মাঝপথে হার্ভার্ড ছেড়ে আজ তাঁরা আকাশের তারা

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ওপরই নাকি একজন মানুষের জীবনে সাফল্য-ব্যর্থতা নির্ধারিত হয়। কথাটা অবশ্যই পুরোপুরি ভুল নয়। আবার পুরোপুরি সত্যিই নয়। বিশ্বব্যাপী এমন অনেক খ্যাতিমানের জন্ম হয়েছে, যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মাঝপথে ছেড়ে এসেছেন।

যেনতেন বিশ্ববিদ্যালয় নয়, রীতিমত বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর একটি হিসেবে পরিচিত হার্ভার্ডের মর্যাদার ডিগ্রি ছেড়ে তাঁরা কেউ উদ্যোক্তা হয়েছেন, কেউ হয়েছেন নামকরা অভিনেতা, কেউ বা বনে গিয়েছেন বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের একজন। তাঁদের পরিচিতি এখন এতটাই আকাশচুম্বি যে, খোদ হার্ভার্ডসহ খ্যাতনামা সব বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাঁদের ডেকে নিয়ে লেকচার দিতে বলে, কিংবা তাঁদের হাতে তুলে দেয় সম্মানসূচক ডিগ্রী। চলুন তাদের ব্যাপারে একটু জানি।

  • বিল গেটস

বিল গেটসকে নতুন করে চেনানোর কিই বা আছে। তিনি একজন হার্ভার্ড ড্রপআউট। তিনি মাইক্রোসফট কর্পোরেশনের প্রতিষ্ঠাতা  এবং মাইক্রোসফট অপারেটিং সিস্টেমের জনক গেটস এখন বিশ্বের শীর্ষ ধনী। বিভিন্ন সেবামূলক কাজে এখন পর্যন্ত ৩০ বিলিয়ন ডলারের বেশি অনুদান দিয়েছেন। ২০০৭ সালে হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ বিল গেটসকে সম্মানসূচক স্নাতক ডিগ্রী প্রধান করে। ১৯৭৫ সালে তিনি বছরদুয়েক হার্ভার্ডে কাটিয়েছেন।

  • মার্ক জুকারবার্গ

২০০২ সালে হার্ভার্ডে ভর্তি হন জুকারবার্গ। তবে, বন্ধুদের সাথে ফেসবুক বানানোতে সময় দেওয়ায় সেই যাত্রাটা তাঁর দু’বছরের বেশি স্থায়ী হয়নি। সেই জুকারবার্গ এখন বিশ্বের পঞ্চম শীর্ষ ধনী। স্ত্রীর সাথে তাঁর চ্যান জুকারবার্গ ফাউন্ডেশনে ফেসবুকের ৯৯ ভাগ শেয়ার দান করা হয়। এটা শিক্ষ ও স্বাস্থ্য বিষয়ক উন্নয়নে ব্যয় করে ফাউন্ডেশনটি। মজার ব্যাপার হল, ২০১৭ সালে হার্ভার্ড কর্তৃপক্ষ তাঁকে সম্মানসূচক স্নাতক ডিগ্রী প্রদান করে।

  • ম্যাট ডেমন

১৯৮৮ সাল থেকে ১৯৯২ অবধি এই মার্কিন অভিনেতা ও চিত্রনাট্যকার ছিলেন হার্ভার্ডে। আর কিছুদিন থাকলেই তাঁর স্নাতক হয়ে যেত। তবে, শেষ বর্ষে থাকাকালে তার প্রথম সিনেমা ‘জেরোনিমো: অ্যান আমেরিকান লিজেন্ড’-এ অভিনয় শুরু করেন এবং সে বছরই হার্ভার্ড ছেড়ে দেন। এরপর অভিনয় জগতে পুরোপুরি মনোনিবেশ করে খুব দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। তিনি অস্কারসহ প্রায় ২৭টি পুরষ্কার পেয়েছেন এবং সর্বকালের সেরা ২৫ জন অভিনেতার তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন। ‘গুড উইল হান্টিং’ সিনেমাটির জন্য তিনি ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছেন। ২০১৩ সালে  হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ তাকে ‘হার্ভার্ড আর্টস’ মেডেল পুরষ্কারে ভূষিত করে।

  • গেব নিউওয়েল

১৯৮০ সাল থেকে হার্ভার্ডে তিনি তিন বছর কাটান। খ্যাতনামা এই কম্পিউটার প্রোগ্রামার হার্ভার্ডে পড়ার সময়ই মাইক্রোসফট কোম্পানিতে যোগ দেন। সেখানে উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের প্রোডিউসার হিসেবে টানা ১৩ বছর কাজ করেন। গেব নিউওয়েল ভিডিও গেম তৈরির জন্য বিখ্যাত। এরপর মাইক্রোসফট ছেড়ে ‘ভালভ কর্পোরেশন’ প্রতিষ্ঠা করেন।

  • এডুইন হার্বাট ল্যান্ড

মার্কিন বিজ্ঞানী ডক্টর এডুইন হার্ভার্ড ল্যান্ড পোলারয়েড ক্যামেরা আবিষ্কারের জন্য বিখ্যাত। ১৯২৭ সালে তিনি হার্ভার্ডের রসায়ন বিভাগে অধ্যয়নরত অবস্থায় পোলারয়েড ক্যামেরা নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। গবেষণা কার্যে সুবিধার্থে তাকে হার্ভার্ড ত্যাগ করে নিউইয়র্কে চলে যেতে হয়। পরে তিনি পোলারয়েড কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৫৭ সালে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রী প্রদান করে। তিনি প্রেসিডেনশিয়াল মেডেল অব ফ্রিডমসহ আরো অনেক পুরস্কার পেয়েছেন।

  • জেমস ব্লেক

এই টেনিস তারকা হার্ভার্ডে ছিলে বছর  তিনেক। ১৯৯৯ থেকে ২০০১ অবধি। হার্ভার্ডে থাকাকালে এডি ক্লাবের সদস্যহযে তিনি টেনিসে মনোনিবেশ করেন। ফলে, একটা সময় হার্ভার্ড ছেড়ে দেন। ব্লেক ২০০৬ সালে টেনিস মাস্টার্স কাপের ফাইনাল খেলেন। খেলেন বেইজিং অলিম্পিকের সেমিফাইনালে। তাঁর ক্যারিয়ার সেরা র‌্যাংকিং চার।  ‘দ্য জেমস ব্লেক ফাউন্ডেশন’ নামে তাঁর একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠান আছে। এই প্রতিষ্ঠান ক্যান্সারসহ অন্যান্য বিষয়ের গবেষণা কজে সাহায্য করে। তাঁর  আত্মজীবী ‘ব্রেকিং ব্যাক: হাউ আই লস্ট এভ্রিথিং অ্যান্ড ওন ব্যাক মাই লাইফ’ নিউইয়র্কের বেস্ট সেলার হয়েছিল।

– সিএনএন ও বিজনেস ইনসাইডার অবলম্বনে

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।