এই বিশ্বকাপ ফেবারিটের নয়

রাশিয়া বিশ্বকাপ এরই মধ্যে জমজমাট হয়ে উঠেছে। বড় দলগুলোকে পাশ কাটিয়ে ছোট দলেরাই বাজিমাৎ করে দিচ্ছে। জার্মানি, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স সব দলেরই মাঠে নামা শেষ, বাকি ছিলো পাঁচ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। তারাও নামলো, আর তাঁদেরও শুরুটা মনো:পুত হল না।

ফ্রান্স অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে কোনোমতে জিতেছিল। আর্জেন্টিনা তো আইসল্যান্ডের বিপক্ষে পেনাল্টি মিসের খেসারত দিয়ে ড্রই করে। আর জার্মানি পেরে ওঠেনি মেক্সিকানদের বিপক্ষে। ১-০ গোলে হার দিয়েই শেষ করতে হয় চ্যাম্পিয়নদের।

ব্রাজিলের পরিণতিও সুবিধাজনক হল না। অনেক আশা নিয়ে এসে র‌্যাংকিংয়ের ছয়ে থাকা সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ১-১ গোলের ড্র দিয়ে শুরু করলো র‌্যাংকিংয়ের দুইয়ে থাকা ব্রাজিল। বোঝাই যাচ্ছে এই বিশ্বকাপটা ফেবারিটদের নয়।

খেলার শুরু থেকেই বল দখলে রেখে সুইসদের ডিফেন্সে ফাটল ধরার চেষ্টা শুরু করে ব্রাজিল, আক্রমনের বন্যা বয়ে যায় শাকিরিদের গোলবারের সামনে। কখনো গোলকিপার, ত কখনোবা বার ঘেষে বল মাঠের বাইরে। এরই ভিতরে একবার বক্সের বাইরে শট নেয় কৌতিনহো, কিন্তু তার সেই শট জাল খুঁজে পায়নি।

কিন্তু একটু পরেই মার্সেলোর অ্যাসিস্টে আবারো বক্সের বাইরে থেকে কৌতিনহোর উড়ন্ত শটে বার কেপে বল জালে জড়ায়, এবারের বিশ্বকাপে ব্রাজিল প্রথম গোল পায় কোতিনহোর জাদুকরী ট্রেডমার্ক শটেই। এরপরে সুইসরা কয়েকবার চেষ্টা করেও ব্রাজিলের দুর্বার ডিফেন্সে ফাটল ধরাতে পারেনি, ফলে ১-০ তে এগিয়ে থেকেই প্রথমার্ধ শেষ করে টানেলে ফেরে তিতের শিষ্যরা।

এখানে একটু যোগ করা উচিৎ যে, সুইসরা ম্যাচের একদম গোড়া থেকেই টার্গেট করে নেইমারকে। সদ্য ইনজুরি কাটিয়ে ফেরা এই নাম্বার টেনকে ট্যাকেলের পর ট্যাকেল করে একদমই বিপর্যস্ত করে ফেলে সুইস রক্ষণভাগ। ম্যাচের শেষ অবধি চলে এই আক্রমণ। নেইমারের প্রচেষ্টা গুলোও তাই সফল হতে পারেনি। ব্যাপারটা নেইমারের দুর্ভাগ্য, সুইসদের কৃতীত্ব। কথায় আছে না, যুদ্ধ আর ভালবাসায় সবই নাকি ঠিক।

বিরতির পরেই কর্নার পেয়ে যায় সুইজারল্যান্ড, আর তাতেই বাজিমাৎ, ম্যাচে প্রথমবারের মতো সমতায় ফিরে সুইজারল্যান্ড, জুবিরের গোলে খেলায় আবারো ফিরে আসে প্রান। গোল খেয়েই যেন ব্রাজিলের টনক নড়ে, আবারো সুইসদের ডিফেন্সে হামলে পড়ে ব্রাজিলিয়ানরা। ম্যাচের ৬৯ মিনিটে নেইমারের এসিস্টে সুযোগ পেয়েও বল জালে জড়াতে পারে নি কৌতিনহো।

দু’দলেরই পাল্টাপাল্টি আক্রমণ ডিফেন্সের সামনে গিয়ে থমকে গিয়েছে, গোল করতে পারে নি কোন দলই। ৮৭ মিনিটে নেইমারের হেড থামিয়ে দেয় সুইজারল্যান্ড, ২ মিনিটে ফিরমিনোর জোড়ালো হেড আবারো সুইস গোলরক্ষক থামিয়ে দেয়, ম্যাচে ব্রাজিলের জয়ের আশাটাও থেমে যায় সেখানেই। আর নির্ধারিত সময় শেষে তাই কোন দলই জয়ের মুখ না দেখেই মাঠ ছাড়ে, এবারের বিশ্বকাপ মিশন টাও তাই ড্র দিয়েই শুরু করলো ব্রাজিল।

পুরো ম্যাচে ব্রাজিলের ডিফেন্সের প্রশংসা আলাদা করেই বলতে হয়, থিয়াগো সিলভারা নিজেদের সর্বোচ্চটুকুই ঢেলে দিয়েছে, ঐ দিকে ব্রাজিলের আক্রমনগুলো একা হাতেই পরাস্ত করেছে সুইজারল্যান্ডের গোলরক্ষক। সুইসদের প্রশংসা করতেই হয়। ব্রাজিলের মত প্রতিপক্ষের সামনে বারবার পিছিয়ে পড়েও তাঁদের খেলার প্রতি একাগ্রতা, কিংবা গোল শিকারের নেশায় এক বিন্দুও ছেদ পড়েনি।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।