আহমেদ রুবেল ও ফেলুদা: মেড ইন বাংলাদেশ

আটপৌরে বাঙালি জীবনে ‘ফেলুদা’ নামটার মানেই হল বাড়তি রোমাঞ্চ, রহস্য আর জমজমাট সাসপেন্স। বাঙালি পাঠক কিংবা সিনেমাপ্রেমী – সবার রক্তেই প্রদোষ চন্দ্র মিত্র নামটি অন্যরকম এক তেজের যোগান দেয়।

দক্ষিণ কলকাতার রজনীসেন রোডের ২১ নাম্বার বাড়িতে থাকা ফেলু মিত্তির বইয়ের পাতায় যেমন রোমাঞ্চকর, তেমনি রুপালি জগত কিংবা ছোটপর্দাতেও সমান থ্রিলিং। দুই বাংলার মানুষ ফেলুদু উপভোগ করতে তাই কখনোই কোনো কার্পণ্য করে না।

তবে, এখন অবধি যতজন অভিনেতাই ফেলুদা করেছেন, তাঁদের কেউই বাংলাদেশি নন। তবে, এবার সেই অচলায়তন ভাঙতে চলেছে।  সেটা এমন একজন ভাঙছেন, যাকে দেখা মাত্রই রহস্য-রোমাঞ্চ সিনেমার কোনো গোয়েন্দা বা ‘অ্যাঙরি ইয়ং হিরো’ বলে মনে হয়। তিনি হলেন আহমেদ রুবেল।

অভিনয়ে অনেকটাই অনিয়মিত থাকার পরে এবার ফেলুদা হিসেবে নিজেকে পর্দায় উপস্থাপন করতে বেশ প্রস্তুতি নিচ্ছেন অভিনেতা আহমেদ রুবেল।  দেশের অত্যন্ত দক্ষ এই অভিনেতা নিজেও জানেন এই চরিত্রটা কতটা চ্যালেঞ্জিং হবে।

গল্পের বইয়ের পাতা থেকে ফেলুদাকে প্রথম সেলুলয়েডের পর্দায় নিয়ে এসেছিলেন এর স্রষ্ঠা সত্যজিৎ রায় নিজেই। সত্যজিৎ রায়ের পরিচালনায় ‘সোনার কেল্লা’  ফেলুদাকে প্রথম চিত্রায়ণ করেছিলেন সত্যজিৎ নিজেই। তার পরিচালনায় ‘সোনার কেল্লা’ এবং ফেলুদাকে প্রথম চিত্রায়ণ করেছিলেন সত্যজিৎ নিজেই।

তাঁর পরিচালনায়  ‘সোনার কেল্লা’ এবং ‘জয়বাবা ফেলুনাথ’ সিনেমা দুটিতে ফেলুদা চরিত্রে অসাধারণ অভিনয় করেছিলেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। বরাবরই তিনি ছিলেন সত্যজিতের পছন্দের নায়ক। বলা যায় বাংলা চলচ্চিত্রের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফেলুদা এখনো তিনিই।

খুব কম লোকই এটা জানেন যে ফেলুদার জন্য বিবেচিত হয়েছিলেন অমিতাভ বচ্চনও। খোদ সত্যজিৎ রায়ই বিগ ‘বি’-কে প্রস্তাব দিয়েছিলেন। সেটা আশির দশকের কথা। তবে, ব্যাটে বলে হয়নি। লম্বা সময় কাজ করতে অপারগ ছিলেন অমিতাভ।

পরবর্তীতে সত্যজিৎ রায়ের ছেলে জনপ্রিয় পরিচালক সন্দ্বীপ রায় টিভি ধারাবাহিক ও চলচ্চিত্র হিসেবে ফেলুদার অনেক গল্প নিয়ে কাজ করেছিলেন। সেগুলোও জনপ্রিয়তা এবং প্রশংসা কুড়িয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ফেলুদা হিসেবে দেখা গেছে কখনো সব্যসাচী চক্রবর্তীকে। একটা সময় সব্যসাচী মানেই ফেলুদা – এটাই রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

বলিউডের প্রখ্যাত অভিনেতা শশী কাপুরকে আবার কখনো কলকাতার এই সময়ের অন্যতম সেরা দক্ষ অভিনেতা আবির চট্টোপাধ্যায়কেও ফেলুদা চরিত্রে দেখা গেছে। তারা প্রত্যেকেই ফেলুদা হিসেবে হতাশ করেননি।

ফেলুদার তিনটি গল্প ওয়েব ধারাবাহিক হিসেবে দেখা গেছে সম্প্রতিই। ‘গোলকধাম রহস্য’, ‘ঘুরঘুটিয়ার ঘটনা’ ও  ‘শেয়াল দেবতা রহস্য’ গল্পগুলো নিয়ে ফেলুদার ভূমিকায় অসাধারণ কাজ করেছেন কলকাতার আরেক প্রতিভাবান অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। মজার ব্যাপার হল, এই পরমব্রত এক কালে তোপশে’র চরিত্র করতেন।

পরমব্রত’র হাত হয়ে সেই ব্যাটন এখন আহমেদ রুবেলের হাতে। জনপ্রিয় গোয়েন্দা চরিত্র ফেলুদার রোমহর্ষক নিয়ে ওয়েব ধারাবাহিক নির্মিত হচ্ছে বাংলাদেশে। এর আগে কয়েক দফা ভারত এবং ভারত-বাংলাদেশে যৌথভাবে নির্মিত হলেও ফেলুদার গল্পে এককভাবে বাংলাদেশের নির্মাণ এবারই প্রথম। এমনটাই জানালেন প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান আলফা আই মিডিয়া প্রডাকশনস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহরিয়ার শাকিল।

অভিনেতা ও পরিচালক তৌকীর আহমেদ আছেন নির্মাতা হিসেবে। জানা গেছে, ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে ফেলুদার শুটিং। ঢাকা এবং চট্টগ্রামের বিভিন্ন প্রান্তে এই ওয়েব ধারাবাহিকের শুটিং হবে বলে জানা গেছে। প্রযোজনা সংস্থা সুত্রে জানা গেছে শুধুমাত্র বাংলাদেশের অভিনয়শিল্পীরাই এই ওয়েব সিরিজে অভিনয় করবেন।

বাকি অভিনয়শিল্পীরা চূড়ান্ত হওয়ার পথে। ফেলুদার সার্বক্ষণিক সঙ্গী তোপশে আর জটায়ু চরিত্রেও থাকছে চমক বলে জানিয়েছেন নির্মাতা। ‘নয়ন রহস্য’ গল্পটি নিয়ে এই ওয়েব সিরিজ নির্মিত হতে যাচ্ছে। জানা গেছে ৮০ মিনিট দৈর্ঘ্যের সিরিজটি দেখা যাবে তিনটি পর্বে। দেখা যাবে বায়োস্কোপ অরিজিনালসে।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।