ফারদিন খান: স্টারকিড, ড্রাগস, ফিটনেস ও অন্যান্য

স্টার কিড হিসেবে যতটা সুযোগ পাওয়া সম্ভব, তার শতভাগই পেয়েছিলেন ফারদিন খান!

সঞ্জয় খান ও আকবর খান তাঁর চাচা, বাবা খোদ ফিরোজ খান। চাচাতো ভাই-বোন হলেন জায়েদ খান ও সুজান খান। বাবা ফিরোজ খান ছিলেন একজন স্টাইলিশ অভিনেতা। অন স্ক্রিন ও অফ স্ক্রিনে তিনে ছিলেন একজন দুর্দান্ত ব্যক্তিত্ব।

ছেলে ফারদিনের বলিউডে অভিষেক হয় ৯০ দশকের শেষদিকে ‘প্রেম অঙ্গন’-এর মাধ্যমে। এই চলচ্চিত্রের জন্য ফিল্মফেয়ার পুরস্কার পান ‘সেরা নবাগত অভিনেতা’ ক্যাটাগরিতে। চকলেট বয় ঘরানার চেহারার জন্য তরুণীর মনও জয় করে নিয়েছিলেন সহজেই।

সেখান থেকে শুরু করা ফারদিনের ক্যারিয়ারটার যেখানে পৌঁছানোর কথা ছিল, সেটা আদৌ পৌঁছায়নি। এরপর ‘দেব’-এর মত চলচ্চিত্র উপহার দিলেও একের পর এক ফ্লপ তাঁর চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারের বারোটা বাজিয়ে দেয়। বাজে স্ক্রিপ্ট নির্বাচন আর ফিট থাকতে না পেরে বলিউড থেকে দূরে আছেন।

জাঙ্গাল, ওম জ্যায় জাগদিশ, নো এন্ট্রি, হেয় বেবি, অল দ্য বেস্ট সিনেমায় নিজের যে ইতিবাচক ইমেজ তৈরি করেছিলেন সেটা লাভ কে লিয়ে কুছ ভি কারেগা, অ্যাসিড ফ্যাক্টরি, লাইফ পার্টনার, দুলহা মিল গ্যায়া, প্যায়ারে মোহানের মত সিনেমা করে বিসর্জন দিয়েছেন নিজের ক্যারিয়ার।

১৯৯৮ সাল থেকে ২০০২ অবধি তিনি কেন্দ্রী চরিত্রে অভিনয় করেন। বলাই বাহুল্য, খুব বেশি সুনাম কুড়াতে পারেননি। এরপর ক্যারিয়ার টিকিয়ে রাখতে সেকেন্ড লিড রোলে মন দেন। এখানেই বরং তাঁর সাফল্য বেশি। ‘হেয় বেবি’, ‘নো এন্ট্রি’ কিংবা ‘অল দ্য বেস্ট’ ছবিগুলো ক্যারিয়ারের এই পর্বেই ছিলেন।

ফারদিনের জন্ম যেমন তারকাবহুল পরিবারে, তার শ্বশুরবাড়ির লোকজনও বলিউডের ঘণিষ্ট। স্ত্রী নাতাশা মাদভানির মা হলেন স্বয়ং ৬০-৭০ দশকের অন্যতম সেরা নায়িকা মুমতাজ। ফারদিনের সাথে নাতাশার প্রেমের গল্পটাও বেশ রঙিন।

ছবি দেখলেই বুঝবেন, মুটিয়ে শরীরের কি হাল বানিয়েছেন তিনি!

দু’জন ছোট বেলা থেকেই দু’জনকে চেনেন। ভাল বন্ধু ছিলেন, সেখান থেকে প্রেম। ট্র্যান্স-আটলান্টিক ফ্লাইটে লন্ডন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছিলেন তারা। তখন রীতিমত মোমবাতি জ্বালিয়ে বিয়ের জন্য নাতাশাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন ফারদিন। আর কি না বলা যায়! ২০০৫ সালে তাঁরা বিয়ে করেন, তাঁদের এক মেয়ে।

স্টার কিড হয়ে বলিউডে এসে কি কি করা উচিৎ না, তার বড় উদাহরণ হলেন ফারদিন। সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে পারিবারিক পরিচয়ে ঠাঁই পাওয়ার পরও কখনোই খুব বেশি সফল হতে পারেননি। কখনোই কোনো সিনেমার পারফরম্যান্সের সুবাদে খবরের শিরোনাম হননি।

তবে, শিরোনাম হয়েছিলেন নিজের কাছে অবৈধ ড্রাগ রাখার কারণে। মুম্বাইয়ের জুহু থেকে তাঁকে গ্রেফতারও করা হয়। সেখান থেকেই তারঁ চূড়ান্ত পতন শুরু হয়। সব কিছু ছেড়েছুড়ে পরিবার নিয়ে পাড়ি জমিয়েছিলেন নিউ ইয়র্কে।

এখন আর পর্দায় আসেন না তিনি। এর ওপর এক গাদা মেদ জমিয়ে শরীরেরও যাচ্ছেতাই অবস্থা ফারদিনের। ফারদিনের কখনোই কোনো এক্স ফ্যাক্টর ছিল না। অভিনয়টাও তেমন একটা জানতেন না। ২০১০ সালের ‘দুলহা মিল গ্যায়া’ই তাই তাঁর ক্যারিয়ারের সর্বশেষ ছবি হয়ে রয়েছে। আদৌ আর ফিরবেন কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।