রোজা রাখছো, নাকি … ?

রমজানের সময় মেয়েদের ইনবক্সে অনেক ছেলেই নাকি ম্যাসেজ দেয় ‘রোজা রাখছেন নাকি পিরিয়ড চলে? সব রোজা করবেন?’

এই ব্যপারগুলো নিয়ে হাসি-ঠাট্টা করতেছে এরকম অনেকগুলো অভিযোগ উঠে এসেছে।

আমার কেন জানি এই মেয়ে গুলাকে বিশ্বাস হয়না! দু-একজনের সাথে এটা হতে পারে হয়তো! তবে, একজনের স্ট্যাটাস দেখে যে আরো ১০ জন স্ট্যাটাস দেয়, এটাও নিশ্চিত হয়েই বলা যায়!

একটা মেয়েকে আমি যদি জিজ্ঞেস করি ‘রোজা রাখছো?’ এর মানে কি আমি তার পিরিয়ডের কথা জানতে চাইতেছি? অনেক সময় পিরিয়ডের এই ব্যপারটা মনে থাকেনা হয়তো। এটা নিয়ে এত হাইপার হওয়ার তো কিছু নাই।

ক’দিন আগে আমি এক মেয়েকে ‘কেমন আছো?’ প্রশ্ন করার পর সে জবাব দিলো, ‘ভালো না! পিরিয়ড চলে! প্রচন্ড ব্যথা!’

এই বিষয়টা শুনে আমি তো কোন আনন্দ পাই নাই। বরং বলেছি, একটু রেস্টে থাকো।

আপনি যেটাকে ট্যাবু বানিয়ে রাখবেন, সেটা ট্যাবু হয়েই থাকবে।

আমার ফ্রেন্ডলিস্টে অন্তত ১৫ জন একই স্ট্যাটাস দিছে যে, তাদের একের পর এক ‘রোজা রাখছো?’ টাইপ কথা শুনতে হচ্ছে। এরপর আরেকবার কেউ এই প্রশ্ন করলে, সে তার গাল ফাটায় দিবে!

আমি তার চিন্তার সাথে দ্বিমত পোষন করছি এবং তার মানসিকতার উন্নয়ন কামনা করছি।

আপনি হাইপার হয়ে যেহেতু স্ট্যাটাস দিতে পারেন, সুতরাং আপনি এটাও বলতে পারেন যে ‘না ভাই, পিরিয়ড চলে তো, তাই রোজা রাখতে পারিনি!’

আমাদের সমস্যাটা হলো, একজন যা করছে, অন্যজনও সেই একই কাজ করে বিভ্রান্তি ছড়ায়!

কিছুদিন আগে আমি একটা লেখা পড়েছি, বাসে ধর্ষন চেষ্টা নিয়ে। একটা বাসে শেষ পর্যন্ত একটা ছেলে আর একটা মেয়ে থাকে। বাস ড্রাইভার সবাইকে নেমে যেতে বলে, আর একটা নির্দিষ্ট মেয়েকে বলে, আপা আপনারে সামনে নামায় দিবোনে। তারপর একটা ছেলে এটা শুনে আর বাস থেকে নামে না। সেই ছেলেটা একসময় ওই মেয়েটাকে রক্ষা করে।

এই একই গল্প বিভিন্ন সময় আমি বিভিন্ন নাম এবং এবং জায়গা নিয়ে শুনেছি। এটা একবার দুবার হয়তো হয়েছে। তবে যতবার গল্পটা পড়েছি, ততোবার নিশ্চয়ই ঘটেনি।

আমরা শো অফ করতে প্রচন্ড ভালোবাসি। যতবার এই একই গল্প পড়ছি ততোবার যদি এরকমটা হয়ে থাকে, তাহলে আমি সত্যিই দুঃশ্চিন্তাগ্রস্থ হয়ে উঠি। এতগুলো গল্প যদি সত্যি হয়, তবে আমাদের পরিবার আসলেই নিরাপদ নয়।

আমরা সচেতনতা ছড়াতে যেয়ে কি বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছি কিনা, এটা দেখার বিষয়! আমি যদি আপনাকে বলি ‘রোজা রাখছেন?’ তাতে আপনি যদি পিরিয়ডের কথা ভেবে নেন, তাহলে সমস্যা আপনার নিজের।

মানসিকতা বড় করুন। আরেকজনের স্ট্যাটাস দেখে নিজে স্ট্যাটাস দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। ধন্যবাদ!

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।