দ্য স্টোনম্যান মার্ডারস: খুনের রহস্য, রক্তের ছড়াছড়ি নয়

ভারতের মুম্বাইয়ের রোমহর্ষক ঘটনা। ১৯৮৫ সালের দিকে হঠাৎ করেই এক সিরিয়াল কিলারের উদ্ভব হয়। প্রায় ২ বছরে ১২ টা খুন হয় সবগুলোই রাতে এবং ফুটপাথ এ থাকা অসহায়-গৃহহীন লোকগুলোর উপরই আক্রমণ হত। সবাইকে একইভাবে মাথায় পাথর দিয়ে আঘাত করে মারা হত।

খুনের কোন মোটিভ পাওয়া যাচ্ছিল না। মুম্বাইয়ের পর ১৯৮৯ কলকাতায়ও ৬ মাসে ১৩ টি খুন! সব একই পদ্ধতি তে। ধারনা করা হয় মুম্বাইয়ের সেই কিলারই ফিরেছেন কলকাতায়। নাম দেওয়া হয় ‘স্টোনম্যান’। আর হ্যাঁ এই কেসের রহস্য আজো সমাধান করা যায়নি।

‘দ্য স্টোনম্যান মার্ডারস’ সিনেমার প্লট মূলত ঐ স্টোনম্যানকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে। না না ঐ স্টোনম্যান এর বায়োগ্রাফি না।এখানে ৪০ ভাগ সত্য, আর ৬০ ভাগ  কল্পনা।

এক এক করে ৫ টা খুন। মাথায় পাথর দিয়ে আঘাত করে। কোন মোটিভ নেই। তবে ৬ নম্বর খুন হওয়ার পর পুলিশ ঘটনাগুলোর একটা কাঠামো দাঁড় করায়। দায়িত্ব দেওয়া হয় সাব ইন্সপেক্টর সঞ্জয়কে। কিছুটা বদমেজাজী এই সঞ্জয়। রাগের বশেই একটা ভুল করে ফেলে। যার কারণে সাসপেন্ড করা হয় তাঁকে। তবে এজিপি সত্যমের নির্দেশে গোপনে তদন্ত চালিয়ে যায়।

এদিকে গোপনে তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ উল্টো তাকেই খুনি ভাবে। একদিকে পারিবারিক ঝামেলা, আরেক দিকে চাকরি নিয়ে টানাটানি। এদিকে খুন হয়েই চলেছে; কিন্তু খুনিকে হাতেনাতে ধরতে গিয়েও শেষ মূহুর্তে হাতছাড়া হয়ে গেল। সত্যি ঘটনা আর কল্পনার সমন্বয়ে এগিয়ে যেতে থাকে রহস্যে ঘেরা গল্প। গল্পটাই এতটা রহস্যময় আর প্রাণবন্ত যে, ছবিটা একদম শেষ পর্যন্ত আপনাকে আটকে রাখবে পর্দায়।

ছবির পরিচালক মানিশ গুপ্তা। তিনি ‘হোস্টেল’, ‘রহস্য’র মত ছবি উপহার দিয়েছেন। যদিও, ২০০৯ সালের এই ছবি দিয়েই পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের জগতে প্রবেশ করেন তিনি। ২০০৬ সালের ‘ডারনা জারুরি হ্যায়’-তেও তিনি নির্মাতা হিসেবে ছিলেন। তবে, সেখানে আলাদা আলাদা তিনটা গল্পের ছিলেন তিন জন আলাদা পরিচালক। সেই হিসেবে ‘দ্য স্টোনম্যান মার্ডারস’ দিয়েই তাঁর অভিষেক।

ছবির বিষয়টা খুবই জটিল। মানুষ শুধু পাশ করে উৎরেই যাননি, রীতিমত পেয়েছেন লেটার মার্কস। পুরো সিনেমাকে যেভাবে ন্যারেট করেছেন তা সত্যিই প্রসংশনীয়। খুনের রহস্য হওয়ার পরও ছবিতে তিনি রক্তাক্ত করে উপস্থাপন করেননি, বরং এমন কিছু দেখিয়েছেন যাতে ছবিটা ভিজুয়ালি আরো বেশি অর্থবহ হয়। কে কে মেনন, বিক্রম গোখালে ও আরবাজ খান তাদের ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা কাজ করেছেন। সব মিলিয়ে দুর্দান্ত একটি সিনেমা।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।