পর্নস্টার থেকে সুপারস্টার: দিনবদলের গল্প!

পর্নোগ্রাফি সামাজিক জীবনে নিষিদ্ধ এক বস্তু। সবাই এর ব্যাপারে জানেন, কিন্তু সে নিয়ে কোনো কথা বলেন না। তাই, পর্নস্টার বা পর্নোগ্রাফির কুশীলবরাও মূলধারায় আসতে পারেন খুবই কম। যদিও, কেউ কেউ এই এই ধারাবাহিকতা ভেঙে জায়গা করে নিয়েছেন ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে – কালক্রমে হয়েছেন সুপারস্টার। নীল ছবির জগৎ থেকে আসা এমনই কয়েকজন চলচ্চিত্র তারকাকে নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজন।

  • সিলভেস্টার স্ট্যালোন

‘রকি’ ছবিটি মুক্তি পাওয়ার আগে সিলভেস্টার স্ট্যালোনকে অনেকদিন সংগ্রাম করতে হয়েছে। ৭০-এর দশকে তরুণ বয়সে তাকে ‘দ্য পার্টি অ্যাট কিটি অ্যান্ড স্টাডস’ নামের অ্যাডাল্ট ফিল্মে দেখা যায়। দু’দিনের কাজের পারিশ্রমিক হিসেবে সেবার তাঁকে দেওয়া হয়েছিল ২০০ ডলার। খুব কম লোকই তাঁর এই ছবির খবরটা জানতেন। তারকা বনে যাওয়ার পর ছবিটি পুনরায় মুক্তি পায়। নাম দেওয়া হয় ‘দ্য ইতালিয়ান স্ট্যালোন’।

  • ক্যামেরন ডায়াজ

মাত্র ১৯ বছর বয়সেই সফট পর্ন ভিডিওর দুনিয়ায় যাত্রা শুরু হয় ক্যামেরন ডায়াজের। যদিও, কখনোই তিনি নিজের প্রথম জীবন নিয়ে লজ্জাবোধ করেন না। এমনকি, ওই জীবনের কাজগুলোও কখনো মুছে ফেলার চেষ্টা করেননি। সেই জগৎ থেকে এসে কালক্রমে তিনি হলিউডের অন্যতম সেরা ও সফল একজন অভিনেত্রীর স্বীকৃতি পেয়েছেন। অভিনেত্রী হিসেবে ‘নাইট অ্যান্ড ডে’, ‘চার্লিস অ্যাঞ্জেলস’ ইত্যাদি ছবিতে তাঁর সাফল্য ঈর্ষনীয়।

  • জ্যাকি চ্যান

মার্শাল আর্টের বেতাজ বাদশাহ ও ভিন্নঘরানার অভিনেতা জ্যাকি চ্যান তাঁর লম্বা ক্যারিয়ারে ১৫০ টিরও বেশি ছবি করেন। এর মধ্যে একটাতেই কেবল কোনো অ্যাকশন দৃশ্য ছিল না। আসলে সেটা ছিল একটা পর্ন ছবি। ‘অল ইন দ্য ফ্যামিলি’ নামের হংকংয়ের এই ছবিটি মুক্তি পায় ১৯৭৫ সালে। ওই সময়ে জ্যাকি মূলত এক্সট্রা শিল্পী হিসেবে কাজ করতেন। কালক্রমে ব্রুস লি পরবর্তী জমানায় তিনি এশিয়ার সবচেয়ে বড় ফিল্ম স্টারের মর্যাদা ভোগ করেন।

  • আর্নল্ড শোয়ার্জনেগার

‘দ্য টার্মিনেটর’ খ্যাত এই অভিনেতারও প্রথম জীবনে সিনেমার জগতে জায়গা করতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। তিনি অবশ্য সরাসরি কোনো পর্ন ছবিতে কাজ করেননি। তবে, একটা ম্যাগাজিনের প্রয়োজন প্রয়োজনে তিনি পর্নোগ্রাফিক ফটোশ্যুটে অংশ নিয়েছিলেন।

  • অ্যঞ্জেলিক পেটিজন

আমেরিকার জনপ্রিয় একজন অভিনেত্রী ছিলেন অ্যাঞ্জেলিক পেটিজন। তিনি একগাদা কালজয়ী টেলিভিশন সিরিজ ও চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন। এর মধ্যে আছে দ্য লস্ট এম্পায়ার, রেপো ম্যান, বায়োহ্যাজার্ড ও দ্য উইজার্ড অব স্পিড অ্যান্ড টাইম-এর মত ছবি। ৮০’র দশকে তাঁকে বেশ কিছু পর্ন ছবিত্রে দেখা যায়। এর মধ্যে টিটিল্যাশন, স্ট্যালাগ ৬৯ ও বডি টক অন্যতম। ১৯৯২ সালে মাত্র ৪৮ বছর বয়সে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে অ্যাঞ্জেলিকের মৃত্যু হয়।

  • ম্যাট লি ব্ল্যাঙ্ক

‘ফ্রেন্ডস’-এর সুবাদে ‘জো’ চরিত্রটার কথা সবাই কম-বেশি জানে। সেখানে মূলত অভিনেতা হতে ইচ্ছুক এমন একটা চরিত্রে দেখা যায় ‘ম্যাট লি ব্ল্যাঙ্ক’কে। মজার ব্যাপার হল ‘ফ্রেন্ডস’ আসার আগে ম্যাটও তাই ছিলেন। তিনি জনপ্রিয় সফট পর্ন সিরিজ ‘দ্য রেড শু ডাইরিজ’-এ কাজ করেছেন।

–  স্টোরিপিক ও ওয়ান্ডারলিস্ট অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।