বিস্ময়কর আবির্ভাব থেকে প্রতিভার অপচয়

মিশু সাব্বির নিয়ে আর কারো আফসোস হয় কি না জানি না, তবে আমার হয়। কি অমিত সম্ভাবনা নিয়েই না তিনি এসেছিলেন। এখনকার নতুন দর্শকের কাছে তিনি ব্যাচেলর পয়েন্টে বরিশালের ভাষায় অভিনয় করা একজন অভিনেতা, যিনি চরিত্রের তাগিদে যেকোন সময়ে গালি দিতে প্রস্তুত, আরো অনেক কাণ্ড কারখানা করে, সেগুলো না হয় বাদ দিলাম। কিছুদিন আগে দেখলাম টাক মাথা নিয়ে ‘স্টেডিয়াম’ নামক ফিকশনও করেছেন।

তবে এক যুগ আগে থেকে দেখা নাট্য দর্শক বা তার চেয়েও পুরনোদের কাছে তিনি ‘হাউজফুল’ ধারাবাহিকের ছোট ছেলে। হাউজফুল ধারাবাহিকের জনপ্রিয়তা সব দর্শকেরই তো জানা। অনেক অভিনয় তারকা থেকে খোদ নির্মাতারা এই ধারাবাহিক দিয়ে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। সেই স্টারডম দিয়ে টিকেও গেছেন ইন্ডাস্ট্রিতে।

হাউজফুলে মিশু বাবা- মায়ের একমাত্র ছেলে, বড় দুই বোনের ছোট ভাই। নাটকে তাঁর সেই নিষ্পাপ চেহারা এখনো দর্শকের চোখে ভাসে, এক সময় তাঁদের পরিবার থেকে সময়ের প্রয়োজনে সবাই চলে যায়। বাবা-মায়ের একমাত্র সঙ্গী সেই থাকে। আগে যেই ছেলে বন্ধু, প্রেম নিয়ে ব্যস্ত থাকতো, সে এখন মাকে সঙ্গ দেয়।

হাউজফুল চলাকালীনই ‘হ্যালো’-তে দেখিয়েছিলেন আরেক কাণ্ড। মোশাররফ করিমের মত অভিনেতার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অভিনয় করেছেন। এই নাটকে তাদের দু’জনের অভিনয়ের রসায়ন ছিল দেখার মত। সেই মিশু সাব্বির চৈতা পাগল, অলটাইম দৌড়ের উপর, লাইক অ্যান্ড শেয়ার সিরিজও করছেন। তখনকার অনেক জনপ্রিয় নাটকেই তিনি ছিলেন।

কিন্তু একটা সময় যা হয় আর কি, অনেকের মত তিনি সময়ের স্রোতে মিশে গেলেন। বাংলা নাটকে চিরসবুজ ব্যাচেলর থেকে গেলেন, বেশিরভাগ নাটকেই ঘুরে ফিরে একই ঘরানার চরিত্র করেন, কোনো বৈচিত্র নেই। তাও নাটকের মানের কথা উল্লেখ না করাই ভালো। নিজের অভিনয়ের ধরনটাই পুরো পালটে দিয়েছেন। মাঝখানে ডিভোর্স ফটোগ্রাফিটা করেছিলেন একটু ভিন্নধর্মী।

সে যাই হোক, মোদ্দা কথা হল মিশু সাব্বিরের সেই পুরনো আবেদনটা আর নেই। হাউজফুল, হ্যালোর সেই মিশু সাব্বির ফিরে আসবে কিনা আবার সেটা একমাত্র তিনিই জানেন, তবে একজন শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে চাইবো তিনি ফিরে আসুক। ফিরতে পারলে সেটা দর্শক হিসেবে আমাদের বড় প্রাপ্তি হবে, আর মিশুর ক্যারিয়ারটাও দারুণ একটা দিকে মোড় নেবে। এবার সেই পর্যন্ত অপেক্ষা করা যাক। না হয়, বড় একটা আক্ষেপ হয়েই থাকবেন তিনি।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।