

ওহ হো! অ্যালান ডোনাল্ড, জোয়েল গার্নার আর ব্রেট লিও তো বাংলাদেশের জার্সিতে খেলার জন্য সুযোগের অপেক্ষায়। মাশরাফিকে তাই কেন অহেতুক খেলানো হচ্ছে?

২০১৪ সালে এ দফায় অধিনায়কত্ব নেবার পর ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী হলেই-বা কী! এ সময়ে মাশরাফির ৯২, মুস্তাফিজের ৮৬, সাকিবের ৮১ শিকার।

যে ইনজুরি নিয়ে নিত্য বসতি, সে ইনজুরির কারণে এ সময়কালে একটি ওয়ানডতেও মিস করেননি মাশরাফি। ২০১৫ বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ খেলেননি ধীরগতির ওভাররেটের কারণে সাসপেনশনের আশঙ্কায়। আশঙ্কা সত্যি করে বিশ্বকাপের পর পর পাকিস্তানের বিপক্ষে এবং ২০১৭ সালে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আগের ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে দুই দফায় দুটি ম্যাচ খেলতে পারেননি। দুই হাঁটুতে সাত অপারেশনের ধকল নিয়েও বাকি বাংলাদেশের ৭৩ ওয়ানডেতে মাশরাফির প্রবল উপস্থিতি।

ধূর, তাতে কী! রেকর্ড-পরিসংখ্যানে আমাদের কিচ্ছুটি যায়-আসে না। কারণ বিশ্বকাপের প্রথম তিন ম্যাচে মাত্র এক উইকেট নিয়েছেন মাশরাফি। তাতেই সব তুচ্ছ। ‘অধিনায়ক কোটা’য় খেলেও এ সময়কালে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারীর রেকর্ড ধর্তব্যের মধ্যে পড়ে না।

২০০৩ বিশ্বকাপে মাহেলা জয়াবর্ধনে ৯ ম্যাচে ২১ রান, ইনজামাম-উল-হক ৬ ম্যাচে ১৯ রান করা সত্ত্বেও তাঁদের গ্রেটনেস কমে না। কিন্তু আমাদের মাশরাফি তিন খেলায় এক উইকেট নিলে পৃথিবী ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে চলে যায়। প্রলয়ের শিঙ্গায় যেন ফুঁ না পড়ে, মানবজাতির টিকে থাকার সে দোহাইয়ে আর কোনো ম্যাচের একাদশে তাই মাশরাফিতে দেখতে চাই না।

সবচেয়ে বড় কথা, সাইডলাইনে বসে ফুঁসছেন মার্শাল-ডোনাল্ড-ব্রেট লি! মাশরাফির বদলে ওদের কাকে খেলানো যায়, আসুন তা নিয়ে তর্ক করি।

ঈশপের গল্পের মতো মোরাল অব দ্য স্টোরি তাহলে কী? এ প্রশ্নের উত্তরও একটি প্রশ্নে – আমরা আসলে এমন কেন?

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।