ফিক্সার আশরাফুল বনাম ‘ধারাবাহিক’ আশরাফুল

মোহাম্মদ আশরাফুলের ভক্ত-সমর্থকরা খুব রহস্যময়। তারা যেকোনো মূল্যে আশরাফুললে দলে চান। সেটা তি পারফর্ম করুক কি নাই করুক। আর সেই ইস্যুতে তাঁদের যথাযথ মর্যাদার সাথে ট্রল করেন বিরোধীপক্ষরা। সেই ট্রল বা ধুয়ে দেওয়াতে কোনো ভুল নেই। এর প্রথম কারণ অবশ্যই বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) স্পট ফিক্সিংয়ের বড় একটা ভূমিকা আছে। এর সমপরিমান ভূমিকা আছে আশরাফুলের ব্যাটিং গড়ের।

অনেক প্রতিভা আর সম্মান নিয়ে ক্রিকেটে তার আগমণ ঘটলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার প্রতিফলন হয়েছে সামান্যই। হ্যা, তিনি বাংলাদেশকে বেশ কিছু বড় ম্যাচ জিতিয়েছেন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ওয়েস্ট ইন্ডিজ বধ, অনবদ্য এক ইনিংস খেলে দক্ষিণ আফ্রিকাকে বিশ্বকাপে হারানো, কিংবা ব্রিটিশ কন্ডিশনে সেঞ্চুরি করে অস্ট্রেলিয়ার দুর্গ ভাঙা নিয়ে অনেক মহাকাব্য লেখা হয়েছে বটে, তাতে আশরাফুলের গড় খুব একটা এগোয়নি। সব ফরম্যাটেই সেটা ২০-এর খানিকটা ওপরে। টপ অর্ডারের ব্যাটসম্যানের জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এটা খুবই বেমানান।

তবে, এবার আশরাফুল নিজে এসে এখানে কিছুটা হস্তক্ষেপ করলেন। চলতি ঘরোয়া মৌসুমে তিনি করে ফেলেছেন পাঁচটা সেঞ্চুরি। এর মধ্যে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে আছে একটা। বাকি চারটা লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে। এর মধ্যে দুটো আবার পরপর। পরিসংখ্যান বলছে, ধারাবাহিকতা বলে তার গোটা ক্যারিয়ারের যে সমস্যা, সেট এবারের প্রিমিয়ার লিগে খানিকটা দেখা গেলেও স্থায়ী হতে পারেনি। বরং ব্যাট হাতে এই মৌসুমে আশরাফুলই সেরা পারফর্মারদের একজন।

ব্যাপার হল, এই পারফরম্যান্সে আশরাফুল ভক্তরা মহাখুশি। তাদের আশরাফুলকে দলে ফেরানোর দাবীটা আরো জোরদার হচ্ছে। আওয়াজটা আরো তীব্র হচ্ছে। ফিক্সার হোক আর যাই হোক, আশরাফুলই তাদের আশার ফুল। যদিও আশরাফুল কয়েকদিন আগেই একটি জাতীয় দৈনিকে বলেছেন, এই কয়টা সেঞ্চুরি দিয়ে জাতীয় দল হয় না!

আশরাফুল বাস্তববাদী, তিনি তাই এতটা হাওয়ায় ভেসে কথা বলেন না। তিনিও বোঝেন যে ৩৩ বছর বয়সে এসে অতিমানবীয় কিছু করা ছাড়া যে আসলে জাতীয় দলে আসা যায় না। সাবেক এই অধিনায়ক মনে করেন, জাতীয় দল অনেক সময়ের ব্যাপার, আর সেখানে জায়গা ফিরে পেতে হলে করতে হবে অতিমানবীয় কোনো পারফরম্যান্স। আর এই বয়সে ফিটনেস, দলের সাথে আবার বন্ডিং গড়ে তোলা, তাদের আস্থাভাজন হওয়া, এই সময়ের ইন্টারন্যাশনাল এক্সপোজারের সাথে নিজেকে মানিয়ে নেওয়াসহ অনেক ব্যাপার আছে।

তার ওপর সামনেই ক্রিকেট বিশ্বকাপ। এই অবস্থায়, দলের সাথে অনেকদিন আছেন এমন ক্রিকেটারদের ওপরই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচক প্যানেলের ভরসা করার কথা। আশরাফুলকে এনে একটা জুয়া খেলার রাস্তায় অন্তত ওয়ানডে ক্রিকেটে তারা হাঁটবেন না। তার ওপর যতটুকু বোঝা যাচ্ছে, অনেক দিনের অনভ্যস্ততার কারণেই কি না আশরাফুলের ইনিংসগুলো একটু শেকি ছিল। বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটেই এটা হলে আন্তর্জাতিকে তাঁর আত্মবিশ্বাসী হওয়াটা আরো কঠিন।

তার ওপর ফিক্সিংয়ের গন্ধ তো তার গায়ে আছেই। সব মিলিয়ে ফিরে আসাটা খুব খুব খুব কঠিন তার জন্য। তবে এটাও সত্যি যে তাঁর ভক্তদের দাবীরও কখনো শেষ হবে না! এই ভালবাসার প্রতিদানটা আগের খেলোয়াড়ি জীবনে দিতে পারেননি আশরাফুল। এবার কি ঘরোয়া ক্রিকেটে অতিমানবীয় কিছু করতে পারবেন?

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।