মানুষ কেন প্যান্ট পরে?

কোনোটা একটু ঢিলেঢালা, কোনোটা চাপা। কোনোটা ফরমাল, কোনোটা আবার জিন্স-গ্যাবাডিন। প্যান্টের হাজারো রকম ফের, হাজারো ফ্যাশন। পুরুষদের একরকম, নারীদের আরেকরকম।

ব্রিটিশরা বলে ট্রাউজার, আমেরিকানরা বলে প্যান্ট। তবে, ব্রিটিশ বা আমেরিকান – কেউই কিন্তু এই প্যান্টের আবিস্কারক না। চলুন আজ না হয়, প্যান্টের জন্ম ইতিহাস খুঁজে বের করা যাক।

জার্মানিতে চতুর্থ শতকে ব্যবহৃত প্যান্ট

গল্পটা প্রাচীন রোমের। তখন চতুর্থ শতক। অভিজাত রোমানরা হঠাৎ করে খুব ক্ষেপে উঠলেন। তাদের এই ক্ষেপে ওঠার কারণ হলো দুই পা-কে আলাদা করে এমন বিশেষ এক পোশাক। আধুনিক কালে আমরা যাকে প্যান্ট বলে চিনি তারই প্রাচীন সংস্করণ ছিল সেই পোশাক। তবে, তখন এগুলো এখনকার চেয়ে অনেক বেশি ঢিলেঢালা ছিল।

গোথ আর হানরা তখন রোমান সেনাবাহিনীতে আনুষ্ঠানিক ভাবে অন্তুর্ভক্তির সুযোগ পেয়েছে। তবে, রোমের রাস্তায় প্যান্ট পরে তাঁদের পদচারণা ঠিক স্থানীয়দের পছন্দ হল না। তাই তো, ৩৯৯ সালের মধ্যে রোমে প্যান্টের বিরুদ্ধে দু’টি কড়া আইন জারি করে দেওয়া হল।

১৯২৮-২৯’এর দিকে প্রচারিত একটি প্যান্টের বিজ্ঞাপন

প্রশ্ন আসতে পারে, রোমানরা তাহলে ওই সময় কি পরিধান করে লজ্জা ঢাকতো? ওই সময় চল ছিল স্কার্টের। আর শুনতে অবাক শোনালেও এটাই সত্যি যে, নারীদের নয়, সেকালে স্কার্ট ছিল মূলত পুরুষদের পোশাক।

বোঝাই যাচ্ছে, জ্ঞান বিজ্ঞানে সেই আমলের রোমানরা যতই এগিয়ে থাকুক না কেন, পোশাক-আশাকের ক্ষেত্রে তাঁরা নবাগত হানিশ প্রতিবেশিদের পেছনেই ছিল। পশ্চিম হানিশ অঞ্চল থেকে রোম ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় কালক্রমে প্যান্টের ব্যবহার বিস্তৃত হয়। তবে, প্যান্টের আবিষ্কার হয়েছে আরো পূর্ব থেকে, মানে এশিয়া থেকে।

প্রাচীন নারীদের প্যান্ট

গেল ২০১৪ সালে এক দল প্রত্নতাত্ত্বিক ৩০০০ থেকে ৩৩০০ সাল বছরের পুরনো মধ্য বয়সী দু’জন মানুষের কবর আবিস্কার করেছেন পশ্চিম চীনে। সেখানে এই দু’জনের পরনেই প্যান্ট পাওয়া গেছে। এটাই পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচিন প্যান্টের নজীর।

যদিও ৫৩০০ বছর পুরনো মমি ওটজি’র পরনেও দুই পা-কে আলাদা করা যায়, ছাগলের চামড়া ও উল দিয়ে নির্মিত এমন পোশাক দেখা গেছে। তবে, এই প্যান্ট সদৃশ পোশাক কোনো ফ্যাশনের জন্য নয়, বরং বিশেষ একটা উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হত।

দ্বিতীয় শতকে রোমান যোদ্ধাদের প্যান্ট

খ্রিষ্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে গ্রীসে ঘোড়ায় চড়া যাযাবররা প্যান্ট বা ট্রাউজার ব্যবহার করতো। আর্মেনিয়া এবং পূর্ব ও মধ্য এশিয়াতেও ছড়িয়ে গিয়েছিল প্যান্টের ব্যবহার।

ট্রাউজার বা পাজামা শব্দটি এসেছে ‘বাজিপাজি’ নামক কোরিয়ান শব্দ থেকে। কিছু ঐতিহাসিক দাবী করেন, ১৫ শতকে কোরিয়াতে আধুনিক পাজামার দেখা মিলে। অনন্ত, এটুকু সত্যি যে, এই সময় থেকে নারী ও পুরুষ সবাই পাজামা ব্যবহার শুরু করে।

পল প্যারিওট

১৮০০ সালের পর প্যান্ট ব্যবহারকে নিজেদের অধিকার রক্ষার হাতিয়ার বলে মানতো পাশ্চাত্যের নারীরা। পেশাদার কাজের ইউনিফর্ম হিসেবে প্যান্টই ছিল আদর্শ। এটাকে তাই, ওই সময় নারীরা নিজেদের ক্ষমতায়নের প্রতীক বলে মানতো।

বিশ শতকের আগে নারী ও পুরুষের প্যান্ট আলাদা করার কোনো পন্থা ছিল না। ১৯০৯ সালে নারী ও পুরুষের প্যান্ট প্রথম আলাদা করেন ফরাসি ফ্যাশন ডিজাইনার পল প্যারিওট।

– কিউরোসিটি.কম অবলম্বনে

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।