‘ফেলুদা ফেরত’-এ ফেলুদার ফেরা

হুট করে যেনো নব্বই দশকে ফিরে গেলাম। কোনও এক শীতে প্রথম টেলিভিশনের পর্দায় ফেলুদাকে দেখেছিলাম। শৈশবের সব্যসাচী চক্রবর্তী যে মোহ তৈরী করেছিলেন তা কেউ ভাঙতে পারছিলেন না। সত্তর দশকের ফেলুদাকে সে সময়ে দেখা তো অসম্ভব ছিলো। তাই আমাদের প্রজন্মের ফেলুদা ছিলেন সব্যসাচী। এরপর আরও কয়েকজন ফেলুদা হলেন। ঠিক সেই চার্মটা পাচ্ছিলাম না।

বিষে ভরা দুই কুড়িতে এসে তা ফুরালো। টোটা রায় চৌধুরীর মাঝে ফিরে পেলাম সেই শৈশবের আমেজ। স্মার্ট প্রজন্মের ফেলুদাকে দেখে টের পেলাম শরীরের বয়স বাড়লেও মনের বয়স বাড়েনি খুব একটা। অথচ, নিজের তারুণ্য এই টোটা ফেলুদা চরিত্রে নিজেকে মেলে ধরার সুযোগও পেলেন না। এই আক্ষেপ সামনের দিনগুলোতে মিটে গেলেই হয়।

আরো পড়ুন

আড্ডাটাইমস বাংলাদেশে যখন আসি আসি করছে তখনই সাবস্ক্রাইব করে রেখেছিলাম। তার সুফল পেলাম এই ক্রিসমাসে এসে। দেখে নিলাম সৃজিত মুখার্জির ‘ছিন্নমস্তার অভিশাপ’। ছয় পর্বের এ ওয়েব সিরিজ কেমন লাগলো আমার?

‘জটায়ু’ চরিত্র বইয়ে যেমন পড়েছি তেমনই পেলাম অনিবার্ণ চক্রবর্তীর অভিনয়ে। তোপসেকেও সেই কিশোরের মতো লাগলো। ফেলুদা ছিলেন মাপা মাপা। যেন এদিক সেদিক হবার জো নেই। সংলাপ প্রক্ষেপণ, অভিব্যক্তি যেন বইয়ের পাতা থেকে উঠে এসেছে। মূল বই অনেক বছর আগে পড়েছি। তাই সবকিছু মনে নেই। তবে মনে হয়নি আমি ফেলুদা নয় অন্যকিছু দেখছি।

সবচেয়ে ভালো লেগেছে লোকেশন ও আবহ সংগীত। শীর্ষসংগীত শুরুতে ভালো না লাগলেও সিরিজের একেকটি পর্ব দেখতে গিয়ে বেশ লাগছিলো। একেকটি দৃশ্যের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরতে আবহ সংগীত ভূমিকা রেখেছিলো। লোকেশন বাছাইয়েও দারুণ মুন্সিয়ানার পরিচয় দিয়েছেন সৃজিত মুখার্জি। আর সংলাপ তো দারুণ ছিলোই। অপর চরিত্রগুলোও ছিলো মানানসই। মোদ্দাকথা, ‘ছিন্নমস্তার অভিশাপ’ অসাধারণ এক ভালোলাগার সৃষ্টি করেছে।

প্রত্যাশার পারদ চড়ছে। সৃজিত মুখার্জির ফেলুদাকে নিয়ে আরও সিরিজ হতেই পারে। কাউকে তুলনা করতে চাই না। সৌমিত্র চ্যাটার্জি, সব্যসাচী চক্রবর্তী ও টোটা রায় চৌধুরী যার যার জায়গা থেকে সেরাটাই দিয়েছেন। তাদের সময়ে তারাই সেরা। তুলনা না করে, মাস্টারমশাইয়ের মতো ভুল না খুঁজে ওটিটির ফেলুদার কীর্তি দেখাই বুদ্ধিমানের কাজ।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।