‘ওজন’দার ক্রিকেটারনামা

ক্রীড়াবিদ মাত্রই ফিট হওয়া বাধ্যতামূলক। আর ফিট হওয়ার পূর্বশর্ত হল ওজনটাকে একটা নির্দিষ্ট মাত্রায় আটকে রাখা। অন্য অনেক খেলার মত ক্রিকেট মাঠেও এই কথাটা সত্য। তবে, এমন অনেক ক্রিকেটারই আছেন, যারা শতাব্দী প্রাচীন এই ধারণাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ক্রিকেট খেলে গেছেন লম্বা সময়। তাঁদের নিয়েই আমাদের এবারের আয়োজন।

  • রমেশ পাওয়ার

আধুনিক ক্রিকেটে ভারতীয় ক্রিকেটারদের ফিটনেস বরাবরই দারুণ। যদিও, এই তালিকায় ব্যতিক্রম রমেশ পাওয়ার। ভারতীয় এই স্পিনার কিছুদিন জাতীয় দলেও খেলেছেন বিশাল শরীর নিয়ে। সব সময় সানগ্লাস পরে বোলিং করতেন। ওজন আর এই সানগ্লাস বাদে তাঁকে মনে রাখার মত আর কোনো কারণ নেই। খেলোয়াড়ী জীবন শেষ করে এখন তিনি পুরোদস্তর কোচ বনে গেছেন।

  • ডেভিড বুন (অস্ট্রেলিয়া)

আশির দশকে অস্ট্রেলিয়া দলের ওপেনার ছিলেন ডেভিড বুন। ১৯৮৯ সালে অ্যাশেজের এক রাতে নাকি ৫২ ক্যান বিয়ার খেয়েছিলেন এই বুন। যদিও, তিনি শরীরের জন্য নয় পরিচিত অন্য একটা কারণে। তিনি ১৯৮৭ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালের নায়ক। ৭৫ রান করে সেই ম্যাচের সেরা ক্রিকেটার নির্বাচিত হন তিনি। সেবারই প্রথমবারের মত বিশ্বকাপ জিতে অস্ট্রেলিয়া।

  • অর্জুনা রানাতুঙ্গা

শ্রীলঙ্কার তো বটেই, ক্রিকেটের ইতিহাসেরই অন্যতম সেরা একজন অধিনায়ক তিনি। বাড়তি ওজন রানাতুঙ্গার ক্যারিয়ারে কখনোই বাঁধা হয়নি। বরং সাহসী ব্যাটিং ও নেতৃত্বগুন দিয়ে তিনি ১৯৯৬ সালে তিনি শ্রীলঙ্কাকে বিশ্বকাপের শিরোপা এনে দেন। খেলোয়াড়ী জীবন হিসেবে ক্রিকেট প্রশাসন সামলেছেন। এখন ব্যস্ত রাজনীতিতে।

  • ইনজামাম উল হক

ক্রিকেট ইতিহাসে মোটাদের মধ্যে তিনিই সেরা। সাবেক এই পাকিস্তানি অধিনায়ক ছিলেন অলস ব্যাটিং আভিজাত্যের অপর নাম। পাকিস্তানের হয়ে জিতেছেন ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপ। অকল্যান্ডের সেমিফাইনালে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছিলেন ৩৭ বলে ৬০ রানের অনবদ্য এক ইনিংস। ওয়ানডেতে এখনো তিনি পাকিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। টেস্টে রানের দিক থেকে তাঁর আগে আছেন কেবল ইউনুস খান ও জাভেদ মিয়াঁদাদ। খেলোয়াড়ি জীবন শেষে এখন এখন বোর্ডের চাকরি করেন ইনজি।

  • সামিট প্যাটেল (ইংল্যান্ড)

বাড়তি ওজন সব সময় ভাল নয়। ইংল্যান্ড দলে খেলা সামিত প্যাটেল মোটামুটি কার্যকর একজন স্পিনিং বোলিং অলরাউন্ডার ছিরেন। কিন্তু, ফিটনেসের ইস্যুতে জাতীয় দল থেকে বাদ পড়েন তিনি। ২০১১ বিশ্বকাপ দল থেকে বাদ পড়েন তিনি। যদিও, এখনো কাউন্টি খেলেন, খেলেন ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট।

  • আকরাম খান (বাংলাদেশ)

তাঁকে কে না চেনে! বাংলাদেশের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ী অধিনায়ক আকরাম খান ক্যারিয়ারের পুরোটা সময় জুড়েই বিশাল বপু নিয়েই খেলেছেন। শরীরের বাড়তি মেদ কখনোই আলোচনায় আসেনি ব্যাট হাতে পারফরম্যান্সের জন্য। দু’টি বিশ্বকাপ তিনি খেলেছেন বাংলাদেশের হয়ে। এখন তিনি দায়িত্ব পালন করছেন বোর্ড পরিচালক হিসেবে।

  • মার্ভ হিউজ (অস্ট্রেলিয়া)

দশাসই একটা গোঁফ আর লাগামহীন মুখ – অস্ট্রেলিয়ান এই পেসারকে ব্যাখ্যা করতে এটুকুই যথেষ্ট। তিনি ছিলেন স্লেজিং শিল্পী। ক্রিকেট মাঠে স্লেজিং তাঁর হাত ধরেই নতুন এক মাত্রা পায়। পাকিস্তানের জাভেদ মিয়াঁদাদ একবার তাঁকে বলেছিলেন,  ‘মার্ভ, ইউ আর আ বিগ, ফ্যাট বাস কন্ডাক্টর।’ কয়েক বল পরেই মিয়াঁদাদ আউট হয়ে গেলেন। আউট হয়ে যখন মাঠ ছাড়ছেন তখন মার্ভ সামনে এসে বললেন, ‘টিকিট প্লিজ।’

  • ডোয়াইন লেভেরক (বারমুডা)

তিনি ক্রিকেট মাঠের বিখ্যাত এক ‘মোটা’। বিশালদেহী এই ক্রিকেটারকে অবশ্য খুব অল্প সময়ের জন্য দেখেছে বিশ্ব ক্রিকেট। ২০০৭ বিশ্বকাপে নামিবিয়া দলের হয়ে এসেছিলেন তিনি। গ্রুপ পর্বে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে বিশাল ১২৭ কেজি ওজনের শরীর নিয়ে স্লিপে ঝাঁপ দিয়ে রবিন উথাপ্পার অবিস্মরণীয় এক ক্যাচ ধরে আলোচিত হন ডোয়াইন লেভেরক। বাস্তব জীবনে তিনি নাকি একজন জেলার – মানে জেলখানার দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মকর্তা।

  • রাহকিম কর্নওয়াল (ওয়েস্ট ইন্ডিজ)

সাড়ে ছয় ফিট উচ্চতা। ওজন ১৪০ কেজি। এই বিশাল দেহী ক্রিকেটার রাহকিম ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এক প্রস্তুতি ম্যাচে ৫৯ রান করে আলোচনার ঝড় তুলেছিলেন। অ্যান্টিগার এই তরুণের নাম হয়ে যায় ‘মাউন্টেন ম্যান’। যদিও, এখন অবধি ক্যারিবিয়ানদের জাতীয় দলে খেলা হয়নি তাঁর। যদিও, ক’দিন আগেই খেলেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ ‘এ’ দলের হয়ে ভারতের ‘এ’ দলের বিপক্ষে।

শিগগিরই তিনি ক্যারিবিয়ানদের হয়ে খেলে ফেললে অবাক হওয়ার কিছু থাকছে না। কারণ, ভারতের বিপক্ষে টেস্ট স্কোয়াডে ডাক পেয়েছেন তিনি। তাঁর মূল পরিচয় হল তিনি একজন অফ স্পিনার। এর সাথে ব্যাটিংও পারেন দারুণ। ২৬ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার ৫৫ টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে পেয়েছেন ২৬০ টি উইকেট।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।